kalerkantho

শনিবার । ২১ ফাল্গুন ১৪২৭। ৬ মার্চ ২০২১। ২১ রজব ১৪৪২

দগ্ধ মেয়েটি ধুঁকছিল বিনা চিকিৎসায়, হাসপাতালে পাঠালেন শুভ সংঘ’র বন্ধুরা

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর   

২৮ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:২৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দগ্ধ মেয়েটি ধুঁকছিল বিনা চিকিৎসায়, হাসপাতালে পাঠালেন শুভ সংঘ’র বন্ধুরা

গত এক বছর আগে টিফিনের টাকায় সহপাঠীর মায়ের চিকিৎসা করিয়েছিল গাজীপুরের শ্রীপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওই উদ্যোগে টানা চিকিৎসায় সহপাঠীর মা সুস্থ হয়ে উঠেন। এবার তাদের সেই সহপাঠীই আগুনে দগ্ধ হয়ে বিনা চিকিৎসায় ধুঁকছিল। আর তা জেনে মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে মেয়েটির বাড়িতে ছুটে যান কালের কণ্ঠ’র পাঠক সংগঠন শুভ সংঘ’র সদস্যরা। রাতেই মেয়েটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে বুধবার দুপুরে অ্যাম্বুলেন্সে মেয়েটিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। ওই সময় শুভ সংঘ’র বন্ধুরা চিকিৎসার জন্য দগ্ধ মেয়েটির মায়ের হাতে তুলে দেন নগদ সাত হাজার টাকা।

আগুনে দগ্ধ ওই মেয়েটির নাম মাকসুদা (১৪)। মাকসুদা শ্রীপুর পৌর এলাকার লোহাগাছ গ্রামের (ফালু মার্কেট) মৃত ইদ্রিস আলীর মেয়ে।

মাকসুদার মা ইয়াসমিন আক্তার জানান, প্রায় ১২ বছর আগে তাঁর স্বামী মারা যান। তাঁর দুই মেয়ে। তাদের মধ্যে মাকসুদা ছোট। দুই মেয়েই নবম শ্রেণির ছাত্রী। দেড় বছর আগে দক্ষিণ ভাংনাহাটি এলাকার ইউনিলায়েন্স কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। তখন অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁর চাকরি চলে গিয়েছিল। এরপর সুস্থ হলেও তিনি আর চাকরি ফিরে পাননি। অভাবে তিন বেলা খাবারই জুটে না তাঁদের।

ইয়াসমিন আক্তার জানান, গত প্রায় দুই সপ্তাহ আগে মাটির চুলায় রান্নার সময় আগুনে দগ্ধ হয় তাঁর ছোট মেয়ে। তাৎক্ষণিক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় তাকে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর মাকসুদাকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

কান্নায় ভেঙে পড়ে ইয়াসমিন আক্তার জানান, তাঁর হাতে তখন একটি টাকাও ছিল না। নিরুপায় হয়ে দগ্ধ মাকসুদাকে নিয়ে বাড়ি ফিরে যান। এরই মধ্যে মাকসুদার অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। 

শ্রীপুর উপজেলা শুভ সংঘ’র সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম জানান, দগ্ধ মেয়েটি বিনা চিকিৎসায় ধুঁকছিল। তা জেনে তিনিসহ শুভ সংঘ’র বন্ধু শফিকুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, সজিব খান, শারফুল ইসলাম শিমুলসহ কয়েকজন গত মঙ্গলবার রাতে মাকসুদার বাড়িতে যান। রাতেই মেয়েটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান তাঁরা। সেখান থেকে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।

প্রসঙ্গত, এর আগে মাকসুদার মা ইয়াসমিন আক্তার যকৃতের অসুখে পড়েন। টাকার অভাবে চিকিৎসা হচ্ছিল না তাঁর। বিষয়টি জেনে মাকসুদার সহপাঠীরা টিফিনের টাকায় ইয়াসমিন আক্তারের চিকিৎসা করিয়েছিলেন। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওই মানবিক উদ্যোগ নিয়ে গত বছরের ৩১ জানুয়ারি কালের কণ্ঠে ‘টিফিনের টাকায় সহপাঠীর মায়ের চিকিৎসা’ শিরোনামে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা