kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১২ রজব ১৪৪২

লেবু বিক্রি করে বছরে আয় চার লাখ টাকা

পতিত জমিতেই জাদুর কাঠি মনীষার

জলঢাকা (নীলফামারী) প্রতিনিধি   

২৮ জানুয়ারি, ২০২১ ০৯:১০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পতিত জমিতেই জাদুর কাঠি মনীষার

নিজের লেবু বাগানে মনীষা বেগম। ছবি : কালের কণ্ঠ

বিয়ের পর শ্বশুরের দেওয়া সাড়ে পাঁচ বিঘা জমিতে থাই লেবুবাগান করে এলাকায় সারা ফেলেছেন মনীষা বেগম। দিন দিন তাঁর সফলতার পরিচিতি বিস্তৃতি পাচ্ছে। প্রায় দিন বিভিন্ন এলাকার মানুষ সরেজমিন দেখতে আসছেন সন্তানসম মমতায় গড়ে তোলা মনীষার থাই লেবুবাগান।

মনীষা বেগমের স্বামী শাহাবুদ্দিন হোসেন সবুজ। বাড়ি নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বালাগ্রাম ইউনিয়নের আরাজী দেশিবাই গ্রামে। প্রায় পাঁচ বছর আগে মনীষার বিয়ে হয়। তাঁদের ঘরে তিন বছরের একটি ছেলেসন্তান আছে।

মনীষা জানান, তিনি ২০১৪ সালে এইচএসসি পাস করেছেন। নারীরাও পারেন উন্নয়ন করতে, সুযোগ দিলে তাঁরাও পারেন অর্থনীতির চাকা ঘোরাতে। তিনি বলেন, ‘বিয়ের পর আমাকে সাড়ে পাঁচ বিঘা জমি দেন আমার শ্বশুর মোজাম্মেল হক। এসব জমি শুকনো মৌসুমে পতিত থাকত। একসময় ভাবতে থাকি, এই জমিতে কিভাবে লাভবান কিছু উৎপাদন করা যায়। একদিন আমরা (স্বামী-স্ত্রী) সিদ্ধান্ত নিই লেবুবাগান করব। এ নিয়ে স্থানীয় কৃষি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা আমাদের উৎসাহী করেন। পরে বাগানটি তৈরি করতে আমাদের ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়। গত মৌসুমে তিন লাখ ৮০ হাজার টাকার লেবু বিক্রি করেছি।’ মনীষা জানান, বাগানের গাছে ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে ফুল আসে। এ সময় আগাছা পরিষ্কার করতে হয়। সার হিসেবে শুকনা গোবর, খড়ের গুঁড়া ও স্প্রে করতে হয়। যাতে ফুল না ঝরে যায়। শুকনা মৌসুমে ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত সেচ দিতে হয়। ফল তোলার ভরা মৌসুম মে, জুন ও জুলাই মাস।

লেবুবাগানে পরিচর্যার কাজে নিয়োজিত রূপিয়া বেগম ও মোসলেমা বলেন, ‘আমরা বাগানে দৈনিক তিনজন শ্রমিক কাজ করি। ফল তোলার মৌসুমে আরো পাঁচজন শ্রমিক নিয়ে প্রতিদিন কাজ করতে হয়। সে সময় বিভিন্ন এলাকার লোকজন বাগানটি দেখতে আসেন। তাঁরা ফেরার সময় অনেকে লেবু কিনে নিয়ে যান।’

উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নার্গিস বেগম বলেন, ‘আমি মনীষা বেগমের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখি। একজন নারীর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগে আমার স্যারেরাও খোঁজখবর রাখেন।’

উপজেলার মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা পূরবী রায় বলেন, ‘সরকার নারী উন্নয়নের জন্য অবিরত কাজ করছে। থাই লেবুবাগান করে মনীষা নামে এক গৃহবধূ এলাকায় চমক সৃষ্টি করেছেন। তাঁকে দেখে নারীরা এমন ফল বা সবজিবাগান করলে আরো অর্থনীতিতে নারীর অবদান বাড়বে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহ্ মোহাম্মদ মাহফুজুল হক বলেন, ‘এই বাগানের বিশেষত্ব সারা বছরই ফল পাওয়া যায়। এই এলাকার মাটি অম্লীয় হওয়ায় লেবু চাষের উপযোগী। তাঁর লেবুবাগান দেখে অনেকেই বাগান করতে আগ্রহী হচ্ছেন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা