kalerkantho

রবিবার। ২২ ফাল্গুন ১৪২৭। ৭ মার্চ ২০২১। ২২ রজব ১৪৪২

'মেম্বার হামার গরুও নিলো টাকাও নিলো, ঘর দিলো না'

আঞ্চলিক প্রতিনধি, রংপুর   

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২১:৪৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'মেম্বার হামার গরুও নিলো টাকাও নিলো, ঘর দিলো না'

মেম্বারকে গরু আর ভিক্ষা করে জমানো ২৫ হাজার টাকা দিয়েও সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর না পাওয়া ভিক্ষুক এমদা আলী। ছবি : কালের কণ্ঠ

একটি ঘরের আশায় গরু ও ভিক্ষার ২৫ হাজার টাকা স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল মিয়াকে দেওয়ার পরও সরকারি আবাসন প্রকল্পের ঘর ভাগ্যে জোটেনি। এমন অভিযোগ করেন মিঠাপুকুর উপজেলার শাল্টি গোপালপুর ইউনিয়নের মরিচবাড়ি গ্রামের অন্ধ ভিক্ষুক এমদা মিয়া। এ ছাড়াও গবাদিপশু ও নগদ টাকা দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আবাসন প্রকল্পের ঘর না পাওয়ার অভিযোগ জানান ওই গ্রামের কিছু ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী ও ছিন্নমূল মানুষ।

মরিচবাড়ি এলাকার ভিক্ষুক অন্ধ এমদা মিয়া (৩০) জানান, 'আমি ভিক্ষা করে বেঁচে আছি। অন্যের জমিতে থাকি। ভিক্ষা করে একটা গরু কিনছিনু সেই গরুটাও জলিল মেম্বার সরকারের কাছ থেকে ঘর নিয়ে দেওয়ার কথা কইচে। আমিতো চোখে দেখি না। আমার মায়ের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকাও নিয়েছে। হামাক ঘর তো দিল না, হামার গরুও নিলো টাকাও নিলো। আমি আপনাদের কাছে বিচার চাই'।

একই এলাকার মর্জিনা খাতুন (৬০) বলেন, 'বাবা মুই তো মানুষের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করি। থাকি অন্যের জমিতে। থাকার তো একনা মোর ঘরও নাই। সরকার থেকে একটা ঘর পাওয়ার আশায় জলিল মেম্বারের কাছোত ৩০ হাজার টাকা দিছিনু। কিন্তু মেম্বার মোর টাকা নিয়ে মোক আর ঘর দেয় নাই। টাকাও দেয় নাই। মুই তোমা’র কাছ বিচার দিনু। তোমরা মোর টাকাটা নিয়ে দেও'।

বদিউজ্জামানের স্ত্রী রসিদা বেগম (৩০) বলেন, 'সরকারের কাছ থেকে ঘর নিয়ে দেয়ার কথা বলে হামার গ্রামের জলিল মেম্বার আমার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে আমি ১০ হাজার টাকা দেই। বাকি টাকা দিতে না পারায় মেম্বার ইট বালু নিয়ে গেছে'।

একই এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে দুদু মিয়া জানান, 'সরকারের বরাদ্দকৃত ঘর দেয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকেও ২৫ হাজার টাকা নেন জলিল মেম্বার। আমাকে ঘর তো দিলোই না টাকাও ফেরত দেননি। টাকা চাইতে গেলে উল্টো গালিগালাজ করে'।

ভুক্তভোগী গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, কেউ গবাদিপশু বিক্রি করে, কেউ আবার চড়া সুদে ঋণ নিয়ে টাকা দিয়েছেন ইউপি মেম্বার জলিলকে।

জলিল মেম্বার বলেন, 'আমি কারো কাছ থেকে টাকা নিয়েছি প্রমাণ দিতে পারবে না। আমাকে ফাঁসানোর জন্য আমার প্রতিপক্ষ ষড়যন্ত্র করছে'। তিনি আরো বলেন, 'আমি শুনেছি আওয়ামী লীগের শামীম নামের এক ছেলে টাকা নিয়েছে ওই অন্ধের কাছ থেকে। তবে আমি টাকা নিইনি'।

শামীমের সঙ্গে এ ব্যাপারে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'আমি কী মেম্বার। যে মানুষ আমাকে টাকা দেবে?' মেম্বারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'মেম্বারের সাথে আমার বিরোধ থাকার কারণে মেম্বার আমাকে জড়াতে চান'। মেম্বার টাকা নিছে কী না জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমি জানি না। সেটা তাদের বিষয়'।

বক্তব্য জানতে মিঠাপুকুরের ইউএনও মামুন ভুইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। জেলা প্রশাসক আসিব আহসান স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা