kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭। ২ মার্চ ২০২১। ১৭ রজব ১৪৪২

বীর শহীদদের নামফলকে আবর্জনার স্তুপ

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি:    

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১১:০৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বীর শহীদদের নামফলকে আবর্জনার স্তুপ

অযত্ন-অবহেলা আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বিলীন হতে বসেছে বগুড়ার ধুনট উপজেলায় চার শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার নামে করা সড়কের নামফলকের অস্তিত্ব। ২০১৮ সালে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ৪টি সড়কের নামকরণ করে ফলক স্থাপন করেন তৎকালীন ইউএনও রাজিয়া সুলতানা।

জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধা ও প্রগতিশীল ব্যক্তিরা একাত্তরের রণাঙ্গনে সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হওয়া চার বীর মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে সড়কের নামকরণের দাবি তোলেন। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অর্থায়নে প্রায় চার লাখ টাকা ব্যয়ে চারটি ফলক নির্মাণ করা হয়। সেই ফলকে চার শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম লেখা রয়েছে। ওই সময় সরকারি-বেসরকারি সকলপ্রকার দাপ্তরিক কাজকর্ম, পত্র যোগাযোগ, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাটের সাইনবোর্ডে বীর শহীদদের নামে সড়কের নাম বাধ্যতামূলক ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্ত উদ্যোগের অভাবে তা বাস্তবায়িত হয়নি আজও। কেবল  সড়কের নামফলক স্থাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।  বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটসহ আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে নামফলকগুলো।

নামকরণ করা সড়কগুলো হলো উপজেলার নিমগাছি গ্রামের শহীদ কোমর উদ্দিন আহম্মেদের নামে ধুনট-সোনাহাটা পাকা সড়ক, ভাণ্ডারবাড়ি গ্রামের শহীদ ওসমান গনির নামে ধুনট-গোসাইবাড়ি পাকা সড়ক, পিরহাটি গ্রামের শহীদ আব্দুর রউফ মল্লিকের নামে হুকুম আলী-মথুরাপুর পাকা সড়ক এবং খাদুলী গ্রামের শহীদ গোলাম হোসেনের নামে মথুরাপুর-ধানঘরা পাকা সড়ক।

শহীদ মুক্তিযোদ্ধা কোমর উদ্দিন ১৯৭১ সালে সেনা সদস্য পদে যশোর জেলায় চাকরি করতেন। মুক্তিযুদ্ধে পাকসেনাদের বুলেটের আঘাতে যশোর শহর এলাকায় শহীদ হন তিনি। বগুড়ায় পাক বাহিনীকে প্রতিরোধ করতে গিয়ে শহীদ হন ওসমান গনি। শহীদ গোলাম হোসেন ৬ নম্বর সেক্টরে মুক্তিযোদ্ধাদের মেডিক্যাল টিমে নিয়োজিত ছিলেন। নীলফামারী জেলার ডিমলা এলাকায় পাক হানাদারদের অতর্কিত হামলাকে প্রতিহত করতে গিয়ে শহীদ হন তিনি। শহীদ আব্দুর রউফ মল্লিক ১৯৭১ সালে রাজশাহী গোদাগাড়ি থানায় পুলিশ সদস্য পদে কর্মরত ছিলেন। সেখানে পাক সেনাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাকসেনারা পদ্মা নদীর তীরে তাঁকে ব্রাশফায়ারে হত্যার পর মৃতদেহ নদীতে ভাসিয়ে দেয়।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ফেরদৌস আলম বলেন, 'রাষ্ট্রীয় এবং ব্যক্তিগত সকল কাজে ব্যবহার হবে সেই আশা নিয়ে চার বীর শহীদের নামে সড়কের নামকরণ করা হয়। সকল ক্ষেত্রে এই নাম ব্যবহারের সিদ্ধান্তও হয় তখন। কিন্তু ব্যবহার তো দূরের কথা তা এখন প্রায় ধ্বংসের পথে। বীর শহীদদের নামের অস্তিত্ব এভাবে ধ্বংস হতে দেখলে খুবই কষ্ট লাগে। আমি প্রশাসনের কাছে সকল বীর শহীদের স্মৃতি রক্ষা ও এর বাস্তব ব্যবহারের দাবি জানাই।'

শহীদ আব্দুর রউফ মল্লিকের সন্তান সাংবাদিক গোলাম কিবরিয়া কামাল বলেন, 'ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের কাছে এই নামকরণের দাবি করি। দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সড়কের নামকরণ এবং ফলক বসানো হয়েছে ঠিকই তবে, এর সঠিক সংরক্ষণ হয়নি। পরবর্তীতে এনিয়ে মুক্তিযোদ্ধা বা প্রশাসন কেউই আর এর ব্যবহার নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেয়নি।'

ধুনট উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় কুমার মহন্ত বলেন, 'বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে আলোচনা করে নামফলক রক্ষাণাবেক্ষণ এবং সকল ক্ষেত্রে বীর শহীদদের সড়কের নাম ব্যবহারের বিষয়টিও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।'

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা