kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৯ বৈশাখ ১৪২৮। ২২ এপ্রিল ২০২১। ৯ রমজান ১৪৪২

অভাবে সন্তান বিক্রি করেন তাঁরা

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২১:২৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অভাবে সন্তান বিক্রি করেন তাঁরা

জেলার উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ী ইউনিয়নের শিমুলতলা এলাকার হতদরিদ্র খলিল মন্ডল (৪৮)। ভিটেমাটি বলতে কিছুই নেই তার। গত ৯ বছর পুর্বে আশ্রয় হয়েছে ওই ইউনিয়নের ফকির মোহাম্মদ এলাকার একটি গুচ্ছগ্রামে। আগে দিনমজুরি করে সংসার চালালেও এখন শারীরিক অক্ষমতার কারণে আয়রোজগার বন্ধ হয়ে যায়। স্ত্রী মর্জিনা বেগম শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় কোনো কাজ করতে পারেন না। ফলে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটে পরিবারটির। এমতাবস্থায় ৭ সন্তান নিয়ে দিশেহারা বাবা-মা। গত এ সপ্তাহ আগে অভাবের তাড়নায় ৩ মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তানকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন তারা। এর আগেও প্রায় ১৬ মাস পুর্বে ২ দিন বয়সী একটি শিশুকন্যাকে বিক্রি করেন এই দম্প্রতি। কিন্তু সেবার টাকার বিনিময় বিক্রি করলেও কোনো টাকা পাননি পরিবারটি।

ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, খেয়ে না-খেয়ে থাকলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা কোনো সাহায্য-সহযোগিতা করেনি। সরকারের সকল সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত তারা।

সরেজমিনে শনিবার ওই এলাকায় গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারটির সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ১৮ বছর আগে বিয়ে হয় খলিল মন্ডল ও মর্জিনা বেগমের। ভিটেমাটি না থাকায় আশ্রয় হয় উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের ফকির মোহাম্মদ গুচ্ছগ্রামের একটি খুপড়ি ঘরে। স্ত্রী, ছেলে-মেয়েকে নিয়ে কোনোরকমে গাদাগাদি করে থাকতেন তারা। আয়রোজগার না থাকায় অভাবের সংসারে এতগুলো সন্তানের মুখে আহার জোটানো খলিল মন্ডলের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে। কোনোদিন একবেলা আবার কোনোদিন না খেয়েই স্ত্রী সন্তান নিয়ে দিন কাটে তার। প্রথম সন্তান কলিমা খাতুন (১২)  মাসিক ২ হাজার টাকা বেতনে রংপুরের একটি বাসায় ঝিয়ের কাজ করছিলেন। বয়স কম হওয়ায় কাজ করতে না পারায় বাড়িতে ফিরে আসে। দ্বিতীয় সন্তান কলিমউদ্দিন জন্মের ৩ মাসের মাথায় পুষ্টিহীনতায় মারা যায়। তৃতীয় সন্তান মিজানুর (৯), চতুর্থ সন্তান ইছানুর (৪) ও চতুর্থ সন্তান খুশি খাতুন (২) বাবা মার সাথেই থাকেন।

এদিকে অভাবের তাড়নায় ৩ মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তানকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন বাবা-মাা। এর আগেও প্রায় ১৬ মাস পুর্বে ২ দিন বয়সী একটি শিশুকন্যাকে বিক্রি করেন এই দম্পতি।

আইয়ুব আলী, দেনছাড় আলী, হালিমা বেগমসহ একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করে কা‌লের কণ্ঠ‌কে বলেন, নদীভাঙনকবলিত এ এলাকার অধিকাংশ মানুষই দরিদ্র। খলিল মন্ডল কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন ও শারীরিকভাবে দুর্বল হওয়ায় কোনো কাজ-কর্ম করতে পারেন না। খেয়ে না-খেয়ে পড়ে থাকলেও কোনো মেম্বার চেয়ারম্যান তাদের সাহায্য সহযোগিতা করেনি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মঞ্জু মিয়া। তিনি বলেন, খলিলকে সরকারিভাবে নানা সাহায্য সহযোগিতা করা হয়েছে। কিন্তু অনুসন্ধানে এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী মর্জিনা বেগম বলেন, 'হামরা গরিব মানুষ, টেহা পইসে নেই। অভাবে ছাওয়া বিক্রি করছি। ছাওয়া বেঁচা টেহা দিয়ে মোর স্বামী চিকিৎসে করবের নাগছে। না খায়া পড়ি মরলেও কোনো নিম্বর চেয়ারম্যান হামাক কিছু দেয় না'। তিনি আরো বলেন এর আগেও ২ দিন বয়সী একটি শিশুকন্যাকে বিক্রি করেছেন তারা।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এখন প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ডে আওতাভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। তারা আমার সাথে যোগাযোগ করলে আমি তাদের প্রতিবন্ধী কার্ডের ব্যবস্থা করে দেব।

উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা নুর-এ-জান্নাত রুমি বলেন, ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। যেভাবে পারি পরিবারটিকে সহযোগিতা করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা