kalerkantho

শনিবার । ২৭ চৈত্র ১৪২৭। ১০ এপ্রিল ২০২১। ২৬ শাবান ১৪৪২

মাকে রাস্তার পাশে ফেলে গেল মেয়ে, আশ্রয় হলো নাতনির বাড়ি

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৮:৩৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাকে রাস্তার পাশে ফেলে গেল মেয়ে, আশ্রয় হলো নাতনির বাড়ি

ঢাকার নিজের বাসা থেকে এনে মাদারীপুরে শিবচরে ৯০ ঊর্ধ্ব বৃদ্ধা মাকে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে দিয়ে চলে গেছে মেয়ে পার্বত্য রানী মন্ডল। এক ভ্যানচালকের সহায়তায় অবশেষে এক নাতনির বাড়িতে আশ্রয় হয়েছে সহায় সম্বলহীন বৃদ্ধা সাম্প্রীয় বৈরাগীর।

বৃদ্ধা সাম্প্রীয় বৈরাগী ও তার পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শিবচর উপজেলার শিরুয়াইল ইউনিয়নের সাদেকাবাদ গ্রামের মৃত রাজমোহন বৈরাগীর স্ত্রী সাম্প্রীয় বৈরাগী। স্ত্রী সাম্প্রীয় বৈরাগী, মেয়ে পার্বতী, সরস্বতী, ছেলে কুমোদ বৈরাগী, স্বত্ব বৈরাগী ও নিত্য বৈরাগীকে রেখে গত প্রায় ৩০ বছর আগে রাজমোহন বৈরাগীর মৃত্যু হয়। সেই থেকে ২ মেয়ে ও ৩ ছেলেকে নিয়েই ছিলেন সাম্প্রীয় বৈরাগী। ৩ ছেলের মধ্যে বড় ছেলে কুমোদ বৈরাগী ১৯ বছর আগে মারা যায়। মেঝো ছেলে স্বত্ব বৈরাগী কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিছানায় পড়ে আছেন। ঢাকাতে স্ত্রীর উপার্জনের টাকায় কোনোমতে চিকিৎসা চলছে তার। ছোট ছেলে নিত্য বৈরাগী কোলকাতায় পাড়ি দিয়ে নিরুদ্দেশ আছে অনেক বছর যাবত। ছোট মেয়ে সরস্বতী বিয়ের পর থেকেই স্বামীর সাথে কলকাতায় আছেন। তার সাথেও পরিবারের তেমন যোগাযোগ নেই।

সাম্প্রীয় বৈরাগীর বড় মেয়ে পার্বতী মন্ডল ঢাকার আগারগাঁও থানার তালুকদার রোড এলাকার চতুর্থ তলার একটি ফ্লাটে স্বামীর সাথে বসবাস করেন। প্রায় ৪ বছর আগে পার্বতী তার মাকে নিজের কাছে রাখার জন্য গ্রামের বাড়ি সাদেকাবাদ থেকে ঢাকায় নিয়ে যান। করোনা পরিস্থিতি শুরুর পর থেকে বৃদ্ধা মাকে ঘর থেকে সরিয়ে বাসার বেলকনির খালি জায়গায় রাখতে শুরু করেন মেয়ে পার্বতী। বেলকনিতেই তাকে খাবারও দেওয়া হতো। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি মেয়ে পার্বতী মন্ডল ঢাকা থেকে একটি গাড়িতে করে বৃদ্ধা মাকে গ্রামের বাড়ি শিবচরের সাদেকাবাদ এলাকায় নিয়ে এসে ঐ এলাকার একটি কাঁচা রাস্তার পাশে মাকে ফেলে রেখে দিয়ে ঢাকায় ফিরে যান। রাস্তার পাশে বসে কাঁদছিলেন অসহায় সাম্প্রীয়। পরে সন্ধ্যার দিক স্থানীয় ভ্যানচালক আনোয়ার মিয়া তাকে দেখতে পেয়ে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। পরে বৃদ্ধা তাকে মাদবরচর ইউনিয়নের ডাইয়ারচর গ্রামের তার বড় ছেলের মেয়ে নাতনী রিতা রানী মন্ডলের শশুর বাড়ির কথা বলেন। শুক্রবার আনোয়ার বৃদ্ধাকে তার নাতিন জামাই বাড়িতে পৌঁছে দেন।

ভ্যানচালক আনোয়ার মিয়া বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাদেকাবাদ রাস্তার পাশে মায়ের বয়সী বৃদ্ধাকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে আমার বাড়িতে নিয়ে যাই। পরে শুক্রবার সকালে আমি তাকে তার আত্মীয়ের বাসায় পৌঁছে দেই। 

বৃদ্ধার নাতিন জামাই জগদীশ মন্ডল বলেন, পৃথিবীতে সন্তান দেখেছি। এতো নিষ্ঠুর সন্তান কোথাও দেখিনি। প্রায় শতবর্ষী বৃদ্ধা মাকে কিভাবে রাস্তার পাশে ফেলে দিয়ে গেল। এটা আমি বুঝে উঠতে পারছি না।

সাম্প্রীয় বৈরাগী বলেন, অনেক আগেই চোখের জল ফুরিয়ে গেছে। এখন আর কান্না করার শক্তি নেই। মেয়ের বাসায় চার বছর ধরে ছিলাম। করোনার পর থেকে ফ্লাটের খোলা বেলকনিতে থাকতে হয়েছে। কষ্ট সহ্য করতে না পেরে রাত জেগে একা একা কান্না করেছি। আমার পেটের মেয়ে আমাকে গাড়িতে করে তুলে এনে রাস্তার পাশে এভাবে ফেলে যাবে কখনো বুঝে উঠতে পারিনি। তবুও চাই ওরা সুখে থাকুক।

বৃদ্ধার মেয়ে পার্বতী মন্ডলের স্বামী দিনা মন্ডলের মোবাইল নম্বরে ফোন দিয়ে সাংবাদিক পরিচয়ে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কথা না বলেই ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি আর রিসিভ করেননি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা