kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৯ বৈশাখ ১৪২৮। ২২ এপ্রিল ২০২১। ৯ রমজান ১৪৪২

মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ে অর্থ বাণিজ্য, ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ

মহিদুল ইসলাম, শরণখোলা (বাগেরহাট)   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৭:৩৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ে অর্থ বাণিজ্য, ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ

বাগেরহাটের শরণখোলায় মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ের নামে বিপুল অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। নতুন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ‘ক’ এবং ‘খ’ তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য একেক জন আদেনকারীর কাছ থেকে সর্বনিম্ন ৫০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। টাকার বিনিময়ে স্বাধীনতা বিরোধীদেরকেও ‘ক’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ রয়েছে। এভাবে দেড় শতাধিক আবেদনকারীর কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন যাচাই-বাছাই কমিটির দুই সদস্য। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে। আন্দোলনে নেমেছেন মুক্তিযোদ্ধাদের একাংশ ও অনলাইনে আবেদনকারীরা।

অর্থ-বাণিজ্যের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে শরণখোলা প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন মুক্তিযোদ্ধাদের ওই অংশটি। এ ছাড়া গত মঙ্গলবার মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন তারা।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযোগ, তালিকা থেকে বাদ পড়া অনলাইনে আবেদনকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই করতে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) ১০২ নম্বর স্মারকে শরণখোলায় পত্র প্রেরণ করে। তারই প্রেক্ষিতে উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এম আফজাল হোসাইন, সদস্য সচিব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন ও কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ খালেক খান গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত ওই তালিকা বাছাই করেন।

বাছাই কমিটি ভারতীয় তালিকা, লাল মুক্তিবার্তা ও উপস্থিত সম্মুখ যোদ্ধাদের স্বাক্ষীসহ সকলের ঐক্যমতের ভিত্তিতে একটি খসড়া তালিকা প্রস্তুত করেন। কিন্তু পরবর্তীতে ওই খসড়া তালিকা বাদ রেখে বাছাই কমিটি গোপনে ৩৪ জন অমুক্তিযোদ্ধা অন্তর্ভুক্ত করে ৫৩ জনের নাম জামুকায় পাঠান। এতে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দেয়।

যুদ্ধকালীন কমান্ডার ও সুন্দরবন সাব-সেক্টরের স্টুডেন্ট ক্যাম্প কমান্ডার হেমায়েত উদ্দিন বাদশা মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে বলেন, শরণখোলায় মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ে চরম দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়েছে। যাচাই-বাছাই কমিটির দুই সদস্য বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং হমান মুক্তিযুদ্ধের গৌরব ভুলুণ্ঠিত করেছে। কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে স্বাধীনতা বিরোধী চক্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে তারা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তার এমন ঘৃণিত এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে যা এখন সবার মুখে মুখে। এতে আমাদের মাথা হেট হয়ে আসে। আমি নতুন করে যাচাই-বাছাই করে তালিকা তৈরির দাবি জানাই।

বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশিদ খান, আ. মালেক জমাদ্দার, আবু জাফর জব্বার, ইউসুফ আলী হাওলাদার জানান, যাচাই-বাছাই কমিটির দুই সদস্য অনলাইনে আবেদনকারী দেড় শাতাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে নাম তালিকাভুক্ত করার নামে সর্বনিম্ন ৫০ হাজার থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত গ্রহণ করেছেন। এমনকি যুদ্ধকালীন ভারতে প্রশিক্ষণের সনদের ফটোকপি ৩০-৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. মালেক মীর, আ. হালিম হাওলাদার, আ. খালেক হাওলাদার, রুহুল আমিন হাওরাদার ও ইউসুফ মুন্সি জানান, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা বাদ দিয়ে অর্থের বিনিময়ে যে ৫৩ জনের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে তার ৩৪ জনই অমুক্তিযোদ্ধা এবং এর মধ্যে অনেকে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীও রয়েছে। এমনকি ১ নম্বর গেজেটের যাচাই-বাছাই করতেও ব্যপক অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন। এভাবে তারা কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

এ সময় উপস্থিত অনলাইনে আবেদনকারী সুনীল শিকারী বলেন, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্তির কথা বলে এক লাখ টাকা নিয়েও আমার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, কমিটিতে থাকা বীর মুক্তিযোদ্ধা ও উপস্থিত স্বাক্ষীদের মতামতের ভিত্তিতে তালিকা করে জামুকায় পাঠানো হয়েছে। অনিয়মের বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এখন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বাছাই কমিটির সভাপতি এম আফজাল হোসাইন ও সদস্য এম এ খালেক খান অর্থবাণিজ্যের কথা অস্বীকার করে বলেন, অভিযোগকারীদের নিয়ে ৫৩ জনের তালিকা করা হয়েছে। তাদের স্বার্থহানী ঘটায় এখন আমাদের নামে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা