kalerkantho

রবিবার। ৫ বৈশাখ ১৪২৮। ১৮ এপ্রিল ২০২১। ৫ রমজান ১৪৪২

গ্রেপ্তার ৭

হাসপাতাল থেকে নবজাতক চুরির পর 'বাচ্চা দিয়েছে পরী'

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৯:৫১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হাসপাতাল থেকে নবজাতক চুরির পর 'বাচ্চা দিয়েছে পরী'

সিরাজগঞ্জের সরকারি এবং বেসরকারি দুটি হাসপাতাল থেকে চুরি হওয়া দুই নবজাতককে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে এর মধ্যে জেনারেল হাসপাতাল থেকে চুরি হওয়া শিশুটিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। শিশু চুরির সঙ্গে জড়িত সাতজনকে আটক করা হয়। 

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি এবং ২৭ ফেব্রুয়ারি পৃথক স্থান থেকে দুটি নবজাতক শিশু চুরি হয়। অভিযান শেষে দুজনকেই উদ্ধার করে পুলিশ। জীবিত উদ্ধার করে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে মায়ের কোলে।

আটককৃতরা হলো সলঙ্গা থানার আলোকদিয়া গ্রামের মৃত সোলায়মান হোসেনের স্ত্রী সয়রন বিবি, তার মেয়ে আলপনা খাতুন, ছেলে রবিউল ইসলাম, রবিউলের স্ত্রী ময়না খাতুন, একই গ্রামের মৃত সাইফুল ইসলামের স্ত্রী মিনা খাতুন, রেজাউলের স্ত্রী খাদিজা খাতুন ও গ্রাম ডাক্তার শরিফুল ইসলাম। পরে তাদের দেওয়া তথ্যর ভিত্তিতে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে আটক করা হয়।

আলোকদিয়া গ্রামের আমেনা বেগম, শুক্কুর আলী, জয়নব বেগম বলেন, চোরচক্রের পরিবারের সবাই এলাকায় কুসংস্কার ছড়িয়েছে শিশুটিকে পরী এনে দিয়েছে। গ্রামবাসী মনে সন্দেহ হলেও কেউ তা কেউ প্রকাশ করেনি। কয়েকদিন পর গ্রামবাসীর সন্দেহ আরো গভীর হয়। এ সময় গ্রামের মসজিদের মাইকে শিশু চুরির ঘোষণা শুনে পুলিশকে খবর দেয় তারা।

পুলিশ সুপার জানান, ২৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব হাসপাতাল ২৩ দিন বয়সী এক বাচ্চা ও গতকাল শনিবার বিকেলে সলঙ্গা থানার সাকাওয়াত এইচ মেমোরিয়াল হাসপাতাল থেকে ৬ ঘণ্টা বয়সী আরেকটি শিশু চুরি হয়। দুটি বাচ্চাই উল্লাপাড়া উপজেলার সাদ্দাম হোসেনের স্ত্রী আলপনা খাতুন কৌশলে চুরি করেন। প্রথম বাচ্চাটি চুরির তিন দিন পর শনিবার অসুস্থতার জন্য মারা গেলে তারা পুনরায় আরেকটি বাচ্চা চুরি করে।

চুরির কারণ হিসেবে আলপনা পুলিশকে জানান, দীর্ঘ সাত বছর আগে বিয়ে হলেও তাদের কোনো সন্তান হয়নি। এ জন্য তিনি প্রথম বাচ্চাটি চুরির জন্য সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সহায়তা নিয়েছেন। তদন্তর স্বার্থে তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ।

পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম সংবাদ সম্মেলনে জানান, আলোকদিয়ার গ্রামের আল্পনা খাতুনের সন্তান না হওয়ার কারণে জেনারেল হাসপাতালের এক কর্মচারীর সহায়তা নিয়ে প্রথম এক শিশু চুরি করেন। সেই শিশুটি মারা যাওয়ায় আবারো শিশু চুরি করেন তারা। এ ঘটনায় জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা