kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ ফাল্গুন ১৪২৭। ৯ মার্চ ২০২১। ২৪ রজব ১৪৪২

৪০ বছর ধরে হেঁটে হেঁটে বই বিক্রি করেন আব্দুর রশিদ

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৬:১০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৪০ বছর ধরে হেঁটে হেঁটে বই বিক্রি করেন আব্দুর রশিদ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের মধুপুরচালা গ্রামের আব্দুর রশিদ (৭৫)। জীবন সায়াহ্নে এসেও তিনি হারিয়ে যাওয়া দ্বিপদী, ত্রিপদী ছন্দে ছন্দে সুর করে গীতি কবিতা শুনিয়ে হাট-বাজারে বই বিক্রি করে সংসার চালানো মতো কঠিন কাজটি চালিয়ে যাচ্ছেন।

উপজেলার গারোবাজার হাটে গিয়ে দেখা হয় আব্দুর রশিদের সাথে। কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ হাতে কিছু বই, ঝুলানো ব্যাগেও রয়েছে বিভিন্ন রকমের বইয়ের সমাহার। এলাকবাসী জানায়, বিগত ৪০ বছর ধরে ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী, ধলাপাড়া, গারোহাট, কুতুবপুর, পাশের সখিপুর উপজেলার বড় চওনা, কচুয়া বাজারসহ আশেপাশের হাট-বাজারে ঘুরে ঘুরে গানের সুরে সুরে কবিতা গেয়ে বই বিক্রি করেন। গীতি কবিতা পাঠ করে হাট-বাজারে বই বিক্রি করাই তার নেশা এবং পেশা। কবিতার বই, ছোটদের মজার মজার গল্পের বই, গান ও গজলের বই, বর্ণমালা শিক্ষা, শিশু শিক্ষা, বাল্য শিক্ষা সহ বিক্রির তালিকায় রয়েছে নানা ধরনের বই। অনেকেই তাকে বইয়ের ফেরিওয়ালা বলে ডাকে।

আব্দুর রশিদ জানান, ৪ সন্তান ৮ নাতি-নাতনি নিয়ে তার সংসার। মনে হয় এই তো সেদিন অথচ চল্লিশ বছর ধরে এ পেশায় আছি। কেমনে এত বছর পার হয়ে গেল টেরই পাইনি। শুরুতে সম্রাট শাহজাহান ও নুরজাহানের প্রেমকাহিনী, মেয়ের সাথে মেয়ের বিয়ে, শতীনের হাতে পাপিয়ার মৃত্যু, লতার প্রেম কাহিনী, মামলার সাক্ষি ময়না পাখিসহ অসংখ্য কবিতার চটি পাতা বই বিক্রি করতাম। কিন্ত এখন এসব বই আর কেউ ক্রয় করে না। আগের দিনে জোসনা রাতে উঠানে পুথি পাঠ, কবিতা পাঠ, আরব্য রজনীর গল্প পাঠের আসর বসত। এখন আধুনিকতার ছোয়ায় ঐসব এখন কেবলই স্মৃতি।

কবিতা প্রিয় আব্দুর রশীদ বলেন, কবিতা, গান, ছন্দ আমার প্রাণ। কিন্তু ডিজিটাল যুগে এখর আর কেউ কবিতার কাগজ কিনে না। তাই বাধ্য হয়েই শিশুদের বই বিক্রি করে এ পেশাটাকে ধের রেখেছি এবং সংসারও চালাচ্ছি। প্রতি হাটবার বই বিক্রি করে চার শ থেকে পাঁচ শ টাকা রোজগার হয় বলে জানান তিনি।

গারোবাজারের স্কুল শিক্ষক সাজ্জাদ রহমান জানান, প্রায় ৪০ বছর ধরে রশীদ ছন্দ ও সুরে সুরে কবিতা শুনিয়ে বই বিক্রি করে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে, মানুষকে আনন্দ দিচ্ছে নিজেও আনন্দিত হচ্ছেন।

কাঠ ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন বলেন, তাকে দেখে কখনো মনে হয় না তার মনে কোনো কষ্ট আছে , সর্বদাই হাসি খুশি থাকেন। বয়স হলেও তার গানের কণ্ঠ সেই আগের মতোই আছে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা