kalerkantho

শনিবার । ২১ ফাল্গুন ১৪২৭। ৬ মার্চ ২০২১। ২১ রজব ১৪৪২

জনতার হাতে চোখ হারিয়ে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রদান

নিরীহদের ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র করছে ১৭ মামলার আসামি সাইফুল

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

৩০ জানুয়ারি, ২০২১ ২২:০৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নিরীহদের ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র করছে ১৭ মামলার আসামি সাইফুল

রাতের অন্ধকারে অজ্ঞাত জনতার হাতে চোখ হারিয়ে এখন নিরীহ মানুষকে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র করছেন ১৭ মামলার আসামি বাগেরহাটের শরণখোলার দুর্ধর্ষ সেই সাইফুল মোল্লা (৪০)। ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করছেন। বাবা নূরুল ইসলাম মোল্লাসহ তার পরিবারও অপরাধ আড়াল করতে ছেলের পক্ষে সাফাই সাক্ষী দিচ্ছেন গণমাধ্যমের কাছে। সাধারণ মানুষকে মামলার হুমকি দিচ্ছে। এতে বিভ্রান্ত হচ্ছে মানুষ, ক্ষোভে ফুঁসছে সাইফুলের হাতে নির্যাতিতরা।

সাইফুলের হাতে নির্যাতিত উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক মানুষ শরিবার (৩০ জানুয়ারি) শরণখোলা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা এবং নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন প্রশাসনের কাছে। এ সময় প্রেস ক্লাবের সামনে এলাকাবাসী সন্ত্রাসী সাইফুলে বিচার দাবি করে স্লোগান দিতে থাকে।

নির্যাতিতদের পক্ষে শরণখোলা কিশোর ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ক্রীড়া সংগঠক মো. মানুন মোল্লা লিখিত বক্তব্যে বলেন, সাইফুলের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি, অস্ত্র, ছিনতাই, মাদক, নারী নির্যানতসহ ১৭ মামলা রয়েছে। তার ভয়ে ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধরাণ মানুষ সব সময় আতঙ্কিত থাকতো। সাইফুলের কারণে মেয়েদের নিয়ে অভিভাবকরাও থাকত উৎকণ্ঠায়। তার একের পর এক অপরাধ কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে কে বার কারা রাতের অন্ধকারে তার চোখ নষ্ট করে এবং পা ভেঙে দেয়।

মামুন মোল্লা বলেন, এঘটনায় সাইফুল ও তার পরিবার জমিজমা সংক্রান্ত মিথ্যা অভিযোগে আমাকে ফাঁসানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তাছাড়া সাইফুলের একটি ছিনতাই মামলার আমি স্বাক্ষী হওয়ায় আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে তারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থি সাইফুলের হাতে নির্যাতনের শিকার আসলাম হাওলাদার বলেন, মাস দুই আগে আমার মেয়েকে কলেজ থেকে তুলে নিয়ে জোর করে কাজী অফিসে নিয়ে বিয়ে করে সাইফুল। এর তার ওপর অমানুসিক নির্যাতন চালায়। পরে সন্ত্রাসীর কাছ থেকে মেয়ে ডিভোর্স করাই। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কিছুদিন আগে আমাকে হত্যার উদ্দেশে রাতে আমার বাড়িতে যায়। আমাকে না পেয়ে ক্ষোভে আমার একটি গাভীর চার পায়ের রগ কেটে দেয়।

ইজিবাইক চালক ইব্রাহীম মোল্লা জানান, গ৩ ১৮ জানুয়ারি রাতে তার ইজি বাইকের ব্যাটারি চুরি করতে গেলে টের পেয়ে বাইরে বের হওয়ামাত্র তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে পালিয়ে যায় সাইফুল।

ফ্ল্যাক্সিলোডের ব্যবসায়ী মো. সাইফুল ইসলাম শুকুর জানান, মাসখানেক আগে রাজৈর খেয়াঘাটের দোকান বন্ধ করে রাত ১০টার দিকে বাড়ি যাওয়ার পথে সন্ত্রাসী সাইফুল ও তার এক সহযোগী তাকে অস্ত্র ঠেকিয়ে দুটি মোবাইল ফোন ও ব্যাগে থাকা নগদ ৩৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

কলেজছাত্র রমজান জানান, সাইফুল গলায় ছুরি ধরে তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। 

খোন্তাকাটা ইউনিয়নের ৭নম্বর রাজৈর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আ. রহিম হাওলাদার বলেন, সাইফুলের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে এলাকার কোনো মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারতো না। তার এই পরিণতিতে এলাকার মানুষ খুশি। 

খোন্তাকাটা ইউপির চেয়ারম্যান জাকির হোসেন খান মহিউদ্দিন বলেন, সাইফুলকে আহত অবস্থায় পাওয়ার পরে চিকিৎসার জন্য তার বাবা নুরু মোল্লাকে জানালে প্রথমে তিনি ওই অপরাধী ছেলের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানান। পরে তিনি টাকা দিয়ে সাইফুলের উন্নত চিকিৎসার জন্য নুরু মোল্লাকে অনুরোধ করে খুলনায় পাঠান। কিন্তু কারো ইন্ধনে এখন তারা নিরিহ মানুষকে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র করছে। 

শরণখোলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রায়হান উদ্দিন শান্ত বলেন, সাইফুল এলাকায় একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী, ডাকাত ও ছিনতাইকারী হিসেবে পরিচিত। তার কারণে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ। তার বাবা নূরু মোল্লা বিভিন্ন সময় ছেলের বিরুদ্ধে আমার কাছে নালিশ দিতো। কিন্তু তারা এখন যে কথা বলছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। সাংবাদিকদের উচিত যাচাই-বাছাই করে সংবাদ পরিবেশন করা।

শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুর রহমান বলেন, সাইফুলের নামে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদকসহ ১৭টি মামলা রয়েছে। তবে কারা তার পা ভেঙে চোখ নষ্ট করে দিয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তার পরিবার থানায় মামলা নেয়নি বলে মিডিয়ার কাছে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এ ব্যপারে অভিযোগ দিলেই মামলা নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও শরণখোলা থানার ওসি সাইফুলের চিকিৎসায় তার বাবা ও অত্মীয়স্বজন কেউ আসছেনা বলে জানালে আমি মানবিক বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে তাদের পরামর্শ দেই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা