kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১২ রজব ১৪৪২

জাবিতে চলছে ছয় দফার আন্দোলন

হামলাকারী গ্রামবাসীর নামে মামলা করেছে প্রশাসন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০৩:৩৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জাবিতে চলছে ছয় দফার আন্দোলন

ছয় দফা দাবি আদায়ে কঠোর আন্দোলনের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সব দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থেকে সরবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তাঁরা। গতকাল রবিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই ঘোষণা দেন।

এদিকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ছাড়া গতকাল বিকেলে ছাত্রীরা হলে ওঠার ঘোষণা দিলেও পরবর্তী সময়ে তাঁরা সিদ্ধান্ত পাল্টিয়ে আজ সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রশাসনকে হল খোলার আলটিমেটাম দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে না খুললে সব হলের (ছাত্রী) তালা ভেঙে নিজ নিজ আবাসিকে ওঠার ঘোষণা দিয়েছেন ছাত্রীরা। তবে ছাত্ররা গত শনিবার রাত থেকেই আবাসিক হলগুলোতে অবস্থান করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা নতুন করে যে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেছেন সেগুলো হলো, দ্রুত সন্ত্রাসী হামলার বিচার ও ভিডিও রেকর্ড দেখে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মামলা, গেরুয়াতে অবস্থান করা শিক্ষার্থীদের পুলিশি হেফাজতে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা, নিরাপত্তার স্বার্থে হল খুলে দেওয়া, আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ও ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের সব ক্ষতিপূরণ ব্যয় প্রশাসনকে বহন করা, ক্যাম্পাস ও আশপাশের সব শিক্ষার্থীর দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নেওয়া এবং যে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে, তার দায়ভার কর্তৃপক্ষকে নেওয়া।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিকেলে জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বিশ্ববিদ্যালয় বহন করবে, চিহ্নিত হামলাকারীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় আইনে মামলা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত পাওয়ার পরপরই হলগুলো খুলে দেওয়া হবে।

এদিকে গত শুক্রবার মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় অচেনা ২৫০ জনের নামে আশুলিয়া থানায় মামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, ‘যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় কোনো তদন্ত কমিটি করেনি কিংবা কে বা কারা এর সঙ্গে জড়িত সে বিষয়ে নিশ্চিত নয়, তাই অচেনাদের নামেই মামলা করা হয়েছে। এরপর পুলিশ যে পদক্ষেপ নেবে এর সঙ্গে প্রয়োজন হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত করবে।’

অন্যদিকে গেরুয়া গ্রামে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীরা যাতে কোনো খাবার খেতে না পারে, সে জন্য ওই গ্রামের সব খাবারের দোকান গতকাল রবিবার সকাল থেকে জোর করে বন্ধ করে দিয়েছে গ্রামবাসী।

গেরুয়া গ্রামে অবস্থানরত শিক্ষার্থী তরিক ফরহাদ বলেন, ‘আমরা ভয়ে বের হচ্ছি না। চুপ করে দোকানের পিছ দিয়ে ঢুকে খাবার নিতাম। দোকানিরা বলল, স্থানীয় লোকজন এসে জোর করে দোকান বন্ধ করে দিয়েছে। এ ছাড়া যেসব দোকান খোলা আছে, সেগুলো শুধু গ্রামে অবস্থানরত পুলিশের খাবারের জন্য খোলা রাখা হয়েছে।’

এদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ এবং উপাচার্যবিরোধী আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ শিক্ষার্থীদের ওপর স্থানীয়দের হামলার নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়ে বিচার দাবি করে বিবৃতি দিয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ফিরোজ উল হাসান বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা তো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিংবা রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের তোয়াক্কা করেনি। তারা নিজ দায়িত্বে হলের তালা ভেঙে ঢুকেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সরকারি নির্দেশনার অপেক্ষায় আছে।’

উল্লেখ্য, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন গেরুয়া এলাকায় ক্রিকেট খেলা নিয়ে স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে এক শিক্ষার্থীর মারামারি হয়। এ নিয়ে গত শুক্রবার মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় গ্রামবাসী। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসী মিলিয়ে অন্তত ৫০ জন আহত হন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা