kalerkantho

মঙ্গলবার । ৭ বৈশাখ ১৪২৮। ২০ এপ্রিল ২০২১। ৭ রমজান ১৪৪২

জামালপুরে বিএনপি প্রার্থীর ভোট বর্জন

জামালপুর প্রতিনিধি    

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৫:৪৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জামালপুরে বিএনপি প্রার্থীর ভোট বর্জন

সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন। ছবি: কালের কণ্ঠ

আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের মেয়র পদপ্রার্থী ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ও নিরাপত্তাহীনতার কারণ দেখিয়ে জামালপুর পৌরসভার নির্বাচন বর্জন ও প্রত্যাহার করেছেন বিএনপি দলীয় ধানের শীষ প্রতীকের মেয়র পদপ্রার্থী শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন। আজ রবিবার এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শহরের সরদারপাড়ায় তার প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন এ ঘোষণা দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন অভিযোগ করে বলেন, আজ রবিবার সকালে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার সময় জামালপুর পৌরসভার ৪২টি কেন্দ্রের অধিকাংশ কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকের পুলিং এজেন্টরা হাজির হলেও তাদেরকে কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। যারা কেন্দ্রের বুথকক্ষে দায়িত্বপালন শুরু করেন তাদেরকেও হুমকি দিয়ে বের করে দিয়েছেন নৌকা প্রতীকের পুলিং এজেন্টরা। নির্বাহী হাকিমদের কাছে ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ করায় উল্টো বেশ কয়েকজন এজেন্টকে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা করে জরিমানা করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। কয়েকটি কেন্দ্রের বুথকক্ষে ইভিএমে ভোটারদের আঙুলের ছাপ নেওয়ার পর নৌকা প্রতীকের পুলিং এজেন্ট ও নির্বাচনের দায়িত্বপালনকারী কর্মকর্তারাই ব্যালট বক্সে নৌকা প্রতীকের বোতাম টিপে ভোট দেওয়ার প্রতিবাদ করলে ধানের শীষ প্রতীকের কয়েজন এজেন্টকে মারধর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, ভোটের আগের রাতে ধানের শীষ প্রতীকের পুলিং এজেন্টসহ দলীয় ৬৩ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করে পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে তাদেরকে বাড়িছাড়া করা হয়েছে। নৌকার প্রার্থী বহিরাগত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এনে আগের রাতে পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডে মহড়া দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখিয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধিকে তোয়াক্কা না করে বহিরাগত ওই দলটিকে নিয়ে আজও ভোটের দিন অন্তত ১৫টি মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল নিয়ে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে মহড়া দিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন। রিটার্নিং অফিসারের কাছে এসব অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত নির্বাহী হাকিম, পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির সদস্যরাও প্রশাসনিক কোনো পদক্ষেপ নেননি। দেশের মানুষের ভোটের অধিকার ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিতেই আমরা এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম। কিন্তু উৎসবমুখর পরিবেশের পরিবর্তে কলঙ্কময় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় আমি এই নির্বাচন বর্জন ও প্রত্যাহার করছি।        

বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থীর নির্বাচন বর্জন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, আমি এবং আমার কর্মী-সমর্থক এমনকি আমার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের মতো কোন ঘটনা ঘটাননি। উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটারদের ভোট দিতে দেখেছি। আমার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন মনোনয়নপত্র দাখিলের পর থেকেই তো নির্বাচনী মাঠে ছিলেন না। নির্বাচনী প্রচারকেন্দ্র খোলেননি। শহরে পোস্টার লাগাননি। জেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে তিনি নিজ দলের মধ্যেই কোণঠাসা হয়ে আছেন। এই পৌরসভার ভোটার জনতা তাকে প্রত্যাখ্যান করায় ভোটের আগেই পরাজয় নিশ্চিত টের পেয়েই হয়তো নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। সচেতন ভোটাররা আমার এবং আমার দলের বিরুদ্ধে এসব মিথ্যাচারের জবাব নৌকা প্রতীকে ভোটের মাধ্যমেই দেবে।  

বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থীর নির্বাচন বর্জন প্রসঙ্গে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন অফিসার মো. গোলাম মোস্তফা কালের কণ্ঠকে বলেন, বিএনপির প্রার্থী শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন আজকে ভোটের পরিস্থিতি নিয়ে আমার কাছে লিখিত কোনো অভিযোগ করেননি। উনি একবার ফোন করে একটি কেন্দ্রে তার পুলিং এজেন্ট বের করে দেওয়ার অভিযোগ করেন। সঙ্গে সঙ্গে আমি সেখানে খোঁজ নিয়ে জেনেছি তার অভিযোগ সঠিক নয়।

তিনি আরো জানান, জামালপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সিংহজানী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে সকাল ১০টার দিকে দুজন কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধলে ওই কেন্দ্রে অল্প কিছুক্ষণের জন্য ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হয়। আইন-শৃঙ্খলায় নিয়োজিত স্ট্রাইকিং ফোর্স পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে পুনরায় সেখানে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এছাড়া এই পৌরসভার অন্যান্য সকল কেন্দ্র এবং জেলার মাদারগঞ্জ ও ইসলামপুর পৌরসভা নির্বাচনের ভোট কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ করা হয়। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।  

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা