kalerkantho

মঙ্গলবার । ৭ বৈশাখ ১৪২৮। ২০ এপ্রিল ২০২১। ৭ রমজান ১৪৪২

চুরি যাওয়া দুই নবজাতক উদ্ধার, চোর চক্রের ৬ সদস্য আটক

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০১:১৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চুরি যাওয়া দুই নবজাতক উদ্ধার, চোর চক্রের ৬ সদস্য আটক

সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল এবং সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকার সাখাওয়াত এইচ মেমোরিয়াল হাসপাতাল থেকে চুরি যাওয়া দুই নবজাতক উদ্ধার করেছে পুলিশ। শিশু দুটির মধ্যে একজনকে  জীবিত আরেকজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। 

শনিবার রাত ১০টার দিকে আলোকদিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে নবজাতক চোর চক্রের প্রধান হোতা নারীসহ ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, চোর চক্রের অবস্থান নির্ণয় করে সেখান থেকে দুটি শিশু উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল থেকে চুরি যাওয়া শিশুটি মৃত এবং হাটিকুমরুল গোলচত্বর (সিরাজগঞ্জ রোড) এলাকার সাখাওয়াত এইচ মেমোরিয়াল হাসপাতাল থেকে চুরি যাওয়া শিশুটিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় নবজাতক চোর চক্রের মূল হোতা এক নারীসহ মোট ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।

সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাদের জিলানী জানান, শনিবার বিকেলে হাটিকুমরুল গোলচত্বর (সিরাজগঞ্জ রোড) এলাকায় সাখাওয়াত এইচ মেমোরিয়াল হাসপাতাল থেকে বিকেল সোয়া ৩টায় সদ্যোজাত এক শিশুকে চুরি করে নিয়ে যায় সংঘবদ্ধ এই চক্র। চুরি যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হাসপাতালের সিসি টিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ দেখে মানুষকে বিষয়টি অবগত করতে এলাকায় মাইক দিয়ে প্রচারণা চালানো হয়। একই সঙ্গে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে সময় অনুযায়ী অবস্থান নির্ণয়ের চেষ্টা করে অবশেষে চোর চক্রকে হাতেনাতে আটক করা হয়। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিভাগ থেকে নবজাতকটি চুরি হয়ে যায়। শিশুটি জেলার উল্লাপাড়া ভাদালিয়াকান্দি গ্রামের চয়ন ইসলাম ও মঞ্জুয়ারা খাতুন দম্পতির সন্তান। 

নবজাতকটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের শিশু বিভাগে ভর্তি করা হয়েছিল। ওই দিন দুপুরে হাসপাতালের শিশু বিভাগে অপরিচিত এক নারীর কাছে নবজাতকটিকে রেখে তার মা কাপড় শুকাতে হাসপাতালের ছাদে গেলে ওই নারী নবজাতকটিকে নিয়ে পালিয়ে যান। নবজাতকটি নিওনেটাল সেপসিস রোগে ভুগছিল। এই শিশুটিকে পুলিশ মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছে।

অপরদিকে প্রসব বেদনা দেখা দিলে তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ গ্রামের সবিতা খাতুন শুক্রবার বিকেলে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি হন। শনিবার সকাল ৯টার দিকে অস্ত্রোপচারের (সিজারিয়ান) মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হয়। এরপর শিশুর মাকে পাশের (পোস্ট অপারেটিভ) কক্ষে রেখে সুস্থ শিশুটিকে তার নানির কোলে দেওয়া হয়। নানি শিশুটিকে কোলে নিয়ে হাসপাতালটির একটি কক্ষে বসে ছিলেন। এ সময় এক নারী এসে শিশুটিকে কোলে তুলে নেন এবং আদর করে তাঁর বুকের দুধ খাওয়াতে থাকেন।

একপর্যায়ে বেলা ৩টার দিকে শিশুটির নানিকে তাঁর মেয়ে কেমন আছে, সেটি দেখে আসার কথা বলেন ওই নারী। বিশ্বাস করে শিশুটিকে ওই নারীর কোলে রেখে তিনি পাশের কক্ষে যেতেই ওই নারী শিশুটিকে নিয়ে পালিয়ে যান। শিশুটি জেলার তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ গ্রামের মাজেম মোল্লা (৩৫) ও সবিতা খাতুন (৩০) দম্পতির সন্তান। তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা