kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৩ রজব ১৪৪২

সুদের ব্যবসার ফাঁদে নিঃস্ব সাধারণ মানুষ

মোংলা ও রামপাল (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২১:৫১ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সুদের ব্যবসার ফাঁদে নিঃস্ব সাধারণ মানুষ

নাম তার কার্তিক চন্দ্র কুন্ডু। বাড়ি উপজেলার ফয়লাহাটের ধলদাহ কুন্ডু পাড়া এলাকায়। তিনি করেন সুদের কারবার। যে কোনো ব্যাংকের চেকের পাতা ও ফাঁকা স্ট্যাম্পে গ্রাহকের স্বাক্ষর রেখেই দিচ্ছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের লাখ লাখ টাকা লোন। বিনিময় তিনি নিচ্ছেন তাদের কাছ থেকে সুদ আসলে কয়েকগুণ টাকা। আসলেরও কয়েকগুণ বেশি সুদের টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। সুদের বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসতে না পেরে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আ. খালেকের কাছে লিখিত অভিযোগসহ রামপাল থানায় জিডি করেছেন।

জিডি ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কার্তিক চন্দ্র কুন্ডু সমবায় অধিদপ্তরের কোনো অনুমোদন ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে শুধুমাত্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ব্যাংক চেকের পাতা ও ৯ ফর্দ ফাঁকা স্ট্যাম্পে কোনদারদের স্বাক্ষর রেখে চড়া সুদে লাখ লাখ টাকা লোন দিচ্ছেন। সরকার সুদের অংক এক অংকে নামিয়ে আনলেও কার্তিক চন্দ্র তা পারেননি। তিনি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আসলেরও কয়েকগুণ বেশি সুদ আদায় করছেন। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ কেউ সময় মতো সুদের টাকা পরিশোধ করতে না পারলে আগেই নিয়ে রাখা ফাঁকা স্ট্যাম্প ও ব্যাংক চেকে তিনি তার ইচ্ছাম মতো টাকা বসিয়ে নেন।

এভাবে তিনি অসংখ্য ব্যবসায়ীকে তার সুদের ব্যবসার ফাঁদে ফেলে স্বর্বশান্ত করে দিচ্ছেন বলে তাদের অভিযোগ। ব্যবসায়ীরা জানান, তারা মুখ বুজে সব কিছু সহ্য করে সুদের টাকা পরিশোধ করলেও রেহাই মিলছে না। কারো কারোর সুদের সুদও দিতে হচ্ছে। আর দিতে না পারলে করা হচ্ছে উকিল নোটিশ।

এ ব্যাপারে কার্তিক চন্দ্র বলেন, ব্যবসায়ীরা আমার কাছে ব্যাংকের চেক ও স্ট্যাম্প রেখে মাসে মাসে লাভ দেওয়ার কথা বলে টাকা নেন। যারা সময় মতো টাকা ফেরৎ দেয় না আমি তাদের তাগাদা দিলে তারা আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন কথা বলে।

এ ব্যাপারে রামপাল সোনলী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক বলেন, সমবায় অধিদপ্তরের অনুমোদন না থাকলে তিনি সুদের ব্যবসা করতে পারেন না। কার্তিক চন্দ্র যা করছে তা বেআইনি। তার বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা