kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

নারায়ণগঞ্জে ৪ বাল্কহেড শ্রমিক হত্যা : দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন ৯

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৬:৩৮ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নারায়ণগঞ্জে ৪ বাল্কহেড শ্রমিক হত্যা : দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন ৯

প্রতীকী ছবি

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বক্তাবলীতে চার বাল্কহেড শ্রমিক হত্যা মামলায় দুজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ রবিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালত এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-৭ আদালতের বিচারক মোসাম্মৎ সাবিনা ইয়াসমিন সাত আসামির উপস্থিতিতে এই আদেশ দেন। 

এ ছাড়া যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের প্রত্যেককে নগদ ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো এক বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- বাল্কহেডের দুই ফিডারম্যান (ইঞ্জিনমিস্ত্রি) তাজুল ইসলাম ও মহিউদ্দিন। মামলায় ১২ জন আসামির মধ্যে চারজন এখনো পলাতক রয়েছেন এবং একজন মারা গেছেন।

মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান জানান, ২০০৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর শাহপরাণ নামের বাল্কহেড সিলেট থেকে পাথর বোঝাই করে মুন্সীগঞ্জে একটি সিমেন্ট কারখানায় যায়। সেখানে পাথর খালাস করে ২১ সেপ্টেম্বর বাল্কহেডটি ফেরার পথে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বক্তাবলী এলাকায় ধলেশ্বরী নদীতে ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে থেমে যায়। পরে বাল্কহেডটি মেরামত করার জন্য এর চালক দুই ফিডারম্যান তাজুল ইসলাম ও মহিউদ্দিনকে ফোন করে ডেকে আনেন। মেরামত শেষে বাল্কহেডটি সচল হলে দুই ফিডারম্যান সেটি পরীক্ষা করার কথা বলে রাতে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ডাকাতদের যোগসাজশে বক্তাবলীর চরে নিয়ে থামিয়ে দেয়। ওইদিন রাতের কোনো এক সময় দুই ফিডারম্যান সহযোগিদের সঙ্গে নিয়ে চালক নাসির মিয়া, কর্মচারী মংগল, ফয়সাল ও হান্নানকে হাত-পা বেঁধে গলা কেটে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেয়। পরে মেঘনা নদী থেকে হাত-পা বাঁধা ও গলাকাটা অবস্থায় নাসির এবং মঙ্গলের লাশ উদ্ধার হলেও ফয়সাল ও হান্নান নামের অপর দুই শ্রমিক নিখোঁজ থাকেন। বাল্কহেডটি বক্তাবলীর চর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পুলিশ জব্দ করে।

এ ঘটনার পরদিন বাল্কহেডটির মালিক এরশাদ মিয়া ফতুল্লা থানায় বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে পুলিশ দুই ফিডারম্যান তাজুল ইসলাম ও মহিউদ্দিনসহ সাত আসামিকে গ্রেপ্তার করে। পরে আসামিরা হত্যাকাণ্ডের বিবরণ দিয়ে দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা