kalerkantho

মঙ্গলবার । ৭ বৈশাখ ১৪২৮। ২০ এপ্রিল ২০২১। ৭ রমজান ১৪৪২

মানিকগঞ্জ সিঙ্গাইর পৌর নির্বাচন

১১টি ভোটকেন্দ্রের সবগুলো ঝুঁকিপূর্ণ, ইভিএম-এ আস্থা নেই ভোটারদের

সিঙ্গাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১০:৫৬ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



১১টি ভোটকেন্দ্রের সবগুলো ঝুঁকিপূর্ণ, ইভিএম-এ আস্থা নেই ভোটারদের

মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর পৌরসভার নির্বাচন চলছে। সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে। সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা ও সন্দেহের শেষ নেই ভোটারদের। ভোটারদের জিজ্ঞাসা, শেষ পর্যন্ত নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন কিনা। কেন্দ্রের ভেতরে ফিঙ্গার দেওয়ার পর ইভিএম এর বাটন টিপে একজনের ভোট আরেকজন দিয়ে দেবে কিনা এ নিয়ে ভোটারদের মাঝে চলছে কানাঘুষা। দেশের দুটি প্রধান দলের দুই প্রার্থীর লড়াইয়ের পরিসমাপ্তি কী ঘটে তা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে পৌরবাসী। এই নির্বাচন একজন মেয়র ও কাউন্সিলরদের লড়াই নয়, গণতন্ত্রের বড় হাতিয়ার ভোটারধিকার প্রয়োগে আস্থা ফেরানোর পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ। 

সবকিছু ছাপিয়ে এবারের নির্বাচনের মুল আলোচনার বিষয় ইভিএম। বাটন চেপে একজনের ভোট আরেকজন দিয়ে দেবে কিনা এ নিয়ে ভোটাররা সন্দিহান। তবে নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা দাবি করছেন, নির্বাচন অবাধ নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর হচ্ছে। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশসহ প্রায় প্রায় চারশত আইনশৃঙ্খলা সদস্য মাঠে থাকবেন, ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে তাদের পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দিতে পারেন।

পঞ্চম ধাপে এবার পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দেশের বড় দুই দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগ মনোনীত দুজন প্রার্থী। তারা হলেন- বিএনপির বর্তমান মেয়র অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম ভূইয়া জয় ও আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবু নাঈম মো. বাশার। এছাড়া সংরক্ষিত নারী আসনে ৯ জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা কাজ করছে। হুমকি-ধামকি ও বহিরাগতদের আনাগোনায় উদ্বিগ্ন ভোটাররা। ১১টি ভোট কেন্দ্রের সবগুলো ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে পুলিশ প্রশাসন। এমতাবস্থায় ভোট আদৌ সুষ্ঠু হবে কি না, জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে পৌরবাসী আতঙ্কিত।

দ্বিতীয় শ্রেণীর সিঙ্গাইর পৌরসভায় মোট ভোটার ২২ হাজার ৬৮৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১১ হাজার ১২০ জন এবং নারী ভোটার ১১ হাজার ৫৬৫ জন। আজ রবিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহন চলবে। 

বিএনপি প্রার্থী খোরশেদ আলম ভূইঁয়া জয় বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবু নাইম মো. বাশার দলবল নিয়ে প্রচারণার পাশাপশি সভা-সমাবেশ করেছেন। অথচ আমরা ভোট চাইতে বাইরে বের হতে পারিনি। মারধর করা হয় আমার কর্মী-সমর্থকদের। ভাঙচুর করা হয় প্রচারকাজে ব্যবহৃত মাইক। ছিড়ে ফেলা হয় পোস্টার। বহিরাগত লোকজনের আনাগোনায় পৌর এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এরপরও নির্বাচন শান্তিপুর্ণ ও সুষ্ঠু হলে জনগণ ব্যালট বিপ্লব ঘটিয়ে এবারও আমাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে।

আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবু নাঈম মো. বাশার বলেন, বিএনপি প্রার্থী খোরশেদ আলম ভূইঁয়া জয়ের দশ বছরের শাসনামলে পৌরসভার কোনো উন্নয়ন হয়নি। ট্যাক্স দিলেও ন্যুনতম সেবা পাননি পৌরবাসী। পরাজয় নিশ্চিত জেনে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছেন তিনি। এবারের নির্বাচনে উন্নয়নের লক্ষ্যে নৌকা প্রতীকের পক্ষে ভোট দিয়ে আমাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবেন পৌরবাসী। নৌকা বিজয়ী হলে উন্মোচন হবে সিঙ্গাইর পৌরসভার উন্নয়নের দ্বার। পূরণ হবে পৌরবাসীর সব আশা আকাঙ্ক্ষা।

সহকারী পুলিশ সুপার (সিঙ্গাইর সার্কেল) মো. রেজাউল হক বলেন, নির্বাচন কেন্দ্রিক বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে পুলিশ প্রশাসন তৎপর রয়েছে। কোনো পক্ষ ভোট কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার ও গোলযোগ করতে চাইলে তা কঠোর ভাবে মোকাবেলা করা হবে। 

থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) রকিবুজ্জামান বলেন, সবগুলো ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ভোট শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। কোনো প্রার্থী যেন ভোট কেন্দ্র দখল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

র‍্যাব -৪ এর মানিকগঞ্জ কম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) উনু মং বলেন, নির্বাচনে কেউ যেন গোলযোগ সৃষ্টি করতে না পারে সে ব্যাপারে র‍্যাব সদস্যরা তৎপর থাকবেন। পৌর এলাকায় বহিরাগতের চলাচলের ওপর কঠোর নজরদারি করা হবে। যেখানেই বহিরাগতদের পাওয়া যাবে সেখানে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।    

রিটার্নিং কর্মকর্তা শেখ মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ভোট শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত থাকবে। পুলিশের পাশাপাশি বিজিপি ও র‍্যাব সদস্যরা নির্বাচনী এলাকায় টহল দিবে। অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটের স্বার্থে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা