kalerkantho

সোমবার । ৬ বৈশাখ ১৪২৮। ১৯ এপ্রিল ২০২১। ৬ রমজান ১৪৪২

রেজাউলের সামনে ‘পুরনো চ্যালেঞ্জ’

বিশিষ্টজনদের মতে, জলাবদ্ধতা ও সমন্বয়হীনতা দূর হলে নগরীর চেহারাই পাল্টে যাবে

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

৩১ জানুয়ারি, ২০২১ ০৪:০২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রেজাউলের সামনে ‘পুরনো চ্যালেঞ্জ’

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) নবনির্বাচিত মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর সামনে বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে এসব চ্যালেঞ্জ নতুন নয়, পুরনো। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নগরীর জলাবদ্ধতা ও উন্নয়নকাজের সমন্বয়হীনতা। রেজাউলের একাধিক পূর্বসূরিও একই চ্যালেঞ্জের বিরুদ্ধে লড়ে গেছেন, কিন্তু কেউই নগরবাসীর প্রত্যাশার সঙ্গে পেরে ওঠেননি।

নগরবাসী বলছে, এর বাইরেও আরো কিছু বিষয়ে নতুন মেয়রকে কাজ করতে হবে। যেমন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, যানজট, মানসম্মত স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থা।

আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১২ বছরে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে অনেক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। এ ছাড়া কয়েকটি মেগাপ্রকল্পের কাজ চলছে। আছে স্বল্প ও মধ্য মেয়াদি আরো অনেক প্রকল্প। চট্টগ্রামের প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা। এ সমস্যা দূর করতে বর্তমান সরকার চারটি প্রকল্পে ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে, কিন্তু এখনো জলাবদ্ধতার সমস্যা দূর হয়নি।

দায়িত্ব গ্রহণের পর কোন কাজগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে মো. রেজাউল করিম চৌধুরী গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি প্রথমেই মশার উপদ্রব থেকে নগরবাসীকে রক্ষা করার জন্য কাজ শুরু করব। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা তো আছেই। ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট মেরামতসহ আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করব।’

কোন কাজগুলো চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছেন, জানতে চাইলে নবনির্বাচিত মেয়র বলেন, ‘ভোটের আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেগুলো নিয়েও কাজ করে যাব।’

সমন্বয়হীনতার কারণে নগরবাসী উন্নয়নের সুফল পুরোপুরি পাচ্ছে না—এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘সমন্বয় করে পরিকল্পিতভাবে টেকসই উন্নয়ন ও পরিকল্পিত নগরী গড়ার জন্য পদক্ষেপ নেব। সাবেক মেয়রদের পাশাপাশি নগরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব। সমন্বয়হীনতা থাকবে না, পরিকল্পিত চট্টগ্রাম গঠনের জন্য কাজ করব।’ আরেক প্রশ্নের জবাবে নবনির্বাচিত মেয়র বলেন, ‘আশা রাখি, আমার মেয়াদেই জলাবদ্ধতা সমস্যা থেকে নগরবাসী অনেকটাই মুক্তি পাবে। এ ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা চাই।’ পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ, চট্টগ্রামের সভাপতি অধ্যাপক এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, সমন্বয়হীনতা দূর করে সব সেবা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন মেয়র কাজ করলে পরিকল্পিত চট্টগ্রাম গড়া সম্ভব।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ বলেন, মশা নিধন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রাস্তাঘাট মেরামতের দিকে নজর রাখতে হবে। সমন্বয়হীনতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মেগাপ্রকল্পগুলোতে সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, বিদ্যুৎ ও গ্যাস কম্পানিসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন বলেন, নতুন মেয়রের কাছে নগরবাসীর প্রত্যাশা অনেক। রাস্তাঘাটগুলো ঠিক সময়ে মেরামত করাসহ মানসম্মত স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থার দিকে জোর দিতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা