kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৯ বৈশাখ ১৪২৮। ২২ এপ্রিল ২০২১। ৯ রমজান ১৪৪২

শয়নকক্ষে প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতার রক্তাক্ত মরদেহ

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

১ মার্চ, ২০২১ ২০:০৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শয়নকক্ষে প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতার রক্তাক্ত মরদেহ

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় নিজ বসতঘরের শয়নকক্ষ থেকে প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার নাম আবদুল হক মিঞা (৮৫)। সোমবার সকালে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। 

আবদুল হক মিঞা সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও কেঁওচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। খবর পেয়ে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকারিয়া রহমান জিকু, সাতকানিয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল বশিরুল ইসলাম ও থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় নিহতের বাড়ির জমির উদ্দিন নামের এক কর্মচারীকে আটক করেছে পুলিশ। 

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, আবদুল হক মিঞা রবিবার রাতে খাবার খেয়ে অন্যান্য দিনের মতো নিজের শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। সোমবার সকাল ৯টার পরও তিনি ঘুম থেকে না ওঠায় বাড়ির গৃহপরিচারিকা তাকে ডাকতে গেলে শয়নকক্ষে বিছানার ওপর তার রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন। 

নিহত চেয়ারম্যানের বাড়ির গৃহপরিচারিকা বুলু আকতার বলেন, আমি সকাল এসে অন্যান্য দিনের মতো ঘরের পেছনের দরজা খোলা অবস্থায় পাই। শুরুতে ঘরের হাঁড়ি-পাতিল ধুয়ে আনার পর নাশতা তৈরি ও ভাত রান্না করি। অন্যান্য দিন আমি আসার আগেই চেয়ারম্যান সাহেব ঘুম থেকে উঠে যেতেন। সোমবার সকাল ৯টার পরও তিনি ঘুম থেকে জেগে না ওঠায় আমি তার শয়নকক্ষে যাই। বিদ্যুৎ না থাকায় ওই কক্ষে কিছু দেখা যাচ্ছিল না। ফলে টর্চলাইট নিয়ে ডাকতে গিয়ে দেখি চেয়ারম্যান সাহেব বিছানার ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। আর খাটের পাশে কাপড় দিয়ে চোখ-মুখ এবং পা বাঁধা অবস্থায় বাড়ির কর্মচারী জমিরকে দেখতে পাই। পরে বিষয়টি আমি সবাইকে জানাই। 

নিহতের কক্ষে চোখ-মুখ ও পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া বাড়ির কর্মচারী জমির উদ্দিন (পুলিশের হাতে আটক) বলেন, 'রবিবার রাতে ভাত খেয়ে চেয়ারম্যান নিজের কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। আমি পাশের কক্ষে ঘুমাই। গভীর রাতে মুখোশধারী চার থেকে পাঁচজনের একটি দল এসে আমাকে ধরে চেয়ারম্যান সাহেবের কক্ষে নিয়ে গিয়ে মারধর শুরু করে। তখন চেয়ারম্যান সাহেব আমাকে মারধর করতে নিষেধ করেন। এরপর তারা আমার চোখ-মুখ এবং পা বেঁধে ফেলে রেখে চেয়ারম্যানকে মারধর শুরু করে। চোখ বাঁধা থাকায় চেয়ারম্যানকে কি দিয়ে এবং কিভাবে হত্যা করেছে আমি বুঝতে পারিনি'।

দরজা-জানালা না ভেঙে বাইরের লোক কিভাবে ঘরে প্রবেশ করলো জানতে চাইলে জমির কোনো ধরনের সদুত্তর দিতে পারেনি।

নিহত আবদুল হক মিঞার ছেলে মো. মঈনউদ্দিন মনু বলেন, ঘরে আমার বাবা এবং কর্মচারী জমির ছিলেন। রবিবার রাতে আমার বাবা অন্যান্য দিনের মতো খবার সেরে নিজের কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে এলাকার লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারলাম কে বা কারা আমার বাবাকে হত্যা করেছে। আমি চাই প্রশাসন সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আমার বাবার হত্যাকারীকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনুক।

সাতকানিয়া থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন জানান, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছি। নিহতের বাম কানের ওপরে মাথায়, বাম চোখ এবং বাম হাতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এগুলো ছুরিকাঘাত হতে পারে। তবে ছুরিকাঘাতে মারা গেছে নাকি অন্য কোনোভাবে হত্যা করেছে তা ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার আগে বলা মুশকিল। 

তিনি আরো বলেন, নিহতের মুখে এবং বুকে বালিশ ছিল বলে জানিয়েছে বাড়ির গৃহপরিচারিকা। এ জন্য আমরা বালিশগুলো উদ্ধার করেছি। ঘরের দরজা-জানালা সব ঠিক আছে। ফলে বাইরের কোনো লোক এসে হত্যা করেছে বলে মনে হচ্ছে না। ঘরে যারা ছিল তারাই হত্যা করেছে। আপাতত আমরা ঘরের কর্মচারী জমিরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা