kalerkantho

সোমবার । ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭। ১ মার্চ ২০২১। ১৬ রজব ১৪৪২

যন্ত্রে যন্ত্রণা!

ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

৩০ জানুয়ারি, ২০২১ ২০:৩৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যন্ত্রে যন্ত্রণা!

ইভিএমে ভোট দিতে এসে ব্যর্থ ভুক্তভোগীদের একজন। ছবি : কালের কণ্ঠ

সকাল ঠিক ৯টা। ভালুকজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভ্যানগাড়িতে করে ভোট দিতে আসেন শারীরিক প্রতিবন্ধী চান মিয়া। বয়স ৫৩। তাঁর ডান পা নেই। ক্র্যাচে ভর দিয়ে ভোটকক্ষে প্রবেশ করেন। একাধিকবার চেষ্টা করেও ইভিএম আঙুলের ছাপ নেয়নি। প্রায় একঘণ্টা অপেক্ষা করেও ভোট দিতে না পেরে বাড়ি চলে যান।

ভালুকজান মডার্ন একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে নাতিকে নিয়ে ভোট দিতে আসেন বৃদ্ধা রাজিয়া সুলতানা (৬৯)। তাঁরও আঙুলের ছাপ মেলেনি। হেক্সিসল ও ভেসলিন দিয়ে তাঁর আঙুল পরিস্কার করা হয়, এরপরও ভোট দিতে পারেননি। দুটি ভোট কেন্দ্রে আঙুলের ছাপ সমস্যার কারণে দুই ঘণ্টায় অন্তত ১০ জন ভোটারকে দেখা যায় তাঁরা তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। তাঁদের আক্ষেপ ভোট দিতে যন্ত্র 'যন্ত্রণা' হয়ে দাঁড়িয়েছে, যে কারণে ভোট দিতে পারেননি।

শনিবার ফুলবাড়িয়া পৌরসভা ৬ নম্বর ওয়ার্ডে দুজন কাউন্সিলরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ইভিএমে ভোট হওয়ায় আঙুলের ছাপ না মেলায় অনেকে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভালুকজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পুরুষ ভোট কেন্দ্রের ৫ নম্বর ভোটকক্ষে ভোট দিতে আসেন চান মিয়া, ৬ নম্বর কক্ষে গোলাম মোস্তফা। তাঁদের দুজনের আঙুলের ছাপ ইভিএম মেশিনে নেয়নি। ভালুকজান মডার্ন একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয় মহিলা ভোটকেন্দ্রে ৪ ও ৫ নম্বর কক্ষে ভোট দিতে আসেন রাজিয়া সুলতানা, আমেনা খাতুন ও  আছমা খাতুন। ইভিএমে আঙুলের ছাপ না নেওয়ায় দু-আড়াই ঘণ্টা ভোটকেন্দ্রে অপেক্ষা করে তাঁরা কেউ ভোট দিতে পারেননি।

প্রতিবন্ধী চান মিয়া বলেন, গত এক সপ্তাহ আগে প্রতিবন্ধী ভাতা উত্তোলনের জন্য নিজের নামে মোবাইলের সিম কার্ড কিনেছি, ভোট দিতে এসেছি মেশিনে আঙুলের ছাপ নিচ্ছে না। কতকিছু দিয়ে আঙুল পরিস্কার করেছি,এরপরও এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ভোট দিতে পারলাম না। বৃদ্ধা রাজিয়া সুলতানা জানান, এ বয়সে নাতিকে নিয়ে ভোট দিতে এসেছিলাম, কিন্তু যন্ত্রে (ইভিএম) ভোট দিতে পারলাম না। শেষ বয়সে মনে আক্ষেপ রয়ে গেল।

ভালুকজান মডার্ন একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কয়েকজনের আঙুলের ছাপ ইভিএমে নেয়নি, যারা আমার কাছে এনআইডি কার্ড নিয়ে আসছে তাদের ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কমকর্তা মোহা. মোস্তফা কামাল বলেন, বয়স বা অন্য কারণেও আঙুলের ছাপ অনেক সময় ইভিএম মেশিন নেয় না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা