kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৯ বৈশাখ ১৪২৮। ২২ এপ্রিল ২০২১। ৯ রমজান ১৪৪২

কাঁকড়া-শালুক খাওয়া সেই বৃদ্ধা পেলেন মাথা গোজার ঠাঁই

বেনাপোল প্রতিনিধি   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৭:৩৬ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কাঁকড়া-শালুক খাওয়া সেই বৃদ্ধা পেলেন মাথা গোজার ঠাঁই

যশোরের বেনাপোলে দীর্ঘ ৮ মাস খোলা আকাশের নিচে বসবাস ও কাঁকড়া, শালুক ফল খেয়ে বেঁচে থাকা কবিতা নামের এক বৃদ্ধা মায়ের জন্য একচালা টিনের ছাউনি বিশিষ্ট শান্তি নিবাস গড়ে দিলেন দেশ সেরা উদ্ভাবক মিজানুর রহমান। ঘরটির নাম দিলেন 'মা কবিতা শান্তি নিবাস’। 

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বেনাপোল বাইপাস সড়কের পাশেই জমিদাতা আব্দুল্লাহ মোল্লা স্বপনসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ একত্রিত হয়ে ফিতা কাটার মধ্যে দিয়ে শান্তি নিবাসের উদ্বোধন করেন। এর আগে কবিতাকে নিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় কাঁকড়া খাওয়ার সংবাদ প্রকাশ হলে আলোচনার ঝড় ওঠে বেনাপোলসহ শার্শা এলাকাজুড়ে। তবুও কোনো মহানুভবতার হাত এগিয়ে আসেনি এই অসহায় কবিতার কাছে। খোলা আকাশের নিচে থেকে তাকে উদ্ধার করে তার মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দেয়নি কেউ। গোটা শীত তিনি এই অবস্থাতেই ছিলেন। তবে কারো নজরে না আসলেও ফেসবুকে ওই বৃদ্ধার কাঁকড়া খাওয়ার খবরটি পেয়ে প্রথম তাকে দেখতে আসেন শার্শা এলাকার মানবতার ফেরিওয়ালা নামে পরিচিত মিজানুর রহমান। তিনিই ওই নারীর পাশে দাঁড়িয়ে সেই মহৎ কাজটি করলেন। প্রবাসীদের সহযোগিতায় তিনি করে দিলেন ‘মা কবিতা শান্তি নিবাস’ নামে একটি বসতবাড়ি। তিন দিন ধরে বাঁশ-খুঁটি-টিন দিয়ে গড়ে তোলা ঘরটি এখন একটি দৃষ্টান্ত। 

শুধু তাই নয়। এই কাঁকড়া খাওয়া মায়ের নিরাপদ পানির জন্য টিউবওয়েল এবং পরিচ্ছন্ন টয়লেটের ব্যবস্থা করেছেন মিজানুর। নতুন ঘরের জন্য লেপ, কম্বল, বালিশ নিয়ে কবিতার পাশে দাঁড়ালেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন। সেই সাথে প্রতিদিন খাবারের ব্যবস্থা করছেন তারা। 

এ সময় মিজানুর রহমান বলেন, মানবসেবা বড় সেবা। পৃথিবীতে কেউ কিছু নিয়ে আসেনি আর নিয়েও যাবে না। তাই আসুন আমাদের সমাজে যারা অসহায় অবহেলিত আছে তাদের পাশে এসে দাঁড়াই এবং সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেই। 

এই মহতী উদ্যোগে আর্থিক সহযোগিতা যারা করেছেন তাদের মধ্যে আছেন বিশেষ করে ফুড ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা প্রবাসী শাহপরান, ঝিকরগাছা ব্লাড ব্যাংক ফাউন্ডেশন, তরুণ সমাজ সেবক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলমগীর, বাংলাদেশ পুলিশ সদস্য সোহাগ হোসেন। তাকে নতুন বাড়ি দেয়ার অনুষ্ঠানে আলমগীর হোসেন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ডা. বিল্লাল হোসেন, আব্দুল মালেক, মিডিয়াকর্মীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা