kalerkantho

শনিবার । ২১ ফাল্গুন ১৪২৭। ৬ মার্চ ২০২১। ২১ রজব ১৪৪২

কৌশলে টিকা নিচ্ছেন ৪০ বছরের কম বয়সীরাও!

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১০:০৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কৌশলে টিকা নিচ্ছেন ৪০ বছরের কম বয়সীরাও!

করোনার ভ্যাকসিনের জন্য নিবন্ধন করতে পরিচয় যাচাইয়ের তালিকায় রয়েছে ১৯টি ধরন। এর মধ্যে প্রথম ধরনেই লেখা আছে নাগরিক নিবন্ধন (৪০ বছর বা তদূর্ধ্ব)। অর্থাৎ সাধারণ নাগরিকদের বেলায় ৪০ বছর বা এর বেশি বয়স হলেই শুধু তারা নিবন্ধন করে টিকা নিতে পারবেন।

তবে সাধারণ নাগরিক হয়েও ৪০ বছরের কম বয়সী ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার এক যুবক নিবন্ধন করে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে টিকা নিয়েছেন। কথা হলে জানালেন, ওয়েবসাইটে পরিচয় যাচাইয়ের নিবন্ধনের যে ১৯টি ধরন দেওয়া আছে এর একটিতেও তিনি পড়েন না। টিকা নেওয়া জরুরি মনে করে ভিন্ন পথ অবলম্বনের মাধ্যমে তিনি নিবন্ধন প্রক্রিয়া সারেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই যুবকের মতো ৪০ বছরের নিচের আরো অনেকেই ‘কৌশলে’ নিবন্ধন করে টিকা নিয়ে নিচ্ছেন। অনুমোদিত বেসরকারি ও প্রাইভেট স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা-কর্মচারী, মৃতদেহ সৎকারকার্যে নিয়োজিত ব্যক্তিসহ একাধিক ধরনের নিজেদের পরিচয় দিয়ে অনেকেই নিবন্ধন করে টিকা নিচ্ছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য কালের কণ্ঠের এ প্রতিবেদকও নিবন্ধনের ওয়েবসাইটটিতে ঢোকেন। ৩৬ বছর বয়সী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক গণমাধ্যম কর্মী সঠিক পরিচয় দিয়ে নিবন্ধন করতে চাইলে বয়সসংক্রান্ত কারণে সেটা সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করা হয়। পরক্ষণেই অনুমোদিত বেসরকারি ও প্রাইভেট স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিচয়ে তাঁর নিবন্ধন সম্পন্ন করা যায়। সোমবার ওই গণমাধ্যমকর্মীর টিকা নেওয়ার কথা থাকলেও ব্যস্ততার কারণে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে তিনি যেতে পারেননি। সোমবার বিকেলে পৌনে পাঁচটার দিকে ২৬ বছর বয়সী এক সংবাদকর্মীও একই ধরনের পরিচয়ে নিবন্ধন করেছেন।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালসহ ৯টি কেন্দ্রে একযোগে টিকা দেওয়া শুরু হয়। শনিবার নাগাদ টিকা নেন ২৩ হাজারের বেশি মানুষ। সোমবার দুই হাজারের বেশি মানুষ টিকা নেওয়ার কথা রয়েছে।

বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে ১০০৫টি কেন্দ্রে ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে একযোগে টিকাদান শুরু হয়েছে। সকাল আটটা থেকে বেলা আড়াইটা নাগাদ ওই সব কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হয়। প্রথম দফায় ৭০ লাখ টিকা নিশ্চিত করেছে সরকার। এর মধ্যে ভারতের উপহার ২০ লাখ টিকা। শুরুতে তিন কোটি মানুষের জন্য সরকার টিকা কেনা হয়েছে বলে সরকারের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রথমে নির্দিষ্ট একটি ওয়েব সাইটে ঢুকে টিকার জন্য নিবন্ধন করতে হয়। পরবর্তীতে মোবাইল ফোনে ম্যাসেজ দিয়ে জানিয়ে দেয়া হয় টিকা গ্রহনের তারিখ। নিবন্ধনের ফরমটি নিয়ে টিকা কেন্দ্রে গেলে পরবর্তী টিকা দেয়ার তারিখ সেটাতে লিখে দেয়া হয়।

ইংরেজিতে সুরক্ষা ডট গভ ডট বিডি (www.surokkha.gov.bd) নামে নির্দিষ্ট ওয়েব সাইটে গিয়ে নিবন্ধন করতে হয়। নিবন্ধনের পরিচয় যাচাইয়ের প্রথমেই লেখা আছে নাগরিক নিবন্ধন (৪০ বছর ও তদুর্ধ)। এরপর লেখা আছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী, অনুমোদিত বেসরকারি ও প্রাইভেট স্বাস্থ্য, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত সব সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মকর্তা-কর্মচারী, বীরমুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনা, সম্মুখসারির আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সামরিক বাহিনী, রাষ্ট্র পরিচালনার নির্মিত অপরিহার্য কার্যালয়, সম্মুখসারির গণমাধ্যমকর্মী, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার সম্মুখ সারির কর্মকর্তা-কর্মচারী, ধর্মীয় প্রতিনিধি (সব ধর্মের), মৃতদেহ সৎকারকার্যে নিয়োজিত ব্যক্তি, জরুরি বিদ্যুৎ, পানি গ্যাস, পয়োনিষ্কাশন ও ফায়ার সার্ভিসের সম্মুখসারির সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, রেলস্টেশন, বিমানবন্দর ও নৌবন্দরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, জেলা ও উপজেলাসমূহে জরুরি জনসেবায় সম্পৃক্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রবাসী অদক্ষ শ্রমিক, জাতীয় দলের খেলোয়াড়।

৪০ বছরের কম বয়সী একাধিক তরুণের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনুমোদিত বেসরকারি ও প্রাইভেট স্বাস্থ্য, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা-কর্মচারী, মৃতদেহ সৎকারকার্যে নিয়োজিত ব্যক্তি হিসেবে নিজের পরিচয় তুলে ধরে নিবন্ধন করেছেন। ইতিমধ্যেই অনেকে টিকা নিয়েছেন ও অনেকের মোবাইল ফোনে টিকা নেওয়ার তারিখ এসেছে। ওই দুটি ধরন ছাড়া অন্যগুলোতে নিবন্ধন করতে গেলে বয়সসীমার কথা উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরতে হয়। যে কারণে তারা অতি সহজেই উল্লিখিত দুই ধরনের পরিচয়ে টিকার জন্য নিবন্ধন করছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. মো. একরাম উল্লাহ সোমবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এভাবে নিবন্ধন করতে পারার বিষয়টি আমার জানা নেই। নিবন্ধনপ্রক্রিয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দেখভাল করে। এ ক্ষেত্রে আমাদের কিছু করারও নেই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা