kalerkantho

রবিবার। ৫ বৈশাখ ১৪২৮। ১৮ এপ্রিল ২০২১। ৫ রমজান ১৪৪২

শ্রীবরদীতে অবৈধ ইটভাটায় যাচ্ছে ফসলি জমির মাটি

শেরপুর প্রতিনিধি   

৩১ জানুয়ারি, ২০২১ ১৩:২৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শ্রীবরদীতে অবৈধ ইটভাটায় যাচ্ছে ফসলি জমির মাটি

শেরপুরের শ্রীবরদীতে দিন দিন বাড়ছে অবৈধ ইটভাটা। এসব ইটভাটায় যাচ্ছে ফসলি জমির মাটি। এতে মাটির টপ সয়েল নেয়ায় দিন দিন কমছে ফসলি জমির উর্বরতা। ইটভাটাগুলোতে জমানো হচ্ছে এসব মাটির স্তুপ। মাটি বহনের যানবানের অবাধ চলাচলে নষ্ট হচ্ছে রাস্তাঘাট। ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে আশপাশের সবজির ক্ষেত ও গাছপালার। আজ রবিবার (৩১ জানুয়ারি) সরেজমিন গেলে এসব অভিযোগ তুলে অবৈধ ইটভাটা বন্ধের দাবি তোলেন ভুক্তভোগীসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজন।  

জানা যায়, শ্রীবরদী উপজেলায় ১১টি ইটভাটা। এর মধ্যে একটি ইটভাটা সরকারিভাবে অনুমতি থাকলেও মেয়াদোত্তীর্ণ। বাকি ১০টি ইটভাটার নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি। মানা হচ্ছে না সরকারি নীতিমালা। ভূমি মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত ১৯৯২ সলের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কৃষি জমিতে ইটভাটা নির্মাণ দণ্ডনীয় অপরাধ। এসবের কিছুই মানা হচ্ছে না। বরং নতুন করে আরো ইটভাটা বেড়েছে। অথচ অটোভাটা করার কথা থাকলেও কেউ তা করতে পারেনি। আগের মতোই ইটভাটার কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে চিমনি দিয়ে। এসব চিমনির মাপেও রয়েছে অনেক গড়মিল। ইটের মাপেও রয়েছে কারচুপি। ভাটায় কর্মরত শ্রমিকদের নেই কোনো নিরাপত্তা পোশাক। 

সরেজমিন গেলে দেখা যায়, প্রত্যেকটি ইটভাটায় পোড়ানো হচ্ছে ইট। চলছে ইট তৈরির মহোৎসব। ইটভাটাগুলোতে ট্রাক দিয়ে ফসলি জমি থেকে মাটি এনে মজুদ করা হচ্ছে। ভাটার কালো ধোঁয়ায় ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে আশপাশের ফসলি জমি ও সবজির ক্ষেতসহ গাছপালার। এসব ইটভাটা হচ্ছে পৌর শহরের দক্ষিণ ষাইটকাকড়া সড়কের পাশে একটি, নয়ানি শ্রীবরদী একটি, শ্রীবরদী-ভায়াডাঙ্গা সড়কের পাশে কন্টিপাড়া এলাকায় একটি, কাকিলাকুড়া ইউনিয়নে ৪টি, ইন্দিলপুর একটি ও ঝগড়ারচর এলাকায় একটি, পোড়াগড় একটি ও গেরামারা এলাকায় একটি ইটভাটা রয়েছে। 

দক্ষিণষাইটকাকড়া গ্রামের আমজাদ আলী, জালাল উদ্দিন, সিদ্দিকুর রহমান, কাকিলাকুড়া হরিণাকান্দা গ্রামের শামছুল হক, ঝালুপাড়া গ্রামের আব্দুল কাদের, খোশালপুর গ্রামের বছির উদ্দিন ও নয়ানি শ্রীবরদীর ইউপি সদস্য আইয়ুব আলীসহ অনেকে জানান, ইটভাটার কারণে তাদের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। ফলজ বৃক্ষের এখন ফল আসছেনা। প্রত্যেকটা গাছে ইটভাটার কালো ধোঁয়ার ময়লা জমে দিন দিন মরে যাচ্ছে। অনেকে অভাবে পড়ে ফসলি জমির মাটি বিক্রি করায় জমির টপ সয়েল ওঠে যাচ্ছে। এতে ফসলি জমি গর্তে পরিণত হচ্ছে। 

সূত্র জানান, ফসলি জমি থেকে মাটি উত্তোলনে জেলা প্রশাসনের অনুমতি প্রয়োজন। এ বিধি কেউ মানছে না। ইটভাটার শ্রমিকদের নেই কোনো নিরাপত্তা পোশাক। মারাত্মক ঝুঁকিতে কাজ করছে তারা। ইট ক্রেতা ভায়াডাঙ্গা এলাকার সাইফুল ইসলামসহ অনেকে জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ইটের মাপ সঠিক হয়নি। প্রত্যেকটি ইট সাইজে ছোট করা হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ক্রেতারা। 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, জমির ৪ থেকে ৬ ইঞ্চি মাটিতে বেশি পুষ্টি থাকে। যা ফসল উৎপাদনে খুবই সহায়ক। কৃষকদের অভাবের সুযোগ নিয়ে ইটভাটার মালিকরা ফসলি জমি থেকে ২ থেকে ৪ ফুট পর্যন্ত মাটি নিয়ে যাচ্ছে। কিছু কিছু ক্ষেতে এরও চেয়েও বেশি। এভাবে মাটি উত্তোলন অব্যাহত থাকলে অচিরে শতশত একর জমি হবে পরিত্যক্ত। ক্রমেই বিরুপ প্রভাব পড়ছে ফসলি জমিসহ গাছপালায়। 

এ ব্যাপারে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক রাসেল আহমেদ বলেন, শ্রীবরদীতে একটি ব্যাতিত কোনো ইটভাটায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি নেই। এসব জিগজ্যাগ ইটভাটায় কোনো নিয়মই মানা হচ্ছে না। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। নির্দেশ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন। এমনটাই মনে করেন স্থানীয় ভুক্তভোগীসহ সচেতন মানুষরা। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা