kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

মুজাক্কিরের বাবা বললেন

ছেলেটাকে কারা হত্যা করল একটু দেখতে চাই

নোয়াখালী প্রতিনিধি   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০২:১০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছেলেটাকে কারা হত্যা করল একটু দেখতে চাই

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহের সময় গুলিতে নিহত সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন মুজাক্কির হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে তাঁর পরিবার। সংবাদ সম্মেলনে মুজাক্কিরের বাবা তাঁর ছেলের হত্যাকারীদের দেখতে চেয়েছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় নোয়াখালী জেলা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মুজাক্কিরের বড় ভাই নূর উদ্দিন মুহাদ্দিস।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘নিহত মুজাক্কির সাংবাদিকতা পেশার পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল। অসুস্থ ও মুমূর্ষু রোগীদের পাশে দাঁড়াত। বিভিন্ন সময় দুর্লভ এ-নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত ২৬ জন রোগীকে দিয়ে জীবন বাঁচিয়েছে। করোনার এই সময়ে নিজ এলাকার অসহায় ও গরিব মানুষের ঘরে ঘরে খাবার এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছে। ঈদে দুস্থ ও এতিমদের গোপনে সহযোগিতা করত।’

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো জানান, গত শুক্রবার উপজেলার চাপরাশিরহাট পূর্ব বাজারে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন মুজাক্কির। এ সময় আহত মুজাক্কির বাঁচার জন্য বারবার আকুতি জানালেও উপস্থিত স্থানীয় লোকজন, জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ সদস্যরা তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেননি। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গুলিবিদ্ধ হয়ে দীর্ঘসময় বাজারে পড়ে থাকার কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মুজাক্কির মারা যান। তাঁরা আপ্রাণ চেষ্টা করেও তাঁকে বাঁচাতে পারেননি।

মুজাক্কির কি কোন দলের কর্মী ছিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মুজাক্কির পড়ালেখার পাশাপাশি সংবাদিকতা করত। সে কোনো দল বা গ্রুপের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল না।’

নিহত মুজাক্কিরের বাবা নূরুল হুদা নোয়াব আলী মাস্টার বলেন, ‘ঘটনার সময় পরিবারের কেউ আমরা উপস্থিত ছিলাম না। কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা আমরা দেখিনি। আমার সহজ-সরল ও মানবিক ছেলেটাকে কে বা কারা এমন নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করতে পারল, তাদের একটু দেখতে চাই। যে বা যারা এ খুনের সঙ্গে জড়িত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত খুনিদের গ্রেপ্তার করে তাদের বিচার করা হোক। প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রকৃত খুনিদের শনাক্ত করে ফাঁসির দাবি জানাই।’

নিহত মুজাক্কিরের মা মমতাজ বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার আদরের ছোট ছেলে মারা যাওয়ার পর গত বুধবার আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে একটি ভিডিও দেখেছি। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একজন ব্যক্তি তাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে মারধর করছে। ওই হামলাকারী তাকে বলে ‘তোর কোন বাবা আছে?’ আমি ওই হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করতে প্রশাসনকে অনুরোধ করছি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রকৃত খুনিদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”

আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিতে মৃত্যুর আগেও একবার শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন মুজাক্কির। ২০১৯ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর মুজাক্কিরকে নির্যাতনের একটি ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মীর জাহিদুল হক রনি বলেন, ‘মুজাক্কিরকে নির্যাতনের ভিডিওটি আমাদের হাতে এসেছে। ভিডিওটিতে দেখা গেছে, উপজেলার কথিত সাংবাদিক রাসেল (হাসান ইমাম রাসেল) মুজাক্কিরকে গালমন্দ ও মারধর করছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভিডিওটি দেখছে। অপরাধী যেই হোক, তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা