kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৯ বৈশাখ ১৪২৮। ২২ এপ্রিল ২০২১। ৯ রমজান ১৪৪২

সংবাদ সম্মেলনে দাবি ভাইয়ের

'বাঁচার আকুতি জানিয়েছিলেন মুজাক্কির, এগিয়ে আসেনি কেউ'

নোয়াখালী প্রতিনিধি   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৩:২৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'বাঁচার আকুতি জানিয়েছিলেন মুজাক্কির, এগিয়ে আসেনি কেউ'

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে তাঁর পরিবার। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় নোয়াখালী জেলা প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, নিহতের বড় ভাই নূর উদ্দিন মুহাদ্দিস।

তিনি জানান, গত শুক্রবার উপজেলার চাপরাশিরহাট পূর্ব বাজারে আওয়ামী লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষের সময় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন মুজাক্কির। এ সময় আহত মুজাক্কির বাঁচার জন্য বারবার আকুতি জানালেও উপস্থিত স্থানীয় লোকজন, জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ সদস্যরা তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গুলিবিদ্ধ হয়ে দীর্ঘসময় বাজারে পড়ে থাকার কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মুজাক্কির মারা যান।

মুজাক্কির সংঘর্ষে লিপ্ত কোনো গ্রুপের কর্মী ছিলেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, মুজাক্কির পড়ালেখার পাশাপাশি সংবাদিকতা করত। কিন্তু সে কোনো দল বা গ্রুপের কর্মকাণ্ডের সঙ্গর জড়িত ছিল না।

নিহতের পিতা মাওলানা নূরুল হুদা ওরফে মো. নোয়াব আলী মাস্টার জানান, ঘটনার সময় তিনি বা তার পরিবারের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা দেখেননি। তবে যে বা যারা এ খুনের সঙ্গে জড়িত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিচারের দাবি করেন তিনি।

মুজাক্কিরের মা মমতাজ বেগম বলেন, আমার আদরের ছোট ছেলে মারা যাওয়ার পর গতকাল (বুধবার) আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে একটি ভিডিও দেখেছিলাম। ভিডিওতে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি তাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে মারধর করছে। ওই হামলাকারী তাকে বলে, ‘তোর কোন বাবা আছে? আমি ওই হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করার জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ করছি।'

আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর আগেও একবার শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির। গত ২০১৯ সালের ১৩ সেপ্টেম্বরের মুজাক্কিরকে নির্যাতনের এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে এখন ভাইরাল।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত (ওসি) মীর জাহিদুল হক রনি বলেন, মুজাক্কিরকে নির্যাতনের ভিডিওটি ইতিমধ্যে আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। ভিডিওটিতে দেখা গেছে, উপজেলার কথিত সাংবাদিক রাসেল (হাসান ইমাম রাসেল) মুজাক্কিরকে গালাগাল ও মারধর করছে। ওই দোকানটা বসুরহাট বাজারের অন্য একজন সাংবাদিকের। ওই সাংবাদিক আমাদের জানিয়েছেন, মুজাক্কিরকে রাসেল মারধর করতে দেখে তিনি এসে বিষয়টি সমাধান করে দিয়েছিলেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভিডিওটি দেখছে। অপরাধী যে-ই হোক না কেন, তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা