kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭। ৪ মার্চ ২০২১। ১৯ রজব ১৪৪২

চুনারুঘাটে ১৬৮ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্মিত হলো শহীদ মিনার

জাহাঙ্গীর আলম, চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ)    

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৬:০৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চুনারুঘাটে ১৬৮ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্মিত হলো শহীদ মিনার

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার ১৬৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে টাইলসসহ নির্মাণ করা হয়েছে শহীদ মিনার। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই  উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে কোনো স্থায়ী শহীদ মিনার ছিল না। ফলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারত না বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনোটিতে কলাগাছ কিংবা বাঁশ-কাঠ দিয়ে অস্থায়ীভাবে শহীদ মিনার বানিয়ে দিবস পালন করা হতো। আবার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে পতাকা উত্তোলন করে দিবস পালন করা হতো।

এবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে স্থায়ীভাবে নির্মিত শহীদ মিনারে শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাবে শিক্ষার্থীরা। তাদের এ সুযোগ করে দিয়েছে উপজেলা শিক্ষা বিভাগ। এডিবির ক্ষুদ্র মেরামত ও সামাজিক সহযোগিতার অর্থায়নে প্রতিষ্ঠানগুলোতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে তৈরি করে দেওয়া হয়েছে শহীদ মিনার।

উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ১৭১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৪টি বিদ্যালয়ে স্থানীয়ভাবে শহীদ মিনার নির্মাণ আগেই করা হয়। বাকি বিদ্যালয় গুলোতে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কোনো শহীদ মিনার ছিল না। উপজেলা শিক্ষ বিভাগ উদ্যোগ নেয় মুজিববর্ষে শহীদ মিনার নির্মাণের।

উপজেলা পরিষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২০১৯-২০ অর্থবছরে ক্ষুদ্র মেরামত এবং স্থানীয় সহযোগিতার টাকায় সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সম্প্রতি বরাদ্দ এলে দ্রুত উপজেলার ১৬৮ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে টাইলসসহ নির্মাণ করা হয় শহীদ মিনার। প্রত্যেকটি শহীদ মিনার নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা। এ শহীদ মিনার নির্মাণ হওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা খুশি।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদ রানা বলেন, বিভিন্ন জাতীয় দিবসে বীর শহীদদের প্রতি কোমলমতি শিশুরা যাতে শ্রদ্ধা জানাতে পারে এবং দিবসগুলোর তাৎপর্য উপলব্ধি করতে পারে, সেজন্য শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। ১৭১ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৬৮ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্মাণ করা হয়েছে শহীদ মিনার। মামলার জটিলতার কারণে ৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করা যায়নি। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সত্যজিত রায় দাশ বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোতে আগে শহীদ মিনার ছিল না। উপজেলা শিক্ষা বিভাগের ক্ষুদ্র মেরামত ও স্থানীয়ভাবে অর্থ সংগ্রহের মাধ্যমে শহীদ মিনার তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। খুব সুন্দর কাজ হয়েছে। বিদ্যালয় চত্বরে শহীদ মিনার নির্মাণ হওয়ায় এখন থেকে স্কুলের শিক্ষার্থীরা জাতীয় দিবস গুলোর তাৎপর্য ও শহীদদের সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা