kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

সরকারি পাকা ঘর পেয়ে খুশিতে আত্মহারা প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক, তবুও দুশ্চিন্তা...

দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি    

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৫:০৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সরকারি পাকা ঘর পেয়ে খুশিতে আত্মহারা প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক, তবুও দুশ্চিন্তা...

জন্ম থেকেই বাকপ্রতিবন্ধী নাজমা বেগম বয়স (২৫)। একবার বিয়ে হয়েছিল। কিছুদিন পর স্বামী তাকে রেখে চলে যান। বিধবা মায়ের প্রতিবন্ধী মেয়ে কোনো উপায় না পেয়ে ঢাকায় চলে যান ভিক্ষা করতে। মা আর প্রতিবন্ধী মেয়ে মিলে ভিক্ষা করে জীবনের চাকা ঘুরছিল। সারাদিন ভিক্ষা করে ঢাকার অলিগলি আর বস্তির খুপরিতে কেটে গেছে জীবনের অর্ধেক রাত। মানুষের বাড়ির উচ্ছিষ্ট খাবার খেয়ে কেটে গেছে দিন। এভাবেই ১৫ বছর পার করে ক্লান্ত নাজমা আর তার মা ফসিরন বেওয়া (৫৫) বাড়ি ফিরে আসার পথ খুঁজছিলেন। ফসিরন বেওয়ার দুই মেয়েই প্রতিবন্ধী। স্বামী মারা গেছেন বহু বছর আগে। ঘরে নেই কোনো ছেলে সন্তান। ঘর নেই বাড়ি নেই, সংসার চলবে কীভাবে- এসব ভেবে আর গ্রামে আসা হয় না। 

ভূমিহীন গৃহহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মুজিববর্ষের ঘরের কথা শুনে বুকে আশার জাল বুনতে থাকেন প্রতিবন্ধী নাজমা। ফিরে আসেন দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চুকাইবাড়ী ইউনিয়নের বালু গ্রামে। স্থানীয় সেলিম চেয়ারম্যান নাজমার জন্য ঘরের ব্যবস্থা করে দেন। দেওয়ানগঞ্জ ফুটানি বাজার সড়কের সাথেই দৃষ্টিনন্দন ঘরটি যেতেই সবার চোখে পড়ে। নতুন পাকা ঘর পেয়ে খুব খুশি অসহায় নাজমা। চোখে মুখে আনন্দের ঝিলিক এই ভিক্ষুকের। কথা বলতে পারে না তবু বহু কষ্টে মুখ বেঁকিয়ে দু-হাত তুলে দোয়া করছেন প্রধানমন্ত্রীর জন্য।

তবে সামনের দিনগুলো কীভাবে যাবে এই নিয়ে দু'চোখে ঝাপসা দেখছেন নাজমা ও তার পরিবার। এখন হাট বাজারে এর ওর কাছে চেয়ে নিয়ে দিন চলছে। মাথার ওপর ৩৫ হাজার টাকার ঋণের বোঝা। একটা চাউল নেই ঘরে। কী খাবে কীভাবে যাবে দিন- এই চিন্তায় নতুন ঘরে ওঠার আনন্দ মাটি হয়ে যাচ্ছে তাদের।

নাজমার মায়ের দাবি, ঘর পেয়ে আমার মেয়ে আমি খুব খুশি। এখন সংসার চলার মতো একটা ব্যবস্থা করে দিলে আমার খুব উপকার হতো। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এনামুল হাসান জানিয়েছেন, বেশিরভাগ ঘরের কাজ হয়ে গেছে। নতুন কিছু ঘরের কাজ বাকি আছে। শিগগিরই সব কাজ শেষ হলে হস্তান্তর করা হবে।

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ কে এম আব্দুল্লাহ বিন রশিদ কালের কণ্ঠকে জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার দেশে কোনো গৃহহীন থাকবে না। সেই নির্দেশনাই আমরা বাস্তবায়ন করছি। আমরা যথাযথ ব্যক্তিদের হাতেই ঘর তুলে দিয়েছি। মুজিববর্ষের ঘর পাওয়া প্রতিবন্ধী নাজমার জন্য আরো কী করা যায়, আমরা সেই ব্যবস্থা নেবো।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সোলায়মান হোসেন বলেন, কেউ কোনদিন ভাবেনি সরকার ফ্রি ঘর কাউকে দেবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই অসম্ভবকে বাস্তবে পরিণত করেছেন। আমরা সবাই মিলে এই প্রকল্পকে বাস্তবায়িত করছি। আশা করছি, এই মুজিববর্ষের ঘরগুলো  ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে থাকবে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা