kalerkantho

শনিবার । ২৭ চৈত্র ১৪২৭। ১০ এপ্রিল ২০২১। ২৬ শাবান ১৪৪২

বগুড়া পৌরসভা

বউ-শাশুড়ির যুদ্ধে হেরে গেলেন দুজনই

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

২ মার্চ, ২০২১ ১৭:২১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বউ-শাশুড়ির যুদ্ধে হেরে গেলেন দুজনই

বগুড়া পৌরসভা নির্বাচনে সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বী আলোচিত সেই বউ-শাশুড়ি দুজনই হেলে গেছেন। বিএনপি সমর্থিত শাহিনুর আকতার শানুর কাছে পরাজিত হন শাশুড়ি খোদেজা বেগম (জবা ফুল) ও ছেলের বউ রেবেকা সুলতানা লিমা (চশমা)।

বগুড়া জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, গত রবিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৪নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে শাহিনুর আকতার শানু (দ্বিতল বাস) চার হাজার ২৭৪ ভোট পেয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান কাউন্সিলর খোদেজা বেগম পেয়েছেন তিন হাজার ৪৫৬ ভোট। তার বউমা রেবেকা সুলতানা লিমা পেয়েছেন, দুই হাজার ২০০ ভোট।

এর আগে খোদেজা বেগম বিএনপি দলীয় সমর্থন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পরপর তিনবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। এবারের নির্বাচনে তার অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বউমা লিমা। ভোটের আগে খোদেজা মজা করে বলেছিলেন, জনগণ চশমা পরে কেন্দ্র গিয়ে জবা ফুলে ভোট দেবেন। এ ছাড়া তার ভোট কমবে না।

আর বউমা লিমা বলতেন, শাশুড়ির কাছ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি ভোট করবেন। তবে নির্বাচনে পরাজয়ের পর খোদেজা ও পরিবারের সদস্যরা বউমা লিমাকে দায়ী করছেন। লিমা প্রার্থী না হলে ওই দুই হাজার ২০০ ভোট শাশুড়ির ঝুলিতে পড়তো। আর তিনি চতুর্থবারের মত কাউন্সিলর হতেন। এ প্রসঙ্গে লিমা কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

এলাকাবাসী ও স্বজনরা জানান, বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া দক্ষিণপাড়ার মৃত আশরাফ আলীর স্ত্রী খোদেজা বেগম বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি বগুড়া পৌরসভার ৪নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে (১০, ১১ ও ১২ ওয়ার্ড) পরপর তিনবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। তাঁর বড় ছেলে আলমগীর হাসান। তিনি যুবদলের কর্মী ও বগুড়া জেলা ফল ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। মায়ের বিরুদ্ধে স্ত্রী রেবেকা সুলতানাকে তিনিই প্রার্থী করেন।

আলমগীর বলেন, বয়স হওয়ায় মাকে এবার প্রার্থী না হবার কথা বলেছিলেন। তিনি লিমাকে সমর্থন দিয়ে প্রার্থী করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ছোট ভাই জাহাঙ্গীর হোসেনের চাপে মা আবারো প্রার্থী হন।

এ প্রসঙ্গে খোদেজা বেগমের ছোট ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, তার মায়ের জনপ্রিয়তা অটুট ছিল। কিন্তু ভাবি লিমা প্রার্থী হওয়ায় ভোটা কাটাকাটি হয়ে মা (খোদেজা) পরাজিত হলেন।

এলাকার ভোটার মোশাররফ হোসেন, হোসনে আরা জানান, খোদেজা তাদের প্রিয় কাউন্সিলর ছিলেন। এবার বউমা প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ায় ভোট ভাগ হয়ে গেছে। ফলে দুজনকে পরাজিত হতে হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা