kalerkantho

মঙ্গলবার । ৭ বৈশাখ ১৪২৮। ২০ এপ্রিল ২০২১। ৭ রমজান ১৪৪২

অপহরণের দুই সপ্তাহ পরও খোঁজ মেলেনি তিন জেলের

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি   

২ মার্চ, ২০২১ ০১:৫২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অপহরণের দুই সপ্তাহ পরও খোঁজ মেলেনি তিন জেলের

টেকনাফ সাগর উপকূলে মাছ শিকার করতে গিয়ে স্থানীয় তিন জেলেকে অপহরণ করেছে জেলে ছদ্মবেশী রোহিঙ্গারা সন্ত্রাসীরা। অপহৃত তিন যুবক হলেন- সাবরাং লাফার ঘোনা দক্ষিণ নয়াপাড়া এলাকার আব্দুল গণির ছেলে মোহাম্মদ ইয়াছিন, মোহাম্মদ কাসিমের ছেলে দিলদার মিয়া ও কচুবনিয়া এলাকার মোহাম্মদ শফির ছেলে সলিম উল্লাহ। অপহরণের দুই সপ্তাহ পরও তিন জেলেকে ছেড়ে দেয়নি অপহরণকারীরা। তবে অপহরণের এক সপ্তাহ পর অপহৃত ব্যক্তিদের পরিবারে অজ্ঞাত মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে মুক্তিপণের জন্য বিশ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে। 

তিন জেলেকে অপহরণের দুই সপ্তাহ অতিবাহিত হয়েছে। এখনো তাদের সঠিক কোনো তথ্য না পাওয়াতে পরিবারের মাঝে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। প্রকৃত অপহরণকারী কারা এ ব্যাপারে অপহৃতের পরিবার এখনো নিশ্চিত নয়। কেউ বলছেন রোহিঙ্গা জলদস্যুরা ধরে নিয়ে গেছেন আবার কেউ বলছেন মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী নিয়ে গেছেন। এনিয়ে উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে অপহৃত জেলে পরিবারে।

অপহৃত জেলে মো. ইয়াছিনের বাবা আব্দুল গণি জানান, গত ১১ ফেব্রুয়ারি আমার একই গ্রামের বাসিন্দা মৃত. সুফি আহমদের ছেলে আতাউর রহমান আমার ছেলেসহ আরো দুজন প্রতিবেশীকে তার মালিকানাধীন মাছ ধরার ট্রলারে করে সাগরে মাছ শিকার করার কথা বলে সাবরাং উপকূলী ঘাটে নিয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবে মাছ শিকারে গেলে তারা তিন বা চার দিন সাগরে অবস্থান করে। কিন্তু এক সপ্তাহ পরও তারা ফিরে না আসায় আমাদের পক্ষ থেকে ট্রলার মালিক আতাউল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি আমার ছেলেসহ তিনজনকে সাগরে রোহিঙ্গা ডাকাতরা ধরে নিয়ে গেছে বলে জানান।

আব্দুল গণি আরো বলেন, আমরা জানতে পেরেছি আতাউর রহমানের ট্রলারে তিনজন স্থানীয় জেলে ছাড়াও আরো ছয়জন রোহিঙ্গা জেলে ছিল, সেটি তিনি নিজেও আমাদের স্বীকার করেছেন। তাই ট্রলারে থাকা ওই রোহিঙ্গা জেলে ছদ্মবেশীরা কৌশলে আমার ছেলেসহ স্থানীয় তিন জেলেকে ডাকাতের হাতে তুলে দিয়েছেন কিনা তাও বলা যাচ্ছে না। এছাড়া ট্রলার মালিক আতাউর রহমানের কোনো চক্রান্ত নেই তাও বলতে পারছি না। তার ট্রলারে মাছ ধরতে যাওয়ার সময় ছয়জন রোহিঙ্গা নাগরিক থাকার বিষয়টি আমাদের আতঙ্কিত করেছে বেশি।

অপহৃত ছলিম উল্লাহর পিতা মোহাম্মদ শফি বলেন, মাছ ধরার নাম দিয়ে আমাদের সন্তানদের রোহিঙ্গা ডাকাত অথবা অপহরণকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আমাদের ধারণা, এ ঘটনার সঙ্গে উল্লেখিত আতাউল্লাহ সরাসরি জড়িত থাকতে পারে। এখন অপহরণকারীরা বিশাল অংকের মুক্তিপণ দাবি করছে যা আমাদের পক্ষে পূরণ করা অসম্ভব। আমরা বিষয়টি সীমান্তে দায়িত্বরত বিভিন্ন বাহিনীকে অবহিত করার পাশাপাশি টেকনাফ মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তারা আমাদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছেন।

ট্রলার মালিক সাবরাং এলাকার বাসিন্দা আতাউর রহমান বলেন, এলাকার তিনজন জেলেসহ নয়জন জেলে নিয়ে আমার ট্রলারটি সাগরে মাছ শিকার করতে গিয়েছিল। এসময় মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে রোহিঙ্গা ডাকাতরা ছয়জনকে অপহরণ করে নিয়ে। অন্য তিনজন জেলে ট্রলারটি চালিয়ে শাহপরীর দ্বীপ ঘোলার চরে ভিড়ে। তবে আমার ট্রলারের নয় জেলের মধ্যে ছয়জন রোহিঙ্গা ছিল এটা সত্য। এ ব্যাপারে আমি স্থানীয় বিজিবিকে অবহিত করেছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা