kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৯ বৈশাখ ১৪২৮। ২২ এপ্রিল ২০২১। ৯ রমজান ১৪৪২

খাল দখল করে কালভার্ট নির্মাণ!

হায়াতুজ্জামান মিরাজ, আমতলী (বরগুনা)   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২১:৪৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খাল দখল করে কালভার্ট নির্মাণ!

বরগুনার তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের মৌরভী গ্রামে মাছ চাষের সুবিধার্থে মৎস্য চাষি জাহাঙ্গীর আলম খাল দখল করে কালভার্ট নির্মাণ করছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। খালটি সংকুচিত হয়ে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়াসহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। খালটি দখলমুক্ত করতে প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, মৌরভী গ্রামের ওই খালটি স্থানীয় মৎস্যচাষি জাহাঙ্গীর আলম ও তার ভাই বিল্লাল দীর্ঘদিন ধরে দখল করে মাছ চাষ করে আসছে। বর্ষা মৌশুমে জলাবদ্ধতার কারনে ওই এলাকায় কৃষকরা জমি চাষাবাদ করতে পারছেন না। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে দুর্ভোগে পড়ে ওই এলাকার বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ।

গ্রামের বাসিন্দা এমাদুল হকসহ স্থানীয়রা জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃক মৌরভী গ্রামে একটি খাল খননের কাজ করছে। ওই খালের খনন কাজ প্রায় অর্ধেক শেষ হয়ে গেছে। এখনো খালটিতে খনন কাজ চলমান আছে। মৌরভী গ্রামের আ. মজিদের পুত্র মৎস্যচাষি জাহাঙ্গীর আলম ব্যক্তি উদ্যোগে মাছ চাষের সুবিধার্থে খালটির মাঝখানে একটি কালভার্ট নির্মাণ করছেন। এ কারণে খালটি সংকুচিত হওয়াসহ এর পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়াসহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রশাসন খালটি দখলমুক্ত করতে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তারা।

এলাকার একাধিক কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, মৎস্যচাষি জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘদিন খাল দখল করে মাছ চাষ করে আসছেন। মৎস্য চাষ করার কারণে বৃষ্টির দিনে পুরো এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে গ্রামের অধিকাংশ কৃষকরা চাষাবাদ করতে পারছেন না। আর শুকনো মৌসুমে কৃষকরা ওই খাল থেকে ফসলি জমিতে পানি সেচও দিতে পারছেন না।

আজ শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মৌরভী গ্রামের ওই খালটির মাঝখানে কালভার্ট নির্মাণের কাজ চলছে। শুকিয়ে যাওয়া খালটির তলায় কালভার্টের ভিত্তি নির্মাণ করা হচ্ছে। মৎস্যচাষি জাহাঙ্গীর মাছ চাষের সুবিধার্থে খালের উপর কালভার্ট নির্মাণ করছেন বলে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী অভিযোগ করেন। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, মৎস্যচাষি জাহাঙ্গীর আলম এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না। প্রশাসন ম্যানেজ করেই তিনি এ কালভার্ট নির্মাণ করছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মৎম্যচাষি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে কারো কাছ থেকে অনুমতি না নিয়ে নিজ উদ্যোগে এ কালভার্ট তৈরি করে দিচ্ছি।

তালতলী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রেজবি উল কবির জোমাদ্দার বলেন, ব্যক্তিগতভাবে কেউ খাল দখল করে মাছ চাষ করতে পারবে না।

বরগুনা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কাইছার আলম বলেন, খাল দখল করে যদি কেউ কালভার্ট নির্মাণ করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমার কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা