kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩০ চৈত্র ১৪২৭। ১৩ এপ্রিল ২০২১। ২৯ শাবান ১৪৪২

১৫ বছর পর ঈশ্বরদীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে অভিযান

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি   

২ মার্চ, ২০২১ ২১:৫৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১৫ বছর পর ঈশ্বরদীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে অভিযান

চলমান করোনাভাইরাসের কারণে বিপর্যস্তের মধ্যে মশাবাহিত ডেঙ্গু ভাইরাসের বিপর্যয় প্রতিরোধে দীর্ঘ ১৫ বছর পর কার্যক্রম শুরু করেছে ঈশ্বরদী পৌরসভা। গতকাল সোমবার ভোরে পৌরসভার বর্জ্য পানি নিষ্কাশন ড্রেনগুলোতে মশাসহ লার্ভা ধ্বংস করতে ওষুধ ছিটিয়ে এ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ঈশ্বরদী পৌরসভার মেয়র ইছাহক আলী মালিথা।

পৌরসভার বাসিন্দা আতিয়ার রহমান, শহিদুল ইসলাম, আব্দুর রউফ, তৌহিদুর রহমান জানান, দীর্ঘ ১৫ বছর পর এই প্রথম সঠিক সময়ে মশা নিধনের উদ্যোগ নিয়ে কার্যক্রম শুরু করলেন নব্য দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র ইছাহক আলী মালিথা। এর আগের মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টুর দায়িত্বকালে মশা নিধনে জোরালো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। পুরো শহরের মহল্লা জুড়ে ছোট ছোট খানাখন্দ আর ময়লা আবর্জনার স্তুপ থাকতো। সেসব ময়লার স্তুপ ও খানাখন্দের পানি ছিল মশা উৎপাদন কারখানা। আর বর্জ্য পানি নিষ্কাশনের ড্রেনগুলো ঠিক মতো করা হতো না পরিষ্কার। সব সময় জমে থাকতো নোংরা আবর্জনা পানি। এই কারণে শীতের মধ্যেও মশার উপদ্রব থাকে বেশ। কিন্তু গরমের শুরুতেই মশার সেই উপদ্রব বেড়ে যায় বহুগুন। শুধু বসত বাসা বাড়ি নয় রাস্তা চলাচল কিংবা দোকানপাটেও বসার উপায় থাকে না।

পৌরবাসীরা অভিযোগ করে আরো বলেন, পূর্বের মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টুর নিকট পৌরবাসী মশা নিধনের দাবি ছিল চরম উপেক্ষিত। কখনোই মশা নিধনের জন্য চোখে পড়ার মতো কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ। তবে বর্তমান মেয়র ইছাহক আলী মালিথা দায়িত্ব গ্রহণের পরই পৌরবাসীকে মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা করতে শুরুতেই মশাসহ লাভা ধ্বংসের কার্যক্রম শুরু করেছেন। এবার হয়তো মশার উপদ্রব থেকে পৌরবাসী স্বস্তি পাবে। একই সঙ্গে করোনা পরিস্থিতির মধ্যে ডেঙ্গু ভাইরাসবাহী মশা থেকেও রক্ষা পাওয়া যাবে।

ঈশ্বরদী পৌরসভার স্যানিটারি পরিদর্শক আবু কাওছার সুজা জানান, করোনার কারণে এমনিতেই পরিস্থিতি বিপর্যস্ত। এরমধ্যে ডেঙ্গুর প্রাদুভাব ঘটলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হবে। তাই মশা নিধনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র ইছাহক আলী মালিথা জানান, শহরে এডিস ও কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণ ও জনসাধারণকে সচেতন করে তোলার জন্যই এই কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। করোনা বিপর্যয়ের মধ্যে নতুন করে ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিপর্যস্থ পর্যায়ে না আসে সেই জন্য প্রথম থেকেই এডিস ও কিউলেক্স মশাসহ লার্ভা নিধন শুরু করা হয়েছে। পৌরসভার প্রতিটি ড্রেন ও ছোট ছোট জলাশয়গুলোতে মশা ও লার্ভা নিধনকারী ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। পুরো গরমের মৌসুম ধরে এই কার্যক্রম চলবে বলেও জানান মেয়র ইছাহক আলী মালিথা।

এ সময় ঈশ্বরদী পৌরসভার কাউন্সিলর আবুল হাশেম, আমিনুর রহমান, আব্দুল লতিফ মিন্টু, ইউসুফ প্রধান ও মহিলা কাউন্সিলর রহিমা খাতুনসহ পৌরসভার বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা