kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ ফাল্গুন ১৪২৭। ৯ মার্চ ২০২১। ২৪ রজব ১৪৪২

পদ্মানদী থেকে বালু উত্তোলন-মাটি চুরি, নিরুপায় নৌ-পুলিশ!

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি   

৩০ জানুয়ারি, ২০২১ ২২:২৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পদ্মানদী থেকে বালু উত্তোলন-মাটি চুরি, নিরুপায় নৌ-পুলিশ!

পদ্মানদীর ঈশ্বরদীতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বালু ও মাটি চোরেরা। প্রতিদিন রাত ১০টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত পদ্মানদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। আর দিনের আলোতেই পদ্মা নদীর বিভিন্ন পাড় থেকে চুরি করা হচ্ছে মাটি। চুরি করা এই মাটি বিক্রয় করা হচ্ছে ইটভাটাসহ বিভিন্ন এলাকার ক্রেতাদের নিকট। প্রতি দিন ও রাতে কয়েক লক্ষ টাকার মাটি ও বালু উত্তোলন করে বছরে কয়েক শ কোটি টাকার ব্যবসা করা হচ্ছে। অথচ সরকারকে দেওয়া হচ্ছে না রাজস্ব। তবে পদ্মানদী থেকে বালু উত্তোলন এবং নদীর পাড় থেকে মাটি চুরি বন্ধের জন্য পাকশী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি দায়িত্বে থাকা সত্বেও এসব অপরাধ বন্ধ করতে কিংবা চোরদের আটক করতে পারছে না। কারণ নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি হলেও নেই প্রয়োজনীয় লোকবল ও পরিবহন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পদ্মানদীর ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের প্রায় ছয়টি পয়েন্ট থেকে ফিলিং বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। একই ইউনিয়নের পদ্মাপাড়ের শত শত একর ফসলী জমির মাটি এস্কেভেটর দিয়ে কেটে ইটভাটাগুলোতে বিক্রয় করা হচ্ছে। ফসলি জমিগুলো এস্কেভেটর দিয়ে প্রায় ১৫ থেকে ২০ ফিট গভীর করে মাটি কাটা হচ্ছে। ফলে প্রতিনিয়ত এই অঞ্চলে কমছে আবাদের সমতল জমি। অন্যদিকে উপজেলার সাঁড়া থেকে লক্ষ্মিকুন্ডা পর্যন্ত পদ্মানদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে রাতের আধারে ড্রেজার মেশিন দিয়ে উত্তোলন করা হচ্ছে বালু। আর এসব বালু নেওয়া হচ্ছে পদ্মানদীর কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পাড়ে স্থাপিত বালুর খোলাতে। তবে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও মাটি চুরি চক্রের সঙ্গে নৌ-পুলিশ ফাঁড়িসহ উপজেলা প্রশাসনের কেউ কেউ প্রতিদিন চুক্তি ভিত্তিতে ভাগ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় প্রশাসনকে ভাগ দেওয়ার মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে পদ্মানদী থেকে বালু উত্তোলন ও নদীর পাড় মাটি চুরি বিক্রয় করে আসছে। এই চক্রের প্রধান হিসেবে ক্ষমতাসীন দলের এক শীর্ষ নেতার পরিবার ও নিকট আত্মীয়রা জড়িত। গোটা পদ্মানদীই তাদের দখলে। তাদেরকে চুক্তিমত টাকা দিয়েই এই চক্র বালু উত্তোলন ও মাটি চুরি করছে। এই বিষয়ে পাবনা জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহযোগিতায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের অধিনস্থ পাকশী ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগে বিগত ১৫ বছর ধরে পদ্মানদীর বালু ও মাটি মহালের একক আধিপত্য বিস্তারকারী বালুখাদক ভেড়ামারার জৈনক ব্যক্তিসহ ঈশ্বরদীর কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাবে সেই অভিযোগ থানা থেকে পরবর্তিতে উদাহ হয়ে যায়। এরপর থেকেই নদীতে তেমন কোন জোড়ালো ভাবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হয়নি।

সূত্রগুলো মতে আরো জানা যায়, ভেড়ামারার জৈনক বালু খাদক দীর্ঘকাল ধরে বালু উত্তোলন করে আসছেন। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতার স্বজন ও পরিবারের লোকজন জড়িত থাকায় তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাচ্ছে না। তবে বেশ কিছুদিন আগে পাবনা জেলা প্রশাসকের নির্দেশে জেলা ও ঈশ্বরদী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাঁড়ার মাঝদিয়া বালু মহাল ও লক্ষ্মিকুন্ডার বালু মহাল এবং মাটি মহালে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেসব অভিযানে ড্রেজার ভেঙে পানিতে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। বেশ কিছু ড্রাম ট্রাক, ট্রাক্টর ও স্কেভেটর জব্দ করে স্থানীয় ইউপি সদস্যদের জিম্মায় দিয়ে আসা হয়েছে। 

গভীর রাত থেকে পদ্মানদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন ও লক্ষ্মিকুন্ডায় পদ্মানদীর পাড় থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটানো চোর চক্রের সঙ্গে নিজেদের সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে পাকশী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আব্দুল জলিল বলেন, পদ্মানদী থেকে গোপনে বালু উত্তোলন করার খবর জানতে পেরেছি। প্রয়োজনীয় পরিবহন ও জনবলের সংকটের কারণে খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। তারপর যখন যাওয়া হয় তখন বালু চোরেরা নৌকা নিয়ে মাঝ নদীতে চলে যায়। তখন ফিরে আসতে হয়। তবে কারা বালু উত্তোলন করছে তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এই কর্মকর্তা আরো বলেন, লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নে পদ্মানদীর পাড় থেকে চুরি করে মাটি কাটা হচ্ছে। অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করে মামলা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক নেতারা সংশ্লিষ্ট থাকায় পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা