kalerkantho

বুধবার । ৮ বৈশাখ ১৪২৮। ২১ এপ্রিল ২০২১। ৮ রমজান ১৪৪২

গতর থাকলেও কামলা দেওয়ার জায়গা নেই, বিপাকে উপকূলীয় জেলেরা

মোশাররফ হোসেন, সাতক্ষীরা   

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২১:২২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গতর থাকলেও কামলা দেওয়ার জায়গা নেই, বিপাকে উপকূলীয় জেলেরা

নদীতে দেশীয় প্রজাতির মাছের সংকট ও কারেন্ট জালের অপব্যবহার রোধে প্রশাসনের একের পর এক সাঁড়শি অভিযান উপকূলের জেলে পল্লীগুলো স্তবির হয়ে পড়েছে। ফলে শ্যামনগর উপকূলের জেলে সম্প্রদয়ের মানুষ অভাব অনাটনে দিন পার করছেন।

সরেজমিনে শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ও দক্ষিণ বেদকাশী এলাকার জেলেরা জানায়, সরকার জেলে কার্ডে সরকারি সহায়তা দিলেও এখন তা বন্ধ। অন্যদিকে ১০ টাকা কেজি দরের চালও এখন দিচ্ছে না কেউ। এ অবস্থায় তাদের দিন চালানো কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

গাবুরা ইউনিয়নের ৯নং সোরা গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা মাফুজা খাতুন (৩০) জানান, গত দুই বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর ৪ সদস্যের সংসাসের হাল ধরেন তিনি। সুন্দরবন এলাকার খাল ও নদীতে জাল দিয়ে মাছ ও কাঁকড়া ধরে সংসার চালিয়ে আসছিলেন। সরকারিভাবে নদী থেকে রেণুপোনা ধরা বন্ধ ঘোষণা করায় তিনি বেকার হয়ে পড়েছেন। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নদীতে জাল পাতলেও নৌ পুলিশ অভিযান চালিয়ে জাল পুড়িয়ে দেয়। মামলা দেওয়ার কথা বলে নৌকা গাছের সাথে বেঁধে তালা দিয়ে চাবি নিয়ে চলে যায়।

বয়োবৃদ্ধ ননী গোপাল বলেন, গত ৩০ বছর ধরে নদীর উপর ভরসা করে বেঁচে আছি। অভাব অনাটনের মধ্যে পেটে যখন খিদে (ক্ষুধা) লাগে আমরা তখন আইন ভাঙি। চারি দিকে নোনা জল। ফসল ফলাদি হয় না। খেটে খাওয়ার গতর থাকলেও কামলা দেওয়ার জয়গা নেই। এখন নদীতে মাছ না থাকায় বেকার হয়ে পড়েছি।

জেলে মাকছুদুল আলম বলেন, সুন্দরবনের খালগুলোতে পাস পারমিট নিয়ে যারা মাছ ও কাঁকড়া ধরতে যেয়েও মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। লস তুলতে অনেকেই খালে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরে থাকে। প্রশাসন জানতে পারলে জেলেদের জরিমানা গুনতে হয়। আগের মতো মাছ না থাকায় নানাবিধ সমস্যা দেখা দিয়েছে।

বুড়িগোয়ালীনী গ্রামের ফজলু গাজী জানান, আম্পানের সময় জলচ্ছাসের কারণে জমির উপর বালির স্তর জমে ফসলি জমি পুরু হয়ে গেছে। এখন তাতে আবাদ হচ্ছে না। ফলে জমি থাকলেও ফসল না হওয়া ও দরিদ্র জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় এলাকায় এত অভাব দেখা দিয়েছে। 

উপকূলের (সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল) বাওয়ালীরা জানান, সুন্দরবন সংরক্ষণ ও রেণু ধরা বন্ধ ঘোষিত থাকলেও বিকল্প কর্মসংস্থানে তেমন কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় এলাকার মানুষ সংকটে পড়েছে।

এ বিষয়ে কথা হয় গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান মসুদুল আলমের সাথে। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, সবার আগে আইন। উপকূলের জেলের দুরাবস্থা কথা সত্য। সরকারি সহায়তা যা আসে তা তাদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। টিকে থাকার জন্য সরকারি সহায়তাসহ বিকল্প কর্মসংস্থানের চেষ্টা চলছে। এক প্রশ্নের জবাবে জেলেদের কল্যাণে তিনি জেলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা