kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

ইউএনওর পাশের কক্ষে খুন ইউপি সদস্য

রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে এই খুনের জন্য সন্তুর জনসংহতিকে দায়ী করেছে এমএন লারমা গ্রুপ

রাঙামাটি প্রতিনিধি    

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০২:৩২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইউএনওর পাশের কক্ষে খুন ইউপি সদস্য

রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কক্ষে ঢুকে গুলি করে এক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত ব্যক্তির নাম সমর বিজয় চাকমা (৩৮)। তিনি উপজেলার রূপকারি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য। গতকাল বুধবার দুপুর ১টায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত সমর বিজয় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরনবী সরকার বলেছেন, ‘ইউপি সদস্য সমর আমার সঙ্গে প্রকল্পের বিষয়ে কথা বলছিলেন। এ সময় দুই-তিনজন দরজার বাইরে থেকে উঁকি দিচ্ছিল এবং একজন রুমে প্রবেশ করে সমর বিজয়ের বুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।’

বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদ ভবনের দ্বিতীয় তলায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় অবস্থিত। এই কার্যালয়ের তিনটি কক্ষের পরেই একটি কক্ষে অফিস করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরিফুল ইসলাম।

ইউএনও শরিফুল ইসলাম বলেছেন, ‘প্রকল্পের বিষয়ে কথা বলতেই ইউপি সদস্য কার্যালয়ে এসেছিলেন, কিন্তু দুজন মোটরসাইকেল আরোহী এসে তাঁকে অফিসেই গুলি করে হত্যা করে চলে যায়।’

বাঘাইছড়ি থানার ওসি আনোয়ার হোসেন খান বলেছেন, ‘আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসি এবং ইউপি সদস্যকে গুলিবিদ্ধ ও মৃত অবস্থায় চেয়ারেই পড়ে থাকতে দেখি।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) কেন্দ্রীয় কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান সুদর্শন চাকমা নিহত সমরকে তাঁদের সহযোগী সংগঠন যুব সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা দাবি করে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে সন্তু লারমা সমর্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র ক্যাডারদের দায়ী করেন।

পরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটির বাঘাইছড়ি উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জোসি চাকমা হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, ‘হত্যাকারী দুর্বৃত্তসহ তাদের লেলিয়ে দেওয়া গডফাদার বড় ঋষি চাকমা, সন্তু লারমা, ঊষাতন তালুকদারকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

এই হত্যাকাণ্ডকে ‘প্রশাসনের নাকের ডগায়’ ও ‘উদ্বেগজনক’ মন্তব্য করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা)। হত্যাকাণ্ডের জন্য জনৈক মনিময় চাকমাকে দায়ী করেছে সংগঠনটি।

বিবৃতিতে জোসি বলেন, প্রশাসনিক কাজে সমর বিজয় চাকমা পিআইও অফিসে অবস্থান করছিলেন। এমন সময় মনিময় চাকমার নেতৃত্বে সন্তু লারমা দলের দু-তিনজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এসে ব্রাশফায়ার করলে সমর ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তিনি দাবি করেন, সমর তাঁদের সংগঠনের থানা কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

এর আগে সংগঠনটির মুখপাত্র জুপিটার চাকমা জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র ক্যাডার মনিময় চাকমার নেতৃত্বেই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে বলে দাবি করেন।

এসব দাবি সম্পর্কে কথা বলার জন্য সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির কোনো কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। সংগঠনটির বাঘাইছড়ি উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিপ চাকমা দাবি করেছেন, তাঁদের কোনো সশস্ত্র শাখা বা কর্মী নেই। পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য গণতান্ত্রিক আন্দোলন করছে তাঁরা। নিহত সমর তাঁর নিজ দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।

প্রসংগত, ২০০৯ সালে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতি থেকে বেরিয়ে গিয়ে সুধাসিন্ধু খীসা-তাতিন্দ্রলাল চাকমা পেলে এবং রূপায়ণ দেওয়ানের নেতৃত্বে একই নামে পৃথক আরেকটি দল গঠিত হয়। ‘সংস্কারপন্থী’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া দলটির নামের সঙ্গে ব্র্যাকেটবন্দি করা হয় ‘এমএন লারমা’। প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত ১২ বছরে দুই দলের পাল্টাপাল্টি হামলায় শতাধিক নেতাকর্মী নিহত হন, যাঁদের বেশির ভাগই জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা)। এর মধ্যে নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমা, সুদীর্ঘ চাকমার মতো গুরুত্বপূর্ণ নেতাও রয়েছেন।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বিচ্ছিন্নতাবাদ ইস্যু উঠবে ভারতের সঙ্গে বৈঠকে : দীর্ঘদিন শান্ত থাকার পর পার্বত্য চট্টগ্রামে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে এবং তাদের একটি অংশ ভারতে আশ্রয় নিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। আগামী শনিবার অনুষ্ঠেয় দুই দেশের স্বরাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, গত ডিসেম্বরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে বিষয়টি আলোচনা হয়েছিল। ওই সময় ভারতের মিজোরামে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ঘাঁটি আছে বলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়। আগামী শনিবার থেকে শুরু হওয়া বাংলাদেশ-ভারত স্বরাষ্ট্রসচিব পর্যায়ে দুই দিনের ভার্চুয়াল বৈঠকেও এ বিষয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা