kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৯ বৈশাখ ১৪২৮। ২২ এপ্রিল ২০২১। ৯ রমজান ১৪৪২

শহীদ বাবার 'স্বীকৃতি' নিয়ে বিড়ম্বনায় সন্তানরা

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৫:৪০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শহীদ বাবার 'স্বীকৃতি' নিয়ে বিড়ম্বনায় সন্তানরা

মনছুর আলীকে একাত্তরে নির্মমভাবে হত্যা করে পাকসেনারা। লাল মুক্তিবার্তায় শহীদ মনছুর আলী হিসেবে উল্লেখ রয়েছে তার নাম। তবু্‌ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি নিয়ে বিরম্বনায় পড়েছেন তার সন্তানরা। ২০১৫ সালে কয়েক মাস তার পরিবার মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পেলেও হঠাৎ তা বন্ধ হয়ে যায়। তারপর থেকে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে দপ্তরে ঘুরলেও কোনো সমাধান হয়নি। ওই মুক্তিযোদ্ধার পরিবার গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মনছুর আলীর ছেলে মোসলেম উদ্দিন মিন্টু জানান, তার জন্মস্থান দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার হলদীবাড়ি হাসপাতাল চত্ত্বর এলাকায়। বর্তমানে তিনি পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা সদরে বসবাস করছেন। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মনছুর আলী সে সময়ে স্থানীয় রুরাল হেলথ সেন্টারে মেডিক্যাল অফিসারের গাড়িচালক হিসেবে চাকরি করতেন। প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে কাজ করতে থাকেন। মেডিক্যাল অফিসারের গাড়িতে করেই মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র, খাবারসহ বিভিন্ন জিনিস সরবরাহ করতেন তিনি। ১৯৭১ সালের ১৫ এপ্রিল খান সেনারা তাকে ধরে হাসপাতাল এলাকাতেই নির্মমভাবে হত্যা করে। সেই দিনের নির্মম হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা পাওয়া যায় তৎকালীন গণকণ্ঠ নামক পত্রিকায়। তারপর স্বাধীন বাংলাদেশে সন্তান নিয়ে খুব কষ্টে দিন যাপন করেন মনছুর আলীর স্ত্রী মেহেরুন নেছা। 

২০০০ সাল থেকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন তার সন্তানরা। সব কাগজপত্র সংগ্রহ করেন তারা। পেয়ে যান মুক্তিবার্তায় তাদের বাবার নামও। পরে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার বাবার নাম অন্তর্ভূক্ত হয়। ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৭০ হাজার টাকা ভাতাও পান তার পরিবার। তারপরেই হঠাৎ করে ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তার সন্তানরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন তাদের বাবা ও দাদার নাম জালিয়াতি করে পার্বতীপুরের এক ব্যক্তিও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ভাতা তুলছেন। পরে তারা অভিযোগ করলে তার ভাতাও বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু প্রকৃত শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হওয়া সত্যেও এখনো ভাতা বন্ধ রয়েছে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মনছুর আলীর পরিবারের। 

উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন স্থানে আবেদন করলেও দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে রয়েছে বিষয়টি। এতে চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারটি। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বাবার স্বীকৃতিসহ বন্ধ ভাতা আবারো চালু করার দাবি অসহায় এই পরিবারটির।
 
শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মনছুর আলীর ছেলে মোসলেম উদ্দিন মিন্টু বলেন, আমার বাবা দেশের জন্য যুদ্ধ করে শহীদ হয়েছেন। লাল মুক্তি বার্তাতেও নাম রয়েছে। কিন্তু তারপরও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমার বাবার স্বীকৃতি নিয়ে আজও বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে আমাদের। বিষয়টি আমরা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীসহ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাশিদ কায়সার রিয়াদ বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তারা যদি আমাকে সব তথ্য সরবরাহ করেন আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবো। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা