kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩০ চৈত্র ১৪২৭। ১৩ এপ্রিল ২০২১। ২৯ শাবান ১৪৪২

শঙ্কার ভোটে স্বস্তির জয় নৌকার

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

১ মার্চ, ২০২১ ০০:৫৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শঙ্কার ভোটে স্বস্তির জয় নৌকার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থী এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। ভোট কেন্দ্র দখল, প্রকাশ্য ভোট দেওয়ার শঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন তারা। তবে সব শঙ্কা উবে গিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। প্রেস্টিজ ইস্যুতে জয় পেয়ে স্বস্তি পেয়েছে নৌকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র নায়ার কবির পেয়েছেন ২৮ হাজার ৫৫৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. মাহমুদুল হক ভূঁইয়া পেয়েছেন ১৮ হাজার ৩৬১ ভোট। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. জহিরুল হক খোকন পেয়েছেন আট হাজার ৯৬ ভোট। শতকরা ৪৭ ভাগ ভোট পড়ে।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দিনভর কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল পুরো শহরজুড়ে। কেন্দ্র ও এর আশেপাশে ব্যাপকসংখ্যক আইন-শৃংখলা বাহিনী মোতায়েন থাকতে দেখা যায়। একক ভোট দেওয়া ও নানা অপতৎপরতার চেষ্টা করা হলে কখনো প্রশাসনের হস্তক্ষেপের কখনো প্রতিপক্ষের প্রতিরোধের মুখে সম্ভব হয়নি।

সরজমিনে ঘুরে পাইকপাড়ার হুমায়ুন কবির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় একসঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন মিষ্টি দেব ও তাঁর মেয়ে মিথি দেব। সুন্দরভাবে ভোট দেখে হচ্ছে দেখে তাদের খুব ভালো লাগছে বলে জানান। মো. কাসেম নামে এক বৃদ্ধ বলেন, ‘বুথে যাওয়ার সময় আমার ফোন রেখে দেয়। এত সুন্দর ভোট আগে কখনো দেখিনি। ভোট দিতে পেরে আমার খুবই ভালো লেগেছে।’ ওই কেন্দ্রে ভোট দিয়ে আসা নারী নেত্রী নন্দিতা গুহ ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিয়ে আসলাম।’

নাতির কোলে চড়ে ভাদুঘর (পূর্ব) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন ৮৪ বছর বয়সি আছিয়া বেগম। ভোট দিয়ে আসার পর কথা হলে আছিয়া বেগম বলেন, ‘আমি আগে আরো বহুত বোট দিছি। এইবার মেশিনে বোট দিয়া খুব বালা লাগছে। সুন্দর কইরা বোট অইতাছি শুইন্না আইছি।’

সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, একাধিক বুথে মেয়র প্রার্থীর ইভিএম মেশিন আলাদা করে সামনে রাখা। সহকারী প্রিসাইডিংরা এ বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। কেন্দ্র পরিদর্শন করে বের হয়ে যাওয়ার সময় জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন জানান, সুষ্ঠু পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান জানান, মেশিন আলাদা করে রাখা বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে অভিযোগ করা হলে তাঁরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন।

গত চার বছরের ব্যবধানে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, সদর উপজেলা ও বিজয়নগর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী জয়ী হওয়ার পৌর নির্বাচনটি আওয়ামী লীগের প্রেস্টিজ ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় মাহমুদুল হককে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা