kalerkantho

শুক্রবার । ২০ ফাল্গুন ১৪২৭। ৫ মার্চ ২০২১। ২০ রজব ১৪৪২

আসামিদের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে বাদীর পরিবার

পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৬:২৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আসামিদের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে বাদীর পরিবার

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার আহুতিয়া গ্রামের মজনু মিয়ার বসত ঘরে হামলা চালায় প্রতিপক্ষ অহিদুজ্জামানের লোকজন। ডানে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত অন্তাঃসত্ত্বা রেখা কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে শয্যাসায়ী, ছবি: কালের কণ্ঠ

জমি দখল নেওয়া ও হামলার বিচার চেয়ে মামলা করে আসামিদের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে বাদীর পরিবার। এ ঘটনায় আজ রবিবার সকালে সাংবাদিকদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন বাদী ইসরাত জাহান ও স্বজনরা। ঘটনাটি ঘটে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের আহুতিয়া গ্রামে। 

স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির সীমানা নিয়ে মজলু মিয়ার সঙ্গে তার ছোটভাই অহিদুজ্জামানের বিরোধ চলে আসছে। ওই বিরোধের জেরে গত চার ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে অহিদুজ্জামান তার পরিবারের ৫-৬ জন লোক নিয়ে বাড়ির উঠানে মজলু মিয়ার ভোগদখলীয় জায়গায় বেড়া দেওয়ার চেষ্টা চালান। এ সময় মজলু মিয়ার স্ত্রী সুফিয়া বাধা দিলে অহিদুজ্জামানের হুকুমে তার ছেলে আলভী সুফিয়াকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন। অন্যরা লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকেন। এ সময় মাকে বাঁচাতে মেয়ে ইসরাত জাহান ও অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে রেখা এগিয়ে গেলে আলভী ও তার অপর চাচাতো ভাই মুন্না রেখাকেও রামদা দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। অন্যরা লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটান। 
অহিদুজ্জামান রেখার তলপেটে কয়েকটি লাথি দেয়। এতে রেখার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। পরে তারা মজলু মিয়ার দক্ষিণ ভিটের একটি ঘরে ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি করে। এক পর্যায়ে আলভী ও মুন্না স্টিলের সুকেসের তালা ভেঙে পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ সাড়ে ৬ লাখ টাকা নিয়ে যায়। আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তারা চলে যায়। পরে তাদের উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানে তারা এখনও চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় মজলু মিয়ার বড় মেয়ে ইসরাত জাহান বাদী হয়ে আট ফেব্রুয়ারি সোমবার কিশোরগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এ অহিদুজ্জামানসহ পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার পর থেকে বাদীসহ বাদীর পরিবারকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। 

বাদী ইসরাত জাহান বলেন, আসামিরা সম্পর্কে আমার চাচা ও চাচাতো ভাই হলেও তারা অত্যান্ত দুর্ধর্ষ, দাঙ্গাবাজ, উশৃঙ্খল ও পরধনলোভী। পক্ষান্তরে আমার বাবা একজন নিরীহ প্রকৃতির মানুষ। এ সুযোগে তারা আমাদের জমিজমা দখল করে নিয়ে যেতে চায়। বাধা দেওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন চালিয়ে আসছে। সম্প্রতি আমাদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা করায় আসামিরা আমাদেরকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। তাদের ভয়ে আমাদের পরিবারের কেউ বাড়ি যেতে সাহস পাচ্ছে না। 

এ ব্যাপারে পাকুন্দিয়াধীন আহুতিয়া তদন্তকেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক এসআই মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে এখনও কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা