kalerkantho

মঙ্গলবার । ৭ বৈশাখ ১৪২৮। ২০ এপ্রিল ২০২১। ৭ রমজান ১৪৪২

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, তবুও 'পরোক্ষ মদদে' চলে ইটভাটা

জয়নাল আবেদিন বাবুল, পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও)   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৩:৫৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, তবুও 'পরোক্ষ মদদে' চলে ইটভাটা

একটি নিষিদ্ধ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিতে বুলডোজার ও ফায়ার সার্ভিস সহকারে অভিযান শুরু করেন জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে গঠিত ভ্রাম্যমাণ আদলতের একটি টিম। এ সময় ভাটার মালিকপক্ষ আদালতের কাছে অনুনয় বিনয় করে বলেন, এই মুহূর্তে ভাটা গুড়িয়ে দেওয়া হলে মালিক এবং শ্রমিকরা আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এ অবস্থায় ভাটাটি বন্ধ করে এর ইট, চিমনিসহ অন্যান্য মালামাল সরিয়ে নিতে আদলতের কাছে কিছুদিন সময় চান মালিকপক্ষ। লাইসেন্স না থাকায় আদালত ভাটা মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা করে এক মাসের মধ্যে ইটভাটাটি সরিয়ে নেওয়ার সময় দিয়ে লিখিত অঙ্গীকারপত্র নিয়ে অভিযান বন্ধ করে ফিরে যান। 

গত ২৪ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ পৌর শহরের চাপোড় এলাকার এমবি ব্রিক্স নামে একটি অবৈধ ইটভাটায় ভ্রাম্যামাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেন। লিখিত অঙ্গীকারমতে, এক মাসের মধ্যে ভাটাটি বন্ধ করে এর সবকিছু সরিয়ে নেওয়ার কথা থাকলেও ভাটা সরিয়ে নেওয়া তো দূরের কথা, এখনও বন্ধ করা হয়নি ইট পোড়ানো কার্যক্রম। পুরোদমে চলছে ভাটাটি। মালিকপক্ষ বলছে, সময় চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। আর পরিবেশ অধিদপ্তরের রংপুর আঞ্চলিক অফিসের সহকারী পরিচালক বলছেন, যেহেতু বন্ধ হয়নি, আবারো অভিযান পরিচালনা করা হবে।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৩ এর ৫/৭ ধারামতে, পৌরসভা এলাকায় ফিক্সড চিমনি ভাটা নিষিদ্ধ। এই আইন লঙ্ঘন করে পীরগঞ্জ-বীরগঞ্জ পাকা সড়ক-সংলগ্ন পৌর শহরের চাপোড় এলাকায় লাইসেন্স ছাড়াই এমবি ব্রিক্স নামে একটি ইটভাটায় কাঠ দিয়ে প্রকাশে ইট পোড়ানো হচ্ছে। এতে এলাকায় কৃষি, স্বাস্থ্যসহ পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ এ ভাটা বন্ধ করতে এলাকার লোকজন পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে ইটভাটাটি গুঁড়িয়ে দিতে গত ২৪ জানুয়ারি বিকালে পরিবেশ অধিদপ্তরের রংপুর আঞ্চলিক অফিসের সহকারী পরিচালক ফারুক হোসেন, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম রব্বানী সরদার বুলডোজার ও ফায়ার সার্ভিস নিয়ে ভাটায় আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় ভাটায় ফায়ার সার্ভিসের পানি ছিটিয়ে বুলডোজার দিয়ে ভাটার কিছু অংশ ভেঙে দেওয়া হয়। লাইসেন্স না থাকায় মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পরে মালিকপক্ষের অনুরোধে ভাটা বন্ধ করাসহ তা সরিয়ে নেওয়ার জন্য এক মাসের সময় দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ভাটা মালিক শাহজাহান ভ্রাম্যমান আদালতের কাছে লিখিত অঙ্গীকারপত্র দেন। নির্ধারিত এক মাস পেরিয়ে গেলেও ভাটা বন্ধ না করে কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানোর কাজ দেদারসে চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। 

এ বিষয়ে শনিবার বিকালে ভাটা মালিক শাহজাহান বলেন, আরো সময় চেয়ে প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছি। এ জন্য বন্ধ হয়নি। নিউজ করার দরকার নাই, আপনাদের সাথে দেখা করবো।

দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ নিয়ে কাজ করা প্রভাষক তারেক হোসেন বলেন, একটার পর একটা আবেদন করে প্রশাসনের পরোক্ষ সহযোগিতায় বছরের পর বছর নিষিদ্ধ ইটভাটাগুলো চলানো হচ্ছে। এতে পরিবেশসহ জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। যাদের দেখভাল করার কথা তারা যদি কিছু না করেন, তাহলে করার কি আছে! 

পরিবেশ অধিদপ্তরের রংপুর আঞ্চলিক অফিসের সহকারী পরিচালক ফারুক হোসেন শনিবার বিকালে মোবাইল ফোনে জানান, সময় চেয়ে আবেদন বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। নির্ধারিত সময়ে নিষিদ্ধ ভাটাটি যেহেতু বন্ধ হয়নি, সেহতু আবারো অভিযান পরিচালনা করা হবে।

ঠাকুরগাও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম রব্বানী সরদারের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমার দায়িত্ব ছিল মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা, সেটা করেছি, বাকিটা ডিএম (জেলা প্রশাসক) স্যার জানেন।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামানের কাছে মোবাইল ফোনে জানতে চাওয়া হলে তিনি ঢাকায় মিটিংয়ে আছেন বলে ফোন কেটে দেন।  

উল্লেখ্য, পীরগঞ্জ উপজেলায় জেলা প্রশাসনের ফায়ারিং সার্টিফিকেট ছাড়াই অবৈধ ১৭ ইটভাটায় পুরোদমে ইট পোড়ানোর কাজ অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা