kalerkantho

রবিবার। ২৮ চৈত্র ১৪২৭। ১১ এপ্রিল ২০২১। ২৭ শাবান ১৪৪২

বানারীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ

বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি    

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৫:৫৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বানারীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার চাখার ইউনিয়নে আশ্রয়ণ প্রকল্পের গৃহনির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে অনিয়ম-দুর্নীতি ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রকল্পটির তত্ত্বাবধানে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপন কুমার সাহা।

জানা গেছে, মুজিব শতবর্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমি ও গৃহহীন পরিবারের মধ্যে জমিসহ ঘর বরাদ্দ দেওয়ার জন্য গত ২৩ জানুয়ারি দেশব্যাপী একযোগে ৭০ হাজার গৃহনির্মাণের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্যে বানারীপাড়ায় ২০০টি বরাদ্দকৃত ঘরও রয়েছে। 

উপজেলার চাখার ইউনিয়নের সাকরাল গ্রামের ২ একর জমির ওপর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৬৫টি গৃহের কাজও ওই দিন শুরু হয়। ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রতিটি গৃহ নির্মাণ করা হবে বলে জানা যায়। এর মধ্যে গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে ওই গ্রামের সুলতান মৃধার মাছের ঘেরসংলগ্ন সরকারি খাস জমির মধ্যে আশ্রয়ণ প্রকল্পের নির্মাণাধীন ৬৫টি গৃহের মধ্যে ১২ ঘরের ৩২টির পিলার ভেঙে ফেলে দুর্বত্তরা। 

এ ঘটনায় স্থানীয় সোনাহার গ্রামের মৃত কাসেম কাজীর ছেলে মো. সুমন কাজী (২৭) সহ অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জনকে আসামি করে চাখার ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা বাদশা মিয়া বানারীপাড়া থানায় ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে মামলা দায়ের করেন। পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নিশাত শারমিনের নেতৃত্বে পুলিশ আসামিদের বাড়িতে অভিযান চালায়। 

এদিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যে পিলারগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে তাতে আস্তর বালুর পরিবর্তে বিট বালু মিশানো হয়েছে। প্রতিটি ঘরের দরজা ও জানালার ওপরে লিংটনের পরিবর্তে কোথাও ২টি কোথাও ৩টি রডের ওপর ইট গাঁথা হয়েছে। তা ছাড়াও সিমেন্ট ও বালুর পরিমাণ কম হওয়ায় প্রকল্পের চলমান ৬৫টি ঘরের মধ্যে নির্মিতব্য ৪৪টি ঘরের প্রত্যেকটি পিলার নড়বড়ে অবস্থা ও খুঁটি দিয়ে ঠেস দিয়ে রাখা হয়েছে। জানালার অ্যাঙ্গেলগুলোও খুবই নিম্নমানের। এ ছাড়া বর্ষা মৌসুমে প্রকল্পের ওই স্থানে পানি জমে একাকার হয়ে যায়। ভিটি উঁচু না করায় আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসরতদের বর্ষা মৌসুমে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে। 

স্থানীয় আব্দুল মান্নান হাওলাদার জানান, কয়েকদিন আগে আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাকা গৃহের কাজ করার সময় দেয়াধসে নির্মাণ শ্রমিকদের মাথার ওপরে পড়ে। ঘটনা জানাজানি হওয়ায় ওই শ্রমিককে কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ ছাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পসংলগ্ন তার সম্পত্তি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ভেতরে নিয়ে তাকে প্রথমে ৫টি ঘর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এখন একটি ঘর দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। একজনের ভূমি দখল করে তাকে ভূমিহীন করে অন্যকে ভূমিসহ ঘর দেওয়া কতটা মানবিক এ প্রশ্ন তোলেন অশীতিপর এ বৃদ্ধ। 

জানা গেছে, প্রকল্পটির তত্ত্বাবধানে রয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপন কুমার সাহা ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী মহসিন-উল হাসান। এদিকে এর আগে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গৃহহীনদের জন্য নির্মিত ঘরগুলোও নিম্নমানের হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা পরস্পরের যোগশাজসে নিম্নমানের ঘর নির্মাণ করে দিয়ে তাদের পকেট ভারী করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপন কুমার সাহা জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজস্ব প্রকল্প। অনিয়ম-দুর্নীতি ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ সঠিক নয়, বরং ভিত্তিহীন। ঘটনাস্থল তিনি পরির্দশন করেছেন এবং যারা এই পিলার ভেঙেছে তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা