kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

মায়ের সামনেই চাবুক মারতে মারতে শিশুটিকে মাদরাসায় নিয়ে যায় শিক্ষক!

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

৪ মার্চ, ২০২১ ০৫:১৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মায়ের সামনেই চাবুক মারতে মারতে শিশুটিকে মাদরাসায় নিয়ে যায় শিক্ষক!

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বাড়ি এসে মায়ের সামনে থেকেই ইয়াছিন আরাফাত (৮) নামে এক ছাত্রকে চাবুক (ডিস লাইনের তার) দিয়ে মারতে মারতে মাদরাসায় নিয়ে গেছে শিক্ষক। এতেও পাষণ্ড শিক্ষক ক্ষান্ত হয়নি। মাদরাসায় নিয়েও বেদম পেটানো হয়েছে শিশুটিকে। অপরাধ ছিল শিশুটি মাদরাসায় যেত না ঠিকমতো। পাষণ্ড শিক্ষক ওমর ফারুক ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে।

বুধবার (৩ মার্চ) রাতে ইয়াছিনের মা লাভলী বেগম থানায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে পুলিশ রায়পুর পৌরসভার নতুন বাজার এলাকার তাহজীবুল উন্মাহ ইসলামিক ইনস্টিটিউটে অভিযান চালায়। কিন্তু অভিযুক্ত শিক্ষক ফারুক পালিয়ে যাওয়ায় আটক করা সম্ভব হয়নি। তার মুঠোফোনও বন্ধ রয়েছে।

এদিকে ইয়াছিনের শরীরের চাবুকের আঘাতের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এতে রায়পুরের বাসিন্দা ও সচেতন মহলের মাঝে সমালোচনার ঝড় ওঠে। 

অন্যদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক ফারুকের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায় বলে জানা গেছে। তবে মাদরাসার কেউই তার পরিপূর্ণ পরিচয় দিতে পারেননি।

অভিযোগ সূত্র জানা যায়, ইয়াসিন রায়পুরের পূর্বলাচ নতুন বাজার এলাকার প্রবাসী কাজী আলী  হায়দারের ছেলে। সে তাহজীবুল উন্মাহ ইসলামিক ইনস্টিটিউটে (মাদরাসায়) দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। রহস্যজনক কারণে শিক্ষক ফারুক বাড়ি থেকে জোরপূর্বক ইয়াসিনকে মাদরাসায় নিতে আসে। কিন্তু সে যেতে চায়নি। এতেই হাতে থাকা চাবুক দিয়ে মা লাভলী বেগমের সামনেই মারতে মারতে ইয়াসিনকে টেনে-হিঁচড়ে ওই শিক্ষক মাদরাসায় নিয়ে যায়। এতেও ক্ষান্ত হননি তিনি। মাদরাসায় নিয়েও ইয়াসিনকে মারে শিক্ষক। শিশুটির পুরো শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মুমূর্ষু অবস্থায় মা তার ছেলেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এখন শিশুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ইয়াসিনের মা লাভলী বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমার সামনে থেকেই ইয়াসিনকে মারতে মারতে নিয়ে গেছে পাষণ্ড শিক্ষক। আমার তখন বুকটা ফেটে যাচ্ছিল। আমি ওই শিক্ষকের উপযুক্ত বিচার চাই।

মুঠোফোনে ইয়াসিনের বাবা প্রবাসী কাজী আলী হায়দার বলেন, পাষণ্ডের মতো ওই শিক্ষক আমার ছেলেকে মেরেছে। আমার ছেলের দোষ ছিল মাদরাসায় যেত না। ছেলেটির পুরো শরীরে প্রতিটি আঘাতের চিহ্ন ভেসে রয়েছে। ছেলের গায়ের আঘাতের চিহ্ন দেখে বুকটা ফেটে যাচ্ছে।

মাদরাসার অধ্যক্ষ আব্দুল বাতেন বলেন, শিশুটিকে দেখার পর আমি নিজেই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছি। প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটিসহ সকলের সঙ্গে কথা বলে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ওই শিক্ষক কোথায় আছে জানাতে পারেননি তিনি।

অভিযোগের তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা অসীম চন্দ্র ধর বলেন, অভিযোগ পেয়ে মাদরাসায় অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযুক্ত ফারুক ও অধ্যক্ষ আব্দুল বাতেন পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছি। বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) সকাল ১০টায় অভিযুক্ত শিক্ষককে থানায় হাজির করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা