kalerkantho

সোমবার । ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭। ১ মার্চ ২০২১। ১৬ রজব ১৪৪২

রামগড় সীমান্তে অবাধে চলছে চোরাচালান, ১৪ ভারতীয় গরু আটক

শ্যামল রুদ্র, রামগড় (খাগড়াছড়ি)   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৯:৪৭ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



রামগড় সীমান্তে অবাধে চলছে চোরাচালান, ১৪ ভারতীয় গরু আটক

খাগড়াছড়ির রামগড় পৌরসভার বল্টুরাম সীমান্ত এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে ১৪টি ভারতীয় গরু (৭টি গাভী এবং ৭টি বাছুর) উদ্ধার করেছে রামগড় ৪৩ (বিজিবি)।

বিজিবি সূত্র জানায়, ৪৩ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের নায়েব সুবেদার মোহাম্মদ ঠান্ডু মিয়ার নেতৃত্বে বিজিবির একটি টহলদল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রামগড় পৌরসভার বল্টুরাম এলাকার হক টিলা নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে ১৪টি ভারতীয় গরু আটক করে।

অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া  নায়েব সুবেদার মোহাম্মদ ঠান্ডু মিয়া জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে  গরু গুলোকে  উদ্ধার করি।আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাচালানকারীরা পালিয়ে যায়। গরুগুলোকে উদ্ধার করে রামগড় বিজিবির সদর দপ্তরে নেওয়া হয়েছে এবং রামগড় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামগড় উপজেলার বল্টুরাম, কাশিবাড়ী ও ফেনীর কুল সীমান্ত দিয়ে কাঁটাতারের বেড়ার শেষাংশসহ বিভিন্ন স্থানের ফাঁক ফোকর ব্যবহার করে চোরাকারবারিরা বিএসএফ ও বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে ভারত থেকে আনছে গরু, শাড়ি, বিভিন্ন গাড়ির যন্ত্রাংশ ও মাদকদ্রব্য। স্থানীয় বাজার এবং চট্টগ্রামের বিভিন্নস্থানে বেচাকেনাও হচ্ছে ভারতীয় গরু, শাড়ি এবং গাড়ির যন্ত্রাংশ। মাদকদ্রব্য বিক্রি হচ্ছে গোপনে। এসব চোরাকারবারির আধিপত্য নিয়ে তাদের মধ্যেও রয়েছে অন্তঃদন্দ। এর মধ্যে শাড়ি এবং গরু চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করছে স্থানীয় একটি মাদক ব্যবসায়ী চক্র। স্থানীয়রা কেউ তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারে না বলে জানান অনেকে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এক শিক্ষার্থী তার এলাকা বল্টুরাম হওয়ায় সম্প্রতি  ছুটিতে বাড়িতে এসে মাদক নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করার চেষ্টা করায় এলাকার চিহ্নিত কিছু মাদক ব্যবসায়ী তাকে বেদম প্রহার এবং লাঞ্চিত করে।

স্থানীয় একাধিক এলাকাবাসী জানান, চোরাকারবারীরা হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে টাকা পাঠিয়ে এদেশে আনছে মাদকদ্রব্য শাড়ি, গরু এবং গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। রয়েছে জীবনের ঝুঁকি। তবুও থেমে নেই ভারত থেকে চোরাইপথে অবৈধ ব্যবসা। স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তায় অবাধে মাদকদ্রব্য এবং গরু চোলাচালানের এই রমরমা ব্যবসা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে। এলাকার সাধারণ মানুষজন এতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে।

রামগড় ৪৩ বিজিবি উপঅধিনায়ক মেজর সৈয়দ মনিরুল হাসান জানান, যেসব বিজিবি সদস্য গরুগুলো আটক করে তাদের সঙ্গে আমার কথা হয়নি। পরে সাংবাদিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা