kalerkantho

শুক্রবার । ১০ বৈশাখ ১৪২৮। ২৩ এপ্রিল ২০২১। ১০ রমজান ১৪৪২

কৃষি অফিসের জায়গায় সাবেক চেয়ারম্যানের বাসভবন-মার্কেট নির্মাণ

বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২২:১৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কৃষি অফিসের জায়গায় সাবেক চেয়ারম্যানের বাসভবন-মার্কেট নির্মাণ

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের সিড স্টোরের সরকারি জায়গা দখল করে নির্মাণ করেছে বাসভবন। সিড স্টোরের পাকা ভবন গায়েব করে দিয়ে প্রভাবশালী মহল ওই জায়গা দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে ওই এলাকায় কোনো সিড স্টোর না থাকায় ওই এলাকার কৃষকেরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। সম্প্রতি বোয়ালমারী উপজেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় এ ব্যাপারে আলোচনার পর বিষয়টি নজরে এসেছে কর্তৃপক্ষের।

জানা গেছে, উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের ধর্মহাটি মৌজায় ভীমপুর বাজারের সংলগ্ন প্রায় ১৪ শতাংশ জমির উপর গড়ে তোলা হয়েছিল এই সিড স্টোরটি। এখানে সিড স্টোরের পাকা ভবনের হলরুম, গোডাউন ও একজন ব্লক সুপার ভাইজার থাকার কোয়ার্টার ছিল। একজন ব্লক সুপারভাইজারও সেখানে থাকতেন।

আজ বুধবার সরেজমিনে দেখা গেছে, ধর্মহাটি মৌজার সিড স্টোরের ওই ভবনের বর্তমানে কোনো অস্তিত্ব নেই। ঘোষপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান সরদার মজিবর রহমান ওই জমি দখলে নিয়ে কিছু অংশ জুড়ে পাকা বাসভবন নির্মাণ করেছেন। আর অবশিষ্ট জমিতে তিনি বাগান ও একটি দ্বীতল মার্কেট ভবন নির্মাণ করেছেন।

জানতে চাইলে মজিবুর রহমান সিড স্টোরের পাকা ভবন থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, তার পিতা মরহুম সরদার মোজাম্মেল হোসেনের প্রচেষ্টাতে তাদের জমিতে ওই সিড স্টোর তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু ঘূর্ণিঝড়ে সিড স্টোর নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর সেটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এরপর সেটি ভেঙে ফেলা হয়। তিনি বলেন, যদি পরবতীতে সিড স্টোর তৈরি করা হয় সেজন্য পাশের ভীমপুর বাজারে তিনি কিছু জমিও দিয়েছেন।

তবে মজিবুর রহমানের দাবি অনুযায়ী ভীমপুর বাজারে সিড স্টোরের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। রাস্তার পাশের কয়েকটি দোকান ঘর দেখিয়ে স্থানীয়রা জানান, এই জমি সিড স্টোরকে দেওয়া হয়েছে বলে তারা জেনেছেন। তবে এইসব দোকানিরা কিভাবে ওই জমিতে দোকান ঘর তুলে ব্যবসা করছেন তা তারা জানেন না। আর মজিবর রহমান বলছেন, বাজার মেলানোর স্বার্থে অস্থায়ী ভিত্তিতে এসব ঘর তোলা হয়েছে।

ঘোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফারুক হোসেন বলেন, তাঁর এলাকাটি কৃষি প্রধান অঞ্চল। একারণেই এখানে এই সিড স্টোরটি স্থাপন করা হয়েছিল। তিনি বলেন, শোনা যাচ্ছে, সিড স্টোরটি বিনিময় করা হয়েছে কিন্তু এটি কি করতে পারে কিনা সেটিই প্রশ্ন। এব্যাপারে উপজেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় সিড স্টোরটি পুনরুদ্ধারের জন্য আবেদন করা হয়েছে।

বোয়ালমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় কালের কণ্ঠকে বলেন, দীর্ঘদিন যাবত সিড স্টোরটির জমি বেদখলে রয়েছে। সম্প্রতি উপজেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভবনটি কিভাবে ভেঙে ফেলে জমি দখল করা হয়েছে সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আর সরকারি জমিও ‘সিড স্টোর’টি ফিরে পেতে আইগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা