kalerkantho

সোমবার । ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ৮ মার্চ ২০২১। ২৩ রজব ১৪৪২

নোবিপ্রবি গবেষকদের তৈরি পুষ্টিমান সমৃদ্ধ মাছের পাউডার ব্যবহারে ব্যাপক সাড়া

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি    

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৭:৪১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নোবিপ্রবি গবেষকদের তৈরি পুষ্টিমান সমৃদ্ধ মাছের পাউডার ব্যবহারে ব্যাপক সাড়া

বাঙালিকে বলা হয় মাছে-ভাতে বাঙালি। ভাতের সাথে মাছের বিভিন্ন রেসিপি ছাড়া যেন বাঙালির একদিনও চলে না। মাছ ভাজা, মাছের মুড়িঘণ্ট, ছোট মাছের চচ্চড়ি এসব  বাঙালির নিত্যদিনের আহার। ভোজন রসিক বাঙালির পাতে মাছের এসব রেসিপির সাথে এবার যুক্ত হলো পুষ্টিমান সমৃদ্ধ মাছের পাউডার।

সম্প্রতি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের(নোবিপ্রবি) একদল গবেষক তৈরি করেছেন উচ্চ পুষ্ঠিমান সমৃদ্ধ মাছের পাউডার। খাদ্য নিরাপত্তার সকল মানদন্ড বজায় রেখে পাউডারটি বিশ্ববিদ্যালয়টির ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের ল্যাবে তৈরী করা হয়েছে। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে বহুল ব্যবহৃত তরকারি ডাল, আলু, কচু শাক, লাল শাক, বেগুন, সীম, লাউ, চাল কুমড়া, ফুলকপি, মুলা, কচুরমুখী, সীমের বিচি ও ভর্তায় ফিশ পাউডারের ব্যবহার জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। মাছকে পাউডার হিসেবে তৈরি করায় সবাই সমান ভাগে মাছ খেতে পারবে। একসময় মাছের মাথা ও লেজ নিয়ে মনকষাকষি হলেও এখন আর তা হবে না।

বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরের চর আলেকজান্ডার ও নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি এবং পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় ১২০ টি পরিবারের প্রায় ৬ শতাধিক সদস্যদের মধ্যে সপ্তাহে জনপ্রতি ৪০ গ্রাম হারে গত ১৬ সপ্তাহ ধরে এই পাউডার বিতরণ করা হয়। নারীর ক্ষমতায়নের অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারী মহিলারা বিশেষ প্রণোদনা পেয়েছেন। গবেষণার প্রয়োজনে ২৪০ পরিবারের কিশোরী মেয়েদের রক্তের নমুনায় আয়রণ, জিংক, ভিটামিন-এ, ক্যালসিয়ামের উপস্থিতি নির্ণয় করা হয়েছে এবং ১৮ সপ্তাহ পর আগামী মার্চের দিকে পুনঃনমুনায়ন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট গবেষকরা জানিয়েছেন।

এদিকে আজ (১৯ ফেব্রুয়ারি) শুক্রবার দিনব্যাপী লক্ষ্মীপুরের চর আলেকজান্ডারে পুষ্টিমান সমৃদ্ধ মাছের পাউডার প্রযুক্তি প্রদর্শনী ও উদ্ধুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সুবিধাভোগী ৪০টি পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয়রা অংশগ্রহণ করেন। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি   বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মো. হানিফের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. দিদার-উল- আলম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ফারুক উদ্দিন। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের পরিচালক (পুষ্টি) ড. মো. মনিরুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন রামগতি পৌবসভার মেয়র মো. মেজবাহ উদ্দিন, নোয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবদুল মোতালেব, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট গবেষকরা।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় উপাচার্য বলেন, 'নবীন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে নোবিপ্রবির গবেষণা সাফল্য অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি পুষ্টিমান সমৃদ্ধ মাছের পাউডার নিয়ে চলমান গবেষণা কার্যক্রমকে আরো বেগবান ও জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।

বিশেষ অতিথি অধ্যাপক ড. ফারুক উদ্দিন বলেন, 'পুষ্টিমান সমৃদ্ধ মাছের পাউডার অতি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহায়ক হবে। এটি সস্থা ও সহজে সংরক্ষণ উপযোগী বিবায় রোহিঙ্গাদের মতো আর্তপীড়িত মানুষকে খাদ্য সাহায্য হিসেবে দেয়া যেতে পারে।'


বিশিষ্ট পুষ্টিবিজ্ঞানী ড. মনিরুল ইসলাম বলেন, 'ফিশ পাউডার ব্যবহারের যে জনপ্রিয়তা আজকে আমরা লক্ষ্য করলাম তা আমাকে আশাবাদী  করে তুলেছে। আগামী দিনে প্রজম্মের পুষ্টি চাহিদা রোধ ও উন্নত জাতি গঠনে মাছের তৈরী পুষ্টি পাউডার অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি। অনুষ্ঠানে বক্তারা মাছের পাউডারের স্বতঃস্ফুর্ত ব্যবহারের ভুয়সী প্রশংসা করেন।'

সুবিধাভোগীদের একজন কিশোরী সোনিয়া আক্তার। তিনি বলেন , 'আগে মাছের  মাথা ও লেজকে খাবে তা নিয়ে মনকষাকষি হতো কিন্তু পাউডারের খাবার অন্য খাবার থেকে সুস্বাদু ও সকলে সমান ভাগ পায়।'

রিনা বেগম নামের আরেক সুবিধাভোগী বলেন, 'মাছের পুষ্টি পাউডার দিয়ে রান্না করা খাবার আমাদের নতুন নতুন আইটেম যুক্ত করার সুযোগ করে দিয়েছে এবং আশেপাশের সবার এটা নিয়ে অনেক আগ্রহ।'

গবেষক দলের সদস্য ড. শহীদ সরোয়ার ও শুভ ভৌমিক বলেন, 'ফিশ পাউডার নিরাপদ পুষ্টি গুণে অন্যান্য মাছের থেকে অনেক উন্নত। বিশ্বাস করি এটি কিশোরী এবং অন্যান্য সুবিধাবঞ্চিতদের পুষ্টি সঙ্কট মোকাবেলায় উপকারে আসবে।' প্রকল্পের গবেষণা সহযোগী আবদুল আজিজ ও সাইদুজ্জামান সাব্বির বলেন, 'আমরা অংশগ্রহণকারী পরিবারেরসমূহের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করেছি যা সত্যিই আশাব্যঞ্জক। 

ফিশ পাউডার স্থায়িত্বশীল ব্যবহারের ব্যাপারে আশাবাদী প্রকল্পের প্রধান গবেষক ড. আবদুল্লাহ-আল মামুন৷ তিনি বলেন, 'ফিশ পাউডার স্থায়িত্বশীল ব্যবহারের বেশ আশাবাদী আমরা। শিল্প উদ্যোক্তারা এতে অংশগ্রহণ করলে সহজেই মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে ফিশ ফাউডার। আশা করি শিল্প উদ্যোক্তারাও এ কাজে অংশগ্রহণ করবে।'

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা