kalerkantho

মঙ্গলবার । ৭ বৈশাখ ১৪২৮। ২০ এপ্রিল ২০২১। ৭ রমজান ১৪৪২

বসুন্ধরার বস্তায় করে টিসিবির আটা বিক্রি, ব্যবসায়ীকে জরিমানা

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৮:৫০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বসুন্ধরার বস্তায় করে টিসিবির আটা বিক্রি, ব্যবসায়ীকে জরিমানা

হঠাৎ করেই কোনো কারণ ছাড়াই ‘বসুন্ধরা আটা’ বিক্রি অনেক কমে আসে ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে। বিষয়টি স্থানীয় পরিবেশকসহ কর্মকর্তাদের নজরে আসে। কিন্তু কম বিক্রির বিষয়টি কোনোভাবেই তারা খুঁজে বের করতে পারছিলেন না। টিসিবির এক স্থানীয় পরিবেশককে এ নিয়ে সন্দেহ করা হয়। সেই মোতাবেক টিসিবির ওই পরিবেশকের কাছে আটা কিনতে যান স্থানীয় এক সাংবাদিক। বসুন্ধরার বস্তা থেকে আটা বের করে দেওয়া হলেও সেগুলো ওই কম্পানির নয় বলে চ্যালেঞ্জ ছোঁড়েন ওই সাংবাদিক। এতে টনক নড়ে ব্যবসায়ীর। প্রথমে জানানো হয় ওই এক বস্তা আটাই আছে, যা খোলা আটা হলেও বসুন্ধরার বস্তায় রাখা হয়েছে। তবে ওই সাংবাদিকের সন্দেহ হলে ভেতরে গিয়ে দেখেন একই রকম বস্তায় আরো প্রচুর আটা রাখা আছে।

ঘটনাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার। সাংবাদিকের মাধ্যমে খবর পেয়ে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। পৌর এলাকার আনন্দ বাজারের তানিম এন্টারপ্রাইজ নামে টিসিবি ডিলারকে জরিমানা করা হয় ৬০ হাজার টাকা। পাশাপাশি এ ধরণের কাজ করছেন করবেন না বলে মুচলেকা দেন ডিলারের স্বত্বাধিকারির ভাই খোকন মিয়া। তবে স্বত্বাধিকারি হোসেন মিয়া তখন সটকে পড়েন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তানিম এন্টারপ্রাইজ থেকে বেশ কিছুদিন যাবত বসুন্ধরার বস্তায় ঢুকিয়ে নিজ দোকান থেকে খুচরা বিক্রি করা হতো। পাশাপাশি বেশ কিছু দোকানেও বস্তা সরবরাহ করেন। এসব বস্তা বেকারিসহ বিভিন্ন দোকান থেকে কিনে আনা হতো। এ ছাড়া বসুন্ধরার বস্তার মতো অবিকল সিলও মেরে আনা হতো।

বুধবার বসুন্ধরার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি আঁচ করতে পেরে স্থানীয় সাংবাদিকদের সহযোগিতা চান। পরে এক সাংবাদিক ওই প্রতিষ্ঠানে গিয়ে আটা কিনেন। এরপরই বেরিয়ে আসে আসল কাহিনী। টিসিবির পরিবেশক হোসেন মিয়া বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে সটকে পড়েন। এক পর্যায়ে স্থানীয় দুই একজন ব্যবসায়ী এমন আর হবে না মর্মে উল্লেখ করে মীমাংসা করে দেয়ার প্রস্তাব দেন।

তবে বিষয়টির সঙ্গে টিসিবির আটা জড়িত থাকায় সাংবাদিকরা এতে রাজি হননি। বিষয়টি সদর কউপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পঙ্কজ বড়ুয়াকে জানানো হয়। ওনার নির্দেশে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ বি এম মশিউজ্জামান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। আদালত এ সময় তানিম এন্টারপ্রাইজকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। পাশাপাশি যেসব বস্তায় আটা রাখা হয়েছিল সেগুলো ছিঁড়ে দেওয়া হয়। অভিযানের সময় ভোক্তা অধিকার ও সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসানসহ সদর থানা পুলিশ উপস্থিত ছিলেন।

বসুন্ধরা ফুড অ্যান্ড বেভারেজের আঞ্চলিক বিপণন ব্যবস্থাপক মো. মুকিতুল ইসলাম তুর্য্য জানান, বিষয়টি জানার পর পরই প্রশাসনিকভাবে জরিমানা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওই পরিবেশক মুচলেকা দিয়েছেন যে, এর ধরণের কাজ আর করবেন না।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ বি এম মশিউজ্জামান বলেন, ওই ব্যবসায়ী খোলা আটা বসুন্ধরার বস্তায় ভরে বিক্রি করার কথা স্বীকার করেছেন। তাকে জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি এমন করবেন না বলে মুচলেকা দিয়েছেন। তবে আটাগুলো টিসিবির কি-না সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা