kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৯ বৈশাখ ১৪২৮। ২২ এপ্রিল ২০২১। ৯ রমজান ১৪৪২

নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ, বিচ্ছেদের এক দিন আগেই মারা গেলেন

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

১ মার্চ, ২০২১ ২৩:২১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ, বিচ্ছেদের এক দিন আগেই মারা গেলেন

নিহত মেয়ের লাশের পাশে মায়ের আহাজারি

স্বামী ও শাশুড়ির নির্যাতনের কারণে শ্বশুরবাড়িতে টিকতে পারেননি গৃহবধূ শিউলী। তবে নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনার খবর শিউলী তার মাকে ফোনে জানাতেন। প্রাণ শঙ্কায় মামা শ্বশুরের বাড়িতে আশ্রয়ের পর সেখান থেকে সিদ্ধান্ত হয় আগামী মঙ্গলবার (২ মার্চ) উভয় পক্ষের সম্মতিতে তাদের বিচ্ছেদ হবে। কিন্তু এর এক দিন আগেই আজ সোমবার সকালে ধর্ম বাবার বাড়িতে এসে গুরুতর অসুস্থ হয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন ওই গৃহবধূ। এমনই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চন্ডীপাশা ইউনিয়নের খামারগাঁও গাতিপাড়া গ্রামে।

স্থানীয় সূত্র ও নিহত গৃহবধূর মা মোছা. সাফিয়া বলেন, তাঁর বাড়ি নরসিংদী জেলার মাধবী উপজেলার বগিরাতপুর গ্রামে। বছর পাঁচেক আগে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার গাড়াদিয়া গ্রামের মাইনুল ইসলামের ছেলে মো. তমজিদ ভূঁইয়া ওরফে তৌহিদের (৩২) সঙ্গে তাঁর মেয়েকে বিয়ে দেন। কিন্তু স্বামী ও শাশুড়ির নির্যাতনের কারণে তাঁর মেয়ে শ্বশুরবাড়িতে টিকতে পারেনি। এক পর্যায়ে সে ২০১৮ সালে কর্ণফুলী রপ্তানি প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্রে স্যুইং অপারেটরের সহকারী হিসাবে চাকরি নেন। তবে বেতনের টাকা স্বামী কেড়ে নেওয়ায় সেই চাকরি ছেড়ে দিয়ে শ্বশুরবাড়ি গেলে আবারও নির্যাতনের সম্মুখীন হন শিউলী।

সাফিয়া খাতুন আরো জানান, তিনি মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে কখনো যাননি। তবে নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনার খবর শিউলী তাঁকে ফোনে জানাত। এ অবস্থায় সিদ্ধান্ত নেন মেয়েকে আর স্বামীর ঘরে আর দেবেন না। এ নিয়ে মেয়ের শ্বশুরবাড়ির কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়। এর মধ্যে গত পাঁচ দিন আগে নিহত শিউলির মামা শ্বশুর মো. শাহজাহান তাঁকে (সাফিয়া) কাবিনের কাগজ ও জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে আগামীকাল মঙ্গলবার (২ মার্চ) গাড়াদিয়া গ্রামে যেতে বলেছিলেন। এ কথায় তিনি প্রস্তুতও ছিলেন। এর মধ্যে খবর আসে নান্দাইল উপজেলার খামারগাঁও গ্রামের জনৈক আব্দুল খালেককে তাঁর মেয়ে ধর্ম বাবা বানিয়েছে। সেখানেই অসুস্থ হয়ে আছে। 

এ খবর পেয়ে তিনি আজ সোমবার সকালে খালেকের বাড়িতে এসে জানতে পারেন তাঁর মেয়েকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে দেখেন মেয়ে মারা গেছে। এ অবস্থায় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, আমি তো আমার ধনরে নিতে আইছলাম। অহন কি অইলো।’

আবদুল খালেক জানান, গত প্রায় দুই মাস আগে শিউলী তাঁকে ধর্মের বাবা বলে মেনেছিল। এরপর সে মাঝে মধ্যে তাঁর বাড়িতে আসত। তবে মেয়েটি স্বামীর ঘরে সুখে ছিল না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিহত শিউলী আক্তারের মামা শ্বশুর মো. শাহাজান জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

রহস্যজনক মৃত্যুর খবর পেয়ে নান্দাইল মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ফজিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে গৃহবধূর মায়ের সঙ্গে কথা বলে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জের ২৫০ শয্যার আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠান। 

অন্যদিকে নিহতের মাকে বাদী করে একটি ইউডি মামলা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা