kalerkantho

রবিবার। ২৮ চৈত্র ১৪২৭। ১১ এপ্রিল ২০২১। ২৭ শাবান ১৪৪২

রবি মৌসুমে প্রান্তিক কৃষকের মুখে হাসি

নজরুল ইসলাম, গফরগাঁও (ময়মনসিংহ)   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২২:১৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রবি মৌসুমে প্রান্তিক কৃষকের মুখে হাসি

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে চলতি রবি মৌসুমে ব্রহ্মপুত্রের চরাঞ্চলের প্রান্তিক কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। উৎপাদিত কৃষি পণ্য বিক্রয় সহজতর এবং দ্রুত ঢাকায় প্রেরণ করা সম্ভব হচ্ছে বলে কৃষকরা ভালো মূল্য পাচ্ছেন। পূর্বের মতো উৎপাদিত পণ্য নিয়ে বিক্রয় অনিশ্চয়তায় ভোগতে হচ্ছে না। অনেকের ফসল ক্ষেতেই বিক্রয় হয়ে যাচ্ছে। নদীর ওপর সেতু নির্মাণ ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের কারনে পাল্টে গেছে কৃষকের অনিশ্চয়তা আর দুর্ভোগের চিত্র। এ অবস্থার সুযোগ নিতে এবং ব্রহ্মপুত্র চরের উর্বর পলি জমিতে ফসল বেশী হয় বলে আশপাশের উপজেলার প্রায় অর্ধশত প্রান্তিক কৃষক টাঙ্গাব এলাকায় এসে জমি বর্গা নিয়ে ফসল উৎপাদন করছেন।

উপজেলার প্রায় সকল ইউনিয়নেই রবি মৌসুমে ফসল উৎপাদন হলেও টাঙ্গাব ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র চরে শত শত একর জমিতে বছরে ৩-৪ টি ফসল হয়। উর্বর পলি মাটি হওয়ায় উৎপাদন হয় অনেক বেশী। অসংখ্য প্রান্তিক কৃষক পরিবার এক কাঠা (১০ শতাংশ), দু’কাঠা জমি বর্গা নিয়ে সারা বছর একটার পর একটা ফসল ফলান। এক কাঠা জমি থেকে একজন কৃষক বছরে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় করতে পারেন। আশপাশের উপজেলার প্রায় অর্ধশত প্রান্তিক কৃষক টাঙ্গাব এলাকায় এসে জমি বর্গা নিয়ে শাক-সবজি চাষাবাদ করছেন। তবে আগে যোগাযোগ ব্যবস্থার অপ্রতুলতার কারণে উৎপাদিত কৃষি পণ্য বিক্রয়ে কৃষকদের অনিশ্চয়তায় ভুগতে হতো এবং স্থানীয় বাজারে সন্তায় বিক্রি করতে হতো। এতে মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ীরা লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হতেন উৎপাদনকারী প্রান্তিক কৃষকরা। কিন্তু এখন অবস্থা পাল্টেছে। সংসদ সদস্য ফাহমী গোলন্দাজ বাবেলের প্রচেষ্টায় সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন ও বানার নদীর উপর প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত সেতু নির্মাণ হওয়ায় সবচেয়ে বেশী লাভবান হয়েছেন কৃষকরা। এখন ঢাকার ব্যবসায়ীরা ছোট-বড় ট্রাক ও পিকআপভ্যান নিয়ে স্থানীয় বাজার থেকে কৃষি পণ্য ক্রয় করে নিয়ে যান।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি রবি মৌসুমে উপজেলায় ৩০০ হেক্টর জমিতে সরিষা, ১৫০ হেক্টর জমিতে ভূট্টা, ১৫০ হেক্টর জমিতে গম, ৩২০ হেক্টর জমিতে আলু, ২৫০ হেক্টর জমিতে বেগুন, ২৭০ হেক্টর জমিতে টমেটো, ৬০ হেক্টর জমিতে ফুল কপি, ৭০ হেক্টর জমিতে বাধাকপি, ১৭০ হেক্টর জমিতে মুলা, ১০০ হেক্টর জমিতে লাল শাক, ৫০ হেক্টর জমিতে পালং শাক, ২৫০ হেক্টর জমিতে শীত লাউ, ১৯৫ হেক্টর জমিতে সীম, ৯০ হেক্টর জমিতে পুঁই শাক, কলমী ও বরবটি, ৩০০ হেক্টর জমিতে মিষ্টিকুমড়া এবং আরো ৪৫ হেক্টর জমিতে উচ্ছে ও করলা চাষ হয়েছে।

স্থানীয় যুবক শরিফ আহম্দে বলেন, সেতু ও সড়ক যোগাযোগ উন্নত হওয়ায় ঢাকার ব্যবসায়ীরা পিকআপ ভ্যান নিয়ে স্থানীয় বাজার থেকে উৎপাদিত পণ্য ক্রয় করে নিয়ে যায়। এতে উৎপাদনকারী কৃষক লাভবান হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি অফিসার রয়েছেন। তারা সার্বক্ষণিকভাবে কৃষকদের সহযোগিতা করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা