kalerkantho

সোমবার । ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭। ১ মার্চ ২০২১। ১৬ রজব ১৪৪২

ধুনট পৌর নির্বাচন

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ঝুঁকিহীন ভোট

রফিকুল আলম, ধুনট (বগুড়া)   

৩০ জানুয়ারি, ২০২১ ২২:১২ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ঝুঁকিহীন ভোট

তৃতীয় ধাপে বগুড়ার ধুনট পৌর নির্বাচনে সবগুলো কেন্দ্রে ঝুঁকিপূর্ণ হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো অঘটন ছাড়াই উৎসব মুখর পরিবেশে শন্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। অবৈধভাবে ভোট কেন্দ্রে প্রবেশের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতে নৌকার কর্মীসহ দুই জনের ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। কেন্দ্রগুলোতে দিনভর ছিল ভোটারদের লম্বা সারি। নাতির কোলে চড়ে কেন্দ্রে এসে ভোট দিলেন প্রায় ১৩০ বছর বয়সী দাদি।

এই নির্বাচনে মেয়র পদে ৪ জন এবং কাউন্সিলর ৩৩ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অধ্যাপক টিআইএম নুরুন্নবী তারিক (নৌকা), বিএনপির আলীমুদ্দিন হারুন মন্ডল (ধানের শীষ) ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সতন্ত্র এজিএম বাদশাহ (জগ) এবং কমিউনিস্ট পার্টির সাহা সন্তোষ (কাস্তে)।

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় ভোটের শুরু থেকেই ছিল টান টান উত্তেজনা। আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থীর ছিল হাজারো অভিযোগ। এ সব অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভোট কেন্দ্রে পাঁচ স্তরের নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। কেন্দ্রের অভ্যন্তরে পুলিশ ও আনসার এবং কেন্দ্রের বাইরে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, স্ট্রাইকিং ফোর্স ও মোবাইল টিমসহ পোশাকে-সাদা পোশাকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষনিক উপস্থিত ছিলেন। নিরপেক্ষ ভোট গ্রহণের লক্ষে শনিবার সকালে ভোট কেন্দ্রে ব্যালট পেপার পৌঁছানো হয়। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোট গ্রহণ চলে।

প্রশাসনের দৃষ্টিতে পৌর এলাকার ৯টি কেন্দ্রের সব গুলোই ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। এসব কেন্দ্রে ৩১টি বুথ স্থাপন করা হয়। মোট ভোটার ১১ হাজার ৭১৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ হাজার ৬৩৭ এবং নারী ভোটার ৬ হাজার ৭৬ জন। ভোটাররা ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রয়োগ করেন। ভোট গ্রহণের দায়িত্বে ছিলেন ৯৩ জন কর্মকর্তা। এর মধ্যে প্রিজাইডিং অফিসার ৯জন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ৩১জন এবং ৬২ জন পোলিং অফিসার।

সরেজমিন ভোট কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ভোটগ্রহণ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। ভোট গ্রহণের শুরুতেই প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রে নারী ভোটারদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। সকাল ১১টার দিকে চরধুনট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকের কর্মীরা প্রবেশ করে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জগ প্রতীকের এজেন্ট সেলিম হোসেনকে মারপিটে আহত করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ওই কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে নৌকা প্রতীকের কর্মী মনজুরুল ও উজ্জলকে আটক করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পরে তাদের ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে পূর্বভরনশাহী বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে  আব্দুস সামাদের কোলে চড়ে ভোট দেন তার দাদি ১৩০ বছর বয়সী তালেমন বেওয়া। ভোট দেওয়া শেষে তালেমন বেওয়া বলেন, বাবা বয়স হইছে, যে কোনো সময় আল্লাহ নিয়া যাইবো। আর কখনো ভোট দিতে পারবো কি-না জানি না। তাই ভোট দিতে আইসলাম।

নাতি আব্দুস সামাদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দাদি খুব অসুস্থ। বিছানা থেকে উঠতে পারেন না। নির্বাচনের কথা শুনেই ভোট দিতে যাওয়ার জন্য বায়না শুরু করলেন। অনেক বোঝানো সত্ত্বেও তিনি ভোট দেওয়ার ব্যাপারে অটল ছিলেন। শেষ পর্যন্ত কোলে করে নিয়ে ভোট দিতে কেন্দ্রে নিয়ে এসেছি। ভোট দিয়ে দাদি খুব খুশি। আল্লাহর কাছে দোয়া করি দাদি যেন আরও কয়েকটি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন।

দুপুর ২টার দিকে ধুনট সরকারি এনইউ পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে নারীদের লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে দেখা যায়। সেখানে নবীন ভোটার মোস্তারি তাবাসসুম শিথিলা জানায়, শঙ্কা নিয়ে ভোট কেন্দ্রে এসেছিলাম। তবে জীবনের প্রথম শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পেরে অনেক আনন্দ লাগছে। সেই ক্ষেত্রে প্রশাসন অনেক কঠোর অবস্থানে ছিল। একই কেন্দ্রের ভোটার মাহবুবা আকতার জানান, ভোটের আগে আতংকের মধ্যে ছিলাম। নিজের ভোট নিজে দিতে পারবো কিনা তা নিয়ে সংশয় ছিল। কিন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পেরে খুশি হয়েছি। ভোট প্রদানের উদ্দেশে দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও কোন ক্লান্তি আসেনি।      
 
ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় কুমার মহন্ত বলেন, পৌর নির্বাচনকে ঘিরে যাতে অনাকাঙ্খিত কোনো ঘটনা ঘটতে না পারে এজন্য পুরো এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা ছিল। কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছিল। বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট, ৩টি মোবাইল টিম ও ২টি স্ট্রাইকিং টিম মোতায়েন রাখা হয়েছিল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা