kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭। ৪ মার্চ ২০২১। ১৯ রজব ১৪৪২

গৃহবধূকে হত্যার পর ধামাচাপা, চার দিন পর লাশ উত্তোলন

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০৫:৩১ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



গৃহবধূকে হত্যার পর ধামাচাপা, চার দিন পর লাশ উত্তোলন

লক্ষ্মীপুরে দাফনের চার দিন পর কবর থেকে সুমাইয়া আক্তার (২০) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। সুমাইয়াকে হত্যার ঘটনা দামাচাপা দিতে স্ট্রোকের নাটক সাজিয়ে তড়িঘড়ি করে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে কবর দে‌ওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সুমাইয়ার মা কোহিনূর বেগম খুকি চন্দ্রগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ মামলার একমাত্র অভিযুক্ত সুমাইয়ার শ্বশুর আমির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে লক্ষ্মীপুর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বুধবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামে শ্বশুরবাড়ির পারিবারিক কবরস্থান থেকে সুমাইয়ার মরদেহ উত্তোলন করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিপা মণি দেবী, চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বেলায়েত হোসেন ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

মৃত সুমাইয়া সদর উপজেলার উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের হানিফ মিয়াজি এলাকার আবু হোসেনের মেয়ে।

পুলিশ ও মামলা সূত্র জানায়, প্রায় ৩ বছর আগে বশিকপুর ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে তুহিনের সঙ্গে সুমাইয়ার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দেড় বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। তুহিন ঢাকার একটি বেসরকারি কম্পানিতে চাকরি করেন। বিয়ের পর থেকেই শ্বশুর আমির প্রায়ই সুমাইয়াকে বকা দিতেন। শুক্রবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে একপর্যায়ে সুমাইয়াকে তার শ্বশুর পিটিয়ে হত্যা করে। ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য স্ট্রোকের ঘটনা সাজিয়ে পর দিন ৬ ফেব্রুয়ারি সকালে শ্বশুর বাড়ির লোকজন সুমাইয়ার মরদেহ তড়িঘড়ি করে কবর দিয়ে দেয়। কিন্তু দাফনের পর সুমাইয়ার মা কোহিনূর বেগম হত্যার অভিযোগ এনে আমিরের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে আমিরকে গ্রেপ্তার করে। পরে আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত লাশ উত্তোলন করে সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়।

নিহতের মা কোহিনূর বেগম খুকি বলেন, আমার মেয়েকে হত্যার পর স্ট্রোকের নাটক সাজিয়ে শ্বশুর বাড়ির লোকজন তড়িঘড়ি করে কবর দিয়ে দিয়েছে। আমির আমার মেয়েকে হত্যা করেছে। আমি মেয়ে হত্যার বিচার চাই।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দত্তপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মজিবুর রহমান বলেন, ঘটনার পরপরই মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা