kalerkantho

রবিবার। ২৮ চৈত্র ১৪২৭। ১১ এপ্রিল ২০২১। ২৭ শাবান ১৪৪২

নির্মাণকালেই ধসে পড়ল সেতু, দুটি তদন্ত কমিটি গঠন

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি   

৩ মার্চ, ২০২১ ০১:৪৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নির্মাণকালেই ধসে পড়ল সেতু, দুটি তদন্ত কমিটি গঠন

পাগলা-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের জগন্নাথপুর-সুনামগঞ্জ অংশে কুন্দানালা সেতু ভেঙে পড়ার ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একটি সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে আর অপরটি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটিতে অতিরিক্ত সচিব জাকির হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

অপরদিকে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ডিজাইন বিভাগের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শিশির কুমার রাওকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যরা হলেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সাহাদাত হোসেন ও নির্বাহী প্রকৌশলী কাওছার আহমদ।

মঙ্গলবার সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সেতু ও ডিজাইন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, শুনেছি সেতু ধসে পড়ার ঘটনায় মন্ত্রণালয় থেকে মঙ্গলবার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অপরদিকে সেতু ও ডিজাইন বিভাগের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত ধসে পড়া গার্ডার সরিয়ে কাজ শুরু করতে বলেছি।

এদিকে সেতু ধসে পড়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। নিম্নমানের কাজের কারণে সেতুটি ভেঙে পড়েছে বলে উপজেলাবাসীর অভিমত। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।

এলাকাবাসী জানান, রাজধানী ঢাকার সঙ্গে জগন্নাথপুর তথা সুনামগঞ্জের দূরত্ব কমাতে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের ডাবর পয়েন্ট থেকে পাগলা-জগন্নাথপুর-রানীগঞ্জ-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়ক হচ্ছে। এই সড়কের প্রশস্তকরণ দেড় বছর আগে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ডাবর পয়েন্ট থেকে জগন্নাথপুর পর্যন্ত ড্রেনেজসহ ২২ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ডাবর থেকে জগন্নাথপুর অংশে পুরনো সেতুগুলো ভেঙে সাতটি নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে ছয় মাস আগে থেকেই। সাতটি সেতু নির্মাণকাজে ১১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজ করছে ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড। 

গত রবিবার রাতে ওই সড়কের ছাতক অংশের কুন্দানালা খালের ওপর প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০ ফুট ১২ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ১০ ফুট ২৫ মিটার প্রস্তের সেতু নির্মাণাধীন সেতুটি ধসে পড়ে। অভিযোগ ওঠে, নিম্নমানের কাজের জন্য সেতুটি ভেঙে পড়েছে। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই অভিযোগ অস্বীকার বলে টেকনিক্যাল সমস্যায় গার্ডারগুলো পড়েছে।

এদিকে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজগুলো নিয়ে এখন শঙ্কায় পড়েছেন উপজেলাবাসী। এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জগন্নাথপুরের রানীগঞ্জের কুশিয়ারা নদী ওপর দীর্ঘতম একটি সেতু প্রায় দেড় শ কোটি টাকা ব্যয় নির্মাণকাজ করছে। এ ছাড়া সড়কের ওপর সাতটি সেতুর কাজ করছে ওই প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে একটি সেতুর উদ্বোধনের আগেই ভেঙে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানের কাজের মান নিয়ে এখনো সন্দেহের চোখে দেখছেন স্থানীয়রা। 

জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তাদীর আহমদ মুক্তা বলেন, নির্মাণকালে সেতু ধসে পড়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ নিয়ে এখন মানুষজনের মধ্যে ক্ষোভ আর সন্দেহে বিরাজ করছি। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত বিষয়টি নিষ্পত্তির প্রয়োজন। এবং কাজের মানের দিকে সংশ্লিষ্টদের নজর দেওয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা