kalerkantho

মঙ্গলবার । ৭ বৈশাখ ১৪২৮। ২০ এপ্রিল ২০২১। ৭ রমজান ১৪৪২

তেঁতুলিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ

উপার্জনের পা উড়ে গেল বিস্ফোরণে

৪ বেলুন বিক্রেতাসহ আহত ৫

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২০:৫৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উপার্জনের পা উড়ে গেল বিস্ফোরণে

ইউনুস আলী জীবিকা নির্বাহের জন্য যে দুই পায়ে ভর করে চলতেন তার একটি উড়ে গেছে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে।  পেশায় বেলুন বিক্রেতা ইউনুস আলীর বাড়ি গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায়। তিনি ওই উপজেলার আব্দুল কাদেরের ছেলে। বিভিন্ন জেলায় ঘুরে ঘুরে বেলুন বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। শনিবার বিকেলে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া বাজারে গ্যাস সিলিন্ডার থেকে বেলুনে গ্যাস ভরার সময় বিস্ফোরণে তার ডান পায়ের অর্ধেক উড়ে যায়। শুধু তিনিই নয় ওই বিস্ফোরণে তার ৩ সহকর্মীসহ আরও চারজন আহত হন।

অন্য আহতরা হলেন বেলুন বিক্রেতা ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার রহমতপুর এলাকার সাব্বির হোসেন (২২), একই জেলার রানীশংকৈল এলাকার হাফিজুল ইসলাম (২৬), নওগাঁ জেলা সদরের রাব্বি হোসেন (২৫)। বিস্ফোরণে তেঁতুলিয়া উপজেলার ফয়সাল আহমেদ (১৪) নামের এক কিশোরও আহত হয়েছেন।

আহত পাঁচজনকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ ও তেঁতুলিয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর পঞ্চগড় জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আহত বেলুন বিক্রেতা ও স্থানীয়রা জানান, গত মঙ্গলবার থেকে বিভিন্ন জেলার ছয়জন বেলুন বিক্রেতা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার আব্দুর রহিমের দোকানঘর ভাড়া দিয়ে থাকতেন। সেখান থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হেঁটে হেঁটে বেলুন বিক্রি করতেন তারা। শনিবার বিকেলে সিলিন্ডার থেকে বেলুনে গ্যাস ভরার সময় হঠাৎ বিকট শব্দে সিলিন্ডারটি বিস্ফোরিত হয়। এ সময় চার বেলুন বিক্রেতা ও স্থানীয় এক কিশোর মারাত্মকভাবে আহত হন। ইউনুস আলী নামের এক বেলুন বিক্রেতার ডান পায়ের অর্ধেক বিস্ফোরণে উড়ে যায়। আহত বাকি চারজনের শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে গেছে। চোখেও মারাত্মকভাবে আঘাত পেয়েছেন কেউ কেউ।

পরে স্থানীয়দের সহযোগিতা পুলিশ ও তেঁতুলিয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাদের উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি। কিন্তু তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও পরিবারের কেউ না থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে নিয়ে যেতে দেখা দেয় জটিলতা। পরে গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর হাসপাতালে ছুটে আসেন পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক ড. সাবিনা ইয়াসমিন। জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আলাউদ্দীনের তত্ত্বাবধানে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পঞ্চগড় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার থেকে বেলুনে গ্যাসভর্তি করার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে পাঁচজন আহত হয়েছে। আহত রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দুর্ঘটনার কারণ আমার খতিয়ে দেখছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা