kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭। ২ মার্চ ২০২১। ১৭ রজব ১৪৪২

ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়, দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা

রাজৈর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২০:২১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়, দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা

মাদারীপুরে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে এক বিকাশ এজেন্টের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়ার ঘটনায় মামলা করেছেন ওই ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী। বৃহস্পতিবার দুপুরে মাদারীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাঈদুর রহমান এর আদালতে মামলটি করে সুজন শেখ নামে ওই ব্যবসায়ী। সুজন শেখ ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ভাড়ইভাংগা গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে। মামলার আসামিরা হলো দত্তপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের এএসআই মাহাবুব ও কনস্টেবল সোহাগ এবং শিবচরের সূর্য্যনগর এলাকার টুম্পা টেলিকম অ্যান্ড মোবাইল কর্নারের মালিক টোকান বেপারী।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দুপুর ৩টার দিকে পদ্মাসেতু ভ্রমণ করে মোটরসাইকেলযোগে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন ব্যবসায়ী সুজন। মাঝপথে মাদারীপুরের শিবচরের সূর্য্যনগর এলাকায় আসলে সুজন মোটরসাইকেল থামিয়ে রাস্তার পাশের একটি দোকানে চা পান করছিল। এ সময় সাদা পোশাকে থাকা দত্তপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের এএসআই মাহাবুব ও কনস্টেবল সোহাগ মোটরসাইকেলের কাগজপত্র দেখতে চান। সুজন কাগজপত্র দেখালে তা সঠিক নয় উল্লেখ করে ওই দুই পুলিশ সদস্য এটি চোরাই মোটরসাইকেল বলে দাবি করে। পরে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন ওই দুই পুলিশ সদস্য। সুজন চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সুজনকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখায় মাহাবুব ও সোহাগ। পরে সুজনের সাথে থাকা বিকাশের টাকা পাশের টোকান বেপারীর দোকানে গিয়ে মোবাইল থেকে বেশ কয়েকটি ম্যাসেজের মাধ্যমে এক লাখ ১০ হাজার টাকা তুলে নেয় ওই দুই পুলিশ সদস্য। পরে এ ঘটনা কাউকে যেন না বলে সুজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ওই দিনই শিবচর থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ কোনো পরামর্শ না দিয়ে চলে যেতে বলে। পরবর্তীতে সুজন শেখ বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার মাদারীপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাঈদুর রহমান এর আদালতে মামলটি করেন। মামলাটির শুনানি শেষে বিচারক পরবর্তী তারিখের জন্য দিন ধার্য রেখেছেন।

মামলার বাদী সুজন শেখ জানান, কোনো কারণ ছাড়াই মোবাইল থেকে বিকাশের মাধ্যমে নগদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা তুলে নেয় ওই দুই পুলিশ সদস্য। যার প্রমাণ আদালতে মামলার নথির সাথে দেওয়া হয়েছে। মূলত তারা ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে এই টাকা নিয়েছে।

শিবচরের দত্তপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ এমদাদুল হক বলেন, ওই ব্যবসায়ীর সাথে আমাদের তদন্তকেন্দ্রের দুই পুলিশ সদস্যের ভুলবুঝাবুঝি হয়েছে। এর কারণেই ব্যবসায়ী আদালতে মামলা দায়ের করেছে। আমাদের বড় অফিসাররা রয়েছে, তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মো. আব্দুল হান্নান জানান, কোনো পুলিশ সদস্যের ব্যক্তিগত দায়ভার বাংলাদেশ পুলিশ নেবে না। যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, মামলার কপি হাতে পেলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা